সংবাদ

ইউএনও সংকটে স্থবির প্রশাসনিক কার্যক্রম


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

ইউএনও সংকটে স্থবির প্রশাসনিক কার্যক্রম
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, পরশুরাম, ফেনী। ছবি : সংবাদ

ফেনীর সীমান্তবর্তী পরশুরাম উপজেলায় গত দুই বছরে অন্তত ৫ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদায়ন করা হলেও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি। একের পর এক পদায়ন ও বদলির আদেশ এলেও কেন কর্মকর্তারা এই উপজেলায় আসতে চাইছেন না, তা নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ গত ৩ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ইউএনও হাসনাত জাহান খানকে পরশুরামে পদায়ন করা হয়। তবে প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, তিনি এখনও যোগদান করেননি।

উপজেলাবাসী বলছেন, স্থায়ী ইউএনও না থাকায় প্রশাসনিক কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ইউএনওর দায়িত্ব পালন করছেন। একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদের কাজ সামলাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ইউএনও সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়াকে এখানে পদায়ন করা হলেও তিনি আসেননি। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ইউএনও মো. মোশারফ হোসেনকে এখানে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে যোগদানের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় তাকে ঢাকার বিএসটিআইতে বদলি করা হয়।

একই বছরের ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের সহকারী পরিচালক রেজওয়ানা চৌধুরীকে পদায়ন করা হলেও একই রাতে সেই আদেশ বাতিল হয়। পরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার কাজী তাহমিনা শারমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে তার বদলি বাতিল হয়ে যায়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর ২৩ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন আফরোজা হাবিব শাপলা। এরপর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ইউএনও আরিফুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ফুলগাজীর ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম এবং এসিল্যান্ড এস এম শাফায়াত আখতার নূর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে সাদিয়া সুলতানা ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেও ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তাকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে বদলি করা হয়। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।

একের পর এক ইউএনওর যোগদান না করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে একে প্রশাসনের দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন।

পরশুরাম সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মজুমদার মিলন বলেন, “বারবার পদায়ন করা হচ্ছে কিন্তু কর্মকর্তারা কেন আসছেন না, সেটি বড় প্রশ্ন।” ফুলগাজী বেগম

খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের প্রভাষক জাকির হোসাইন মনে করেন, সরকারি আদেশযথাযথভাবে প্রতিপালিত না হওয়া প্রশাসনের দুর্বলতার লক্ষণ। সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


ইউএনও সংকটে স্থবির প্রশাসনিক কার্যক্রম

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

ফেনীর সীমান্তবর্তী পরশুরাম উপজেলায় গত দুই বছরে অন্তত ৫ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদায়ন করা হলেও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি। একের পর এক পদায়ন ও বদলির আদেশ এলেও কেন কর্মকর্তারা এই উপজেলায় আসতে চাইছেন না, তা নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ গত ৩ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ইউএনও হাসনাত জাহান খানকে পরশুরামে পদায়ন করা হয়। তবে প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, তিনি এখনও যোগদান করেননি।

উপজেলাবাসী বলছেন, স্থায়ী ইউএনও না থাকায় প্রশাসনিক কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ইউএনওর দায়িত্ব পালন করছেন। একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদের কাজ সামলাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ইউএনও সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়াকে এখানে পদায়ন করা হলেও তিনি আসেননি। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ইউএনও মো. মোশারফ হোসেনকে এখানে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে যোগদানের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় তাকে ঢাকার বিএসটিআইতে বদলি করা হয়।

একই বছরের ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের সহকারী পরিচালক রেজওয়ানা চৌধুরীকে পদায়ন করা হলেও একই রাতে সেই আদেশ বাতিল হয়। পরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার কাজী তাহমিনা শারমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে তার বদলি বাতিল হয়ে যায়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর ২৩ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন আফরোজা হাবিব শাপলা। এরপর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ইউএনও আরিফুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ফুলগাজীর ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম এবং এসিল্যান্ড এস এম শাফায়াত আখতার নূর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে সাদিয়া সুলতানা ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেও ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তাকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে বদলি করা হয়। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।

একের পর এক ইউএনওর যোগদান না করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে একে প্রশাসনের দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন।

পরশুরাম সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মজুমদার মিলন বলেন, “বারবার পদায়ন করা হচ্ছে কিন্তু কর্মকর্তারা কেন আসছেন না, সেটি বড় প্রশ্ন।” ফুলগাজী বেগম

খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের প্রভাষক জাকির হোসাইন মনে করেন, সরকারি আদেশযথাযথভাবে প্রতিপালিত না হওয়া প্রশাসনের দুর্বলতার লক্ষণ। সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চান।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত