ইউরোপ সফরে একদিকে সম্মান, অন্যদিকে বিতর্ক—দুই ভিন্ন কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। সফরের শুরুতেই তিনি পৌঁছন Sweden-এ, যেখানে Gothenburg বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী Ulf Kristersson। প্রবাসী ভারতীয়দের উচ্ছ্বাসে সফরের সূচনা হয় উৎসবমুখর পরিবেশে—বাঙালি ঐতিহ্যে বরণ, উলুধ্বনি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফুটে ওঠে ভারতের সফট পাওয়ার। এই সফরেই মোদীকে সুইডেনের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান ‘Royal Order of the Polar Star Commander Grand Cross’-এ ভূষিত করা হয়, যা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে। দুই দেশের বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে পারে।
তবে সফরের পরবর্তী পর্যায়ে Netherlands-এ দেখা দেয় কূটনৈতিক টানাপোড়েন। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী Rob Jetten ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) Sibi George স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের সমালোচনা ভারতের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব থেকেই উঠে আসে। তিনি ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশটি একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে বহু ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির সহাবস্থান রয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা বৃদ্ধিই তার প্রমাণ।
ডাচ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে রোব জেটেনের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তিনি স্বীকার করেন, ভারত ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই গণতন্ত্র, সুশাসন এবং নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়। সব মিলিয়ে, এই ইউরোপ সফরে একদিকে যেমন সুইডেনে সম্মান পেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে, তেমনই নেদারল্যান্ডসে মতপার্থক্যের মাধ্যমে কূটনীতির বাস্তব চিত্রও সামনে এসেছে—যেখানে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই ভবিষ্যতের সম্পর্ক নির্ধারণ করবে।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
ইউরোপ সফরে একদিকে সম্মান, অন্যদিকে বিতর্ক—দুই ভিন্ন কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। সফরের শুরুতেই তিনি পৌঁছন Sweden-এ, যেখানে Gothenburg বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী Ulf Kristersson। প্রবাসী ভারতীয়দের উচ্ছ্বাসে সফরের সূচনা হয় উৎসবমুখর পরিবেশে—বাঙালি ঐতিহ্যে বরণ, উলুধ্বনি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফুটে ওঠে ভারতের সফট পাওয়ার। এই সফরেই মোদীকে সুইডেনের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান ‘Royal Order of the Polar Star Commander Grand Cross’-এ ভূষিত করা হয়, যা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে। দুই দেশের বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে পারে।
তবে সফরের পরবর্তী পর্যায়ে Netherlands-এ দেখা দেয় কূটনৈতিক টানাপোড়েন। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী Rob Jetten ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) Sibi George স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের সমালোচনা ভারতের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব থেকেই উঠে আসে। তিনি ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশটি একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে বহু ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির সহাবস্থান রয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা বৃদ্ধিই তার প্রমাণ।
ডাচ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে রোব জেটেনের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তিনি স্বীকার করেন, ভারত ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই গণতন্ত্র, সুশাসন এবং নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়। সব মিলিয়ে, এই ইউরোপ সফরে একদিকে যেমন সুইডেনে সম্মান পেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে, তেমনই নেদারল্যান্ডসে মতপার্থক্যের মাধ্যমে কূটনীতির বাস্তব চিত্রও সামনে এসেছে—যেখানে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই ভবিষ্যতের সম্পর্ক নির্ধারণ করবে।

আপনার মতামত লিখুন