সংবাদ

চা-বাগানের শতবর্ষী সেতু এখন মরণফাঁদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ


 প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০১:৪১ পিএম

চা-বাগানের শতবর্ষী সেতু এখন মরণফাঁদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ
শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত গেলানিয়া সেতু। ছবি : সংবাদ

সিলেট বিভাগের চা-শিল্পাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ চান্দপুর-দেউন্দি সড়কের ‘গেলানিয়া সেতু’ এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই পুরোনো সেতুটি টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

ইতোমধ্যে সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচল করছেন লালচাঁন ও দেউন্দিসহ আশপাশের কয়েকটি চা-বাগানের হাজারো শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দশকের পুরনো এই সেতুর পিলার ও সংযোগস্থল সংস্কারের অভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বর্ষা এলেই পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কাঁপতে থাকে পুরো কাঠামো। সড়কের পাশের মাটি ধসে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি এখন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

চা-শ্রমিকেরা জানান, প্রতিদিন ভোরে এই নড়বড়ে সেতুর ওপর দিয়েই তাদের কাজে যেতে হয়। ভারী যানবাহন চলাচল করলে সেতুটি দুলতে থাকে। বিকল্প পথ না থাকায় একপ্রকার বাধ্য হয়েই তারা এই মরণফাঁদ পাড়ি দিচ্ছেন। সেতুটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে উপজেলার সঙ্গে কয়েকটি চা-বাগানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকদের কাছেও এ এলাকাটি বেশ জনপ্রিয়। ফলে সেতুটি ধসে পড়লে শুধু চা-শিল্প নয়, স্থানীয় পর্যটন খাতের ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয়দের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই জরুরি ভিত্তিতে গেলানিয়া সেতু ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


চা-বাগানের শতবর্ষী সেতু এখন মরণফাঁদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

সিলেট বিভাগের চা-শিল্পাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ চান্দপুর-দেউন্দি সড়কের ‘গেলানিয়া সেতু’ এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই পুরোনো সেতুটি টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

ইতোমধ্যে সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচল করছেন লালচাঁন ও দেউন্দিসহ আশপাশের কয়েকটি চা-বাগানের হাজারো শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দশকের পুরনো এই সেতুর পিলার ও সংযোগস্থল সংস্কারের অভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বর্ষা এলেই পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কাঁপতে থাকে পুরো কাঠামো। সড়কের পাশের মাটি ধসে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি এখন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

চা-শ্রমিকেরা জানান, প্রতিদিন ভোরে এই নড়বড়ে সেতুর ওপর দিয়েই তাদের কাজে যেতে হয়। ভারী যানবাহন চলাচল করলে সেতুটি দুলতে থাকে। বিকল্প পথ না থাকায় একপ্রকার বাধ্য হয়েই তারা এই মরণফাঁদ পাড়ি দিচ্ছেন। সেতুটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে উপজেলার সঙ্গে কয়েকটি চা-বাগানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকদের কাছেও এ এলাকাটি বেশ জনপ্রিয়। ফলে সেতুটি ধসে পড়লে শুধু চা-শিল্প নয়, স্থানীয় পর্যটন খাতের ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয়দের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই জরুরি ভিত্তিতে গেলানিয়া সেতু ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত