সংবাদ

সভামঞ্চে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ক্ষমা চাইতে হলো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে


জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

সভামঞ্চে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ক্ষমা চাইতে হলো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধার মিজানুর রহমান।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বাজেট সভায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হেনস্তা ও প্রকাশ্যে মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মিজানুর রহমান। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আলাউদ্দিন, যিনি নিজেকে স্থানীয় যুবদল কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে দলীয় সূত্র তার পদবি নিশ্চিত করতে পারেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে হাজিনগর ইউপির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। এর পরপরই উপস্থিত কয়েকজন এর প্রতিবাদ জানান। মিজানুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে ‘ভুলবশত’ স্লোগানটি দিয়েছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, হাজিনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তার সহযোগীরা প্রবীণ ওই মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করেন এবং সবার সামনে মাইকে পুনরায় ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বলেন, ‘রক্ত দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছি। মুখ ফসকে স্লোগানটি দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক দুঃখ প্রকাশ করার পরও আমাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করা হলো এবং মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হলো। এটি অত্যন্ত অপমানজনক।’

হাজিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন, ‘আলাউদ্দিনের কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। সে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে বিএনপির নাম ব্যবহার করছে। অতীতে তার বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদল কর্মী দাবি করে বলেন, ‘মিজানুর রহমান স্লোগান দেওয়ার পর আমিসহ কয়েকজন প্রতিবাদ করেছি। সবাই উত্তেজিত হয়ে পড়লে তিনি নিজেই মাইকে ক্ষমা চেয়েছেন। এখানে শুধু আমাকে দায়ী করা ঠিক নয়।’

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হেনস্তা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


সভামঞ্চে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ক্ষমা চাইতে হলো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বাজেট সভায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হেনস্তা ও প্রকাশ্যে মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মিজানুর রহমান। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আলাউদ্দিন, যিনি নিজেকে স্থানীয় যুবদল কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে দলীয় সূত্র তার পদবি নিশ্চিত করতে পারেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে হাজিনগর ইউপির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। এর পরপরই উপস্থিত কয়েকজন এর প্রতিবাদ জানান। মিজানুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে ‘ভুলবশত’ স্লোগানটি দিয়েছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, হাজিনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তার সহযোগীরা প্রবীণ ওই মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করেন এবং সবার সামনে মাইকে পুনরায় ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বলেন, ‘রক্ত দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছি। মুখ ফসকে স্লোগানটি দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক দুঃখ প্রকাশ করার পরও আমাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করা হলো এবং মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হলো। এটি অত্যন্ত অপমানজনক।’

হাজিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন, ‘আলাউদ্দিনের কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। সে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে বিএনপির নাম ব্যবহার করছে। অতীতে তার বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদল কর্মী দাবি করে বলেন, ‘মিজানুর রহমান স্লোগান দেওয়ার পর আমিসহ কয়েকজন প্রতিবাদ করেছি। সবাই উত্তেজিত হয়ে পড়লে তিনি নিজেই মাইকে ক্ষমা চেয়েছেন। এখানে শুধু আমাকে দায়ী করা ঠিক নয়।’

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হেনস্তা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত