সংবাদ

স্বপ্ন ভেঙে দিশেহারা পঞ্চগড়ের কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ


প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

স্বপ্ন ভেঙে দিশেহারা পঞ্চগড়ের কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ
লতা-পাতায় মাঠ সবুজ হলেও ধরেনি কাঙ্ক্ষিত মিষ্টি কুমড়া। ছবি : সংবাদ

বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। দিন-রাত পরিশ্রম আর ধার-দেনা করে গড়ে তুলেছিলেন বিশাল এক স্বপ্নের কৃষি প্রকল্প। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ১৮০ বিঘা (৬০ একর) জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সফল কৃষি উদ্যোক্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। বিশাল ক্ষেতে লতা-পাতার সমারোহ থাকলেও ধরেনি একটিও কুমড়া। এতে ওই কৃষকের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুঁজি হারিয়ে ঋণগ্রস্ত এই উদ্যোক্তা এখন দিশেহারা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বোদা উপজেলার লাঙ্গলগ্রামের বাসিন্দা। জানা যায়, চলতি মৌসুমে তিনি ৬০ একর জমি লিজ নিয়ে আলু ও কুমড়া চাষের মহাপরিকল্পনা করেন। গত ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেলের মাধ্যমে ‘আলমগীর সীড কোম্পানি’র কাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ার বীজ কেনেন সাজ্জাদ।

জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, "বীজ কেনার সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ টন ফলনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তাদের নির্দেশনা মেনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত ও নিবিড় পরিচর্যা করি। বীজ রোপণের পর গাছগুলো সতেজ হয়ে পুরো মাঠ সবুজ পাতায় ভরে গেলেও ৮০-৯০ দিন পার হওয়ার পর একটি কুমড়াও আসেনি।" ভবিষ্যতে ফল আসারও কোনো সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় বিব্রত স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল। তিনি বলেন, "কোম্পানি আমাকে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে ফলন ভালো হবে। সেই ভরসাতেই আমি সাজ্জাদ ভাইকে বীজগুলো দিয়েছিলাম। এখন তার এই বড় ক্ষতিতে আমি লজ্জিত।"

জমির মালিক সর্দারপাড়া গ্রামের কাব্য ভূষণ বর্মণ জানান, পাশের জমিতে অন্যরা মিষ্টি কুমড়া চাষ করে সফল হলেও সাজ্জাদের ক্ষেতে কোনো ফল আসেনি। আলু চাষেও তিনি লোকসান করেছিলেন, আশা ছিল কুমড়া বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন। এখন জমি ভাড়া পাওয়া নিয়েও জমির মালিকরা চিন্তিত।

এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকার অন্য কৃষকদের মাঝেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জেলা বীজ ও প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শামীম জানান, "অভিযোগের পর সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই কৃষক আসলেই বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


স্বপ্ন ভেঙে দিশেহারা পঞ্চগড়ের কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। দিন-রাত পরিশ্রম আর ধার-দেনা করে গড়ে তুলেছিলেন বিশাল এক স্বপ্নের কৃষি প্রকল্প। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ১৮০ বিঘা (৬০ একর) জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সফল কৃষি উদ্যোক্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। বিশাল ক্ষেতে লতা-পাতার সমারোহ থাকলেও ধরেনি একটিও কুমড়া। এতে ওই কৃষকের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুঁজি হারিয়ে ঋণগ্রস্ত এই উদ্যোক্তা এখন দিশেহারা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বোদা উপজেলার লাঙ্গলগ্রামের বাসিন্দা। জানা যায়, চলতি মৌসুমে তিনি ৬০ একর জমি লিজ নিয়ে আলু ও কুমড়া চাষের মহাপরিকল্পনা করেন। গত ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেলের মাধ্যমে ‘আলমগীর সীড কোম্পানি’র কাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ার বীজ কেনেন সাজ্জাদ।

জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, "বীজ কেনার সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ টন ফলনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তাদের নির্দেশনা মেনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত ও নিবিড় পরিচর্যা করি। বীজ রোপণের পর গাছগুলো সতেজ হয়ে পুরো মাঠ সবুজ পাতায় ভরে গেলেও ৮০-৯০ দিন পার হওয়ার পর একটি কুমড়াও আসেনি।" ভবিষ্যতে ফল আসারও কোনো সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় বিব্রত স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল। তিনি বলেন, "কোম্পানি আমাকে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে ফলন ভালো হবে। সেই ভরসাতেই আমি সাজ্জাদ ভাইকে বীজগুলো দিয়েছিলাম। এখন তার এই বড় ক্ষতিতে আমি লজ্জিত।"

জমির মালিক সর্দারপাড়া গ্রামের কাব্য ভূষণ বর্মণ জানান, পাশের জমিতে অন্যরা মিষ্টি কুমড়া চাষ করে সফল হলেও সাজ্জাদের ক্ষেতে কোনো ফল আসেনি। আলু চাষেও তিনি লোকসান করেছিলেন, আশা ছিল কুমড়া বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন। এখন জমি ভাড়া পাওয়া নিয়েও জমির মালিকরা চিন্তিত।

এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকার অন্য কৃষকদের মাঝেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জেলা বীজ ও প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শামীম জানান, "অভিযোগের পর সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই কৃষক আসলেই বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত