রাজধানীর নিউ মার্কেট
এলাকায় চাঞ্চল্যকর টিটন হত্যার রহস্য উন্মোচনে বড় ধরনের অগ্রগতির দাবি করেছে ঢাকা মহানগর
গোয়েন্দা পুলিশ। দীর্ঘ ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব
না হলেও ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খুনিরা এখন পুলিশের মোটামুটি
একটি ছকের ভেতরে চলে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের অবস্থান নিয়ে সুনির্দিষ্ট
তথ্য দিতে না পারলেও পুলিশ অপরাধীদের খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। গতকাল
মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে
ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে
টিটন হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
আমরা এটা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চেষ্টা করছি। গত ২৮ এপ্রিল রাতে নিউ মার্কেটের পাশে
মাস্ক পরা দুই মোটরসাইকেল আরোহী টিটনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ
টিটন ছিলেন বিগত ২০০১ সালে ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল
ইসলাম ইমনের ভগ্নিপতি এবং এক সময় মোহাম্মদপুরের কুখ্যাত হারিছ-জোসেফ গ্রুপের সঙ্গে
যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে
ডিবি প্রধান জানান, খুনিরা মোটরসাইকেলে করে রায়েরবাজার পর্যন্ত গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া
গেছে। এর পরের পথটুকু শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
শফিকুল ইসলাম আরও
বলেন, রায়ের বাজার পর্যন্ত কে গিয়েছিল তা যেহেতু আমরা জানতে পেরেছি, সেহেতু ধরে নিন
যে খুনিদের আমরা মোটামুটি একটা ছকের ভেতর নিয়ে আসছি। তদন্তে কোনো শিথিলতা নেই জানিয়ে
তিনি বলেন, আমরা কোনো বিষয়ে ছাড় দিচ্ছি না। শুধু একটি নির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে আমরা
পড়ে নেই। মিডিয়াতে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আসা বিভিন্ন তথ্যও আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। পুরোপুরি
রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি সূত্র ধরে আমাদের কাজ চলবে।
যাত্রাবাড়ীতে
আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
এদিকে রাজধানীর
যাত্রাবাড়ী এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ আন্তঃজেলা
ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। সোমবারের এই অভিযানে গ্রেপ্তাররা হলেন-
লিটন জব্বার, ইসমাইল হোসেন মামুন, বাবুল বাবু, আইয়ুব ভূইয়া ও রোমান। তাদের কাছ থেকে
দুটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি এবং চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান জানান,
এই চক্রটি মূলত ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিকাশ ও নগদের বড় অঙ্কের টাকা ছিনতাই এবং স্বর্ণের
দোকানে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি
ব্যবসায়ী ও নগদ এজেন্টদের বড় অঙ্কের টাকা পরিবহনের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার
আহ্বান জানান।
পুলিশের চলমান বিশেষ
অভিযান নিয়ে শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ৫৬৮ জনকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত ১৫৪ জন চাঁদাবাজ ও তাদের ১৩২ জন সহযোগী
রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
গডফাদারদের বিষয়ে
প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গ্রেপ্তাররা জিজ্ঞাসবাদে যাদের নাম বলছে, আমরা সেগুলো তথ্য-প্রমাণ
হিসেবে রাখছি। ঢাকার পাশাপাশি পুরো দেশকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ করতে পুলিশ জিরো টলারেন্স
নীতিতে কাজ করছে। অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আগামীতে এই অভিযান আরও জোরদার করা
হবে।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
রাজধানীর নিউ মার্কেট
এলাকায় চাঞ্চল্যকর টিটন হত্যার রহস্য উন্মোচনে বড় ধরনের অগ্রগতির দাবি করেছে ঢাকা মহানগর
গোয়েন্দা পুলিশ। দীর্ঘ ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব
না হলেও ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খুনিরা এখন পুলিশের মোটামুটি
একটি ছকের ভেতরে চলে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের অবস্থান নিয়ে সুনির্দিষ্ট
তথ্য দিতে না পারলেও পুলিশ অপরাধীদের খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। গতকাল
মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে
ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে
টিটন হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
আমরা এটা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চেষ্টা করছি। গত ২৮ এপ্রিল রাতে নিউ মার্কেটের পাশে
মাস্ক পরা দুই মোটরসাইকেল আরোহী টিটনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ
টিটন ছিলেন বিগত ২০০১ সালে ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল
ইসলাম ইমনের ভগ্নিপতি এবং এক সময় মোহাম্মদপুরের কুখ্যাত হারিছ-জোসেফ গ্রুপের সঙ্গে
যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে
ডিবি প্রধান জানান, খুনিরা মোটরসাইকেলে করে রায়েরবাজার পর্যন্ত গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া
গেছে। এর পরের পথটুকু শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
শফিকুল ইসলাম আরও
বলেন, রায়ের বাজার পর্যন্ত কে গিয়েছিল তা যেহেতু আমরা জানতে পেরেছি, সেহেতু ধরে নিন
যে খুনিদের আমরা মোটামুটি একটা ছকের ভেতর নিয়ে আসছি। তদন্তে কোনো শিথিলতা নেই জানিয়ে
তিনি বলেন, আমরা কোনো বিষয়ে ছাড় দিচ্ছি না। শুধু একটি নির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে আমরা
পড়ে নেই। মিডিয়াতে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আসা বিভিন্ন তথ্যও আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। পুরোপুরি
রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি সূত্র ধরে আমাদের কাজ চলবে।
যাত্রাবাড়ীতে
আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
এদিকে রাজধানীর
যাত্রাবাড়ী এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ আন্তঃজেলা
ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। সোমবারের এই অভিযানে গ্রেপ্তাররা হলেন-
লিটন জব্বার, ইসমাইল হোসেন মামুন, বাবুল বাবু, আইয়ুব ভূইয়া ও রোমান। তাদের কাছ থেকে
দুটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি এবং চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান জানান,
এই চক্রটি মূলত ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিকাশ ও নগদের বড় অঙ্কের টাকা ছিনতাই এবং স্বর্ণের
দোকানে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি
ব্যবসায়ী ও নগদ এজেন্টদের বড় অঙ্কের টাকা পরিবহনের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার
আহ্বান জানান।
পুলিশের চলমান বিশেষ
অভিযান নিয়ে শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ৫৬৮ জনকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত ১৫৪ জন চাঁদাবাজ ও তাদের ১৩২ জন সহযোগী
রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
গডফাদারদের বিষয়ে
প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গ্রেপ্তাররা জিজ্ঞাসবাদে যাদের নাম বলছে, আমরা সেগুলো তথ্য-প্রমাণ
হিসেবে রাখছি। ঢাকার পাশাপাশি পুরো দেশকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ করতে পুলিশ জিরো টলারেন্স
নীতিতে কাজ করছে। অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আগামীতে এই অভিযান আরও জোরদার করা
হবে।

আপনার মতামত লিখুন