“সংবাদ”-শুধু একটি পত্রিকার নাম নয়, এটি এক আবেগ, এক ইতিহাস এবং এক অবিচল দায়িত্ববোধের প্রতীক। দি সংবাদ লিমিটেড- যার পরিচিতি বিশ্বজোড়া, সেই প্রতিষ্ঠানের পতাকাবাহী এই দৈনিক নানা ঘাত-প্রতিঘাত, যুদ্ধ-বিগ্রহ, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সময়ের পরীক্ষার মধ্যে আজও মাথা উঁচু করে টিকে আছে- এক মহীরুহের মতো।
প্রায় ৭৬ বছরে পা রাখা সংবাদের পথচলা শুরু হয়েছিল প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ করে, অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ভিত্তি করে সীমাহীন দায়িত্ববোধ ও নিরলস কর্তব্যনিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই যাত্রা বিস্তৃত হয়েছে আরও বহুদূর, অর্জন করেছে লক্ষ-কোটি মানুষের অটুট আস্থা। করপোরেট প্রভাবমুক্ত সম্পাদকীয় নীতির কারণে ‘সংবাদ’ হয়ে উঠে গণমানুষের মুখপত্র এবং সমাজের এক নির্ভরযোগ্য দর্পণ।
প্রথিতযশা সাংবাদিকদের অবদান: এই দীর্ঘ ইতিহাসে সামিল হয়েছেন বহু প্রতিথযশা বরেণ্য সাংবাদিক। সংবাদের শুরুর এই প্রথিতযশা সিনিয়র সাংবাদিকদের অবদান অপরিসীম। যেসব নাম উল্লেখ না করলেই নয় তাদের মধ্যে রয়েছেন, জহুর হোসেন চৌধুরী, বজলুর রহমান, তোয়াহা খান, শহীদুল্লাহ কায়সার, সন্তোষ গুপ্ত, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাঈদ আতীকুল্লাহ, কে জি মুস্তফা, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, মোজাম্মেল হক মন্টু, আতাউর রহমান আতা, আবুল হাসনাত, ফাহিম মোনায়েম টিপু, মুনিরুজ্জামান, সোহারাব হাসান, জীবন চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, শাহরিয়ার করিম, কাসেম হুমায়ুন, কার্তিক চট্টোপাধ্যায়, চিররঞ্জন সরকার, জি এম ইয়াকুব, স্বপন দত্ত, মিনু আপা, নিনি আপা, জলি আপা, বকুল মাহবুব, আখতারজাহান মালিক, আব্দুল হামিদ, শান্তনু কাসার, সালাম যুবায়ের, ফরহাদ মাহমুদ ছাড়াও ছিলেন উঁচুমানের বেশ কিছু নিজস্ব বার্তা পরিবেশক। তাদের মধ্যে অনেকে সংবাদের বার্তা, এডিটরিয়াল, সম্পাদনা বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে নিরলস দায়িত্ব পালন করে পত্রিকাটিকে একটি শক্তিশালী, বস্তুনিষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যমে পরিণত করেছেন। তাদের ( উপসম্পাদকীয়) ক্ষুরধার লেখনী, বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি এবং আপসহীন সাংবাদিকতার মাধ্যমে সংবাদ কেবল তথ্য প্রকাশ করেনি- বরং সত্য, ন্যায় ও গণমানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠার মডেল তৈরি করেছেন।
মোনাজাত উদ্দিন: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এক অনন্য নাম। সংবাদ–এর অন্যতম বড় শক্তি ছিল মফস্বল সাংবাদিক ও মাঠপর্যায়ের সংবাদদাতারা। দেশের রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী বরগুনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিরা ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতেন। মফস্বলের এই চৌকস সাংবাদিকরা ছিল মেধাবী এবং সংবাদ অনুরাগী একজনের সঙ্গে আরেকজনের তুলনা করা ছিল কঠিন ব্যাপার। এই ধারার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম মোনাজাত উদ্দিন। তিনি ছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু সংবাদ সংগ্রহ করতেন না- বরং ঘটনার অন্তরালে থাকা সত্য উন্মোচন করতেন। সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বাস্তবতাকে তিনি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতেন, যা অনেক সময় “সংবাদের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট” হিসেবেও পরিচিত ছিল।
উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম, হাট-বাজার, কৃষিজীবী সমাজ- সবখানেই তার উপস্থিতি ছিল দৃঢ়। মানুষের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবচিত্র তিনি নির্ভীকভাবে তুলে ধরতেন। তার কাজের মাধ্যমে তিনি শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, সমগ্র দেশের সাংবাদিকতায় এক বিশেষ স্থান তৈরি করেন।
এই সময়ের সংবাদ ছিল যেন সাংবাদিকতার এক “পাঠশালা”- যেখানে সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছ থেকে নবীনরা শিখতেন দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের কৌশল। সন্তোষ দা শেখাতেন খবরের চমক শিরোনাম বা হেডিং আর ইন্ট্রো।
সম্পাদক আহমদুল কবিরের ভূমিকা ও উত্তরাধিকার: এই দীর্ঘ পথচলায় সম্পাদক আহমদুল কবির-এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেখেছি তাকে কি বলিষ্ঠ ও আত্মমর্যদা সম্পন্ন ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন কিন্তু তার সংবাদপত্রটিকে কখনও রাজনৈতিক প্লাটফর্ম বা ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট- সংবাদপত্রের শক্তি তার নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতায়। তিনি সংবাদ–কে করপোরেট প্রভাব থেকে দূরে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদায় দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছিলেন। তিনি মূল্যায়নভিত্তিক মফস্বল সংবাদদাতাদের স্টাফ রিপোর্টার ও জেলা সংবাদদাতাদের জুনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছেন। যা এখনও বিদ্যমান। তিনি মফস্বল সাংবাদিকদের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন বলেই একেকজন খবর পাগল সাংবাদিক এখনও টিকে আছে।
তার মৃত্যুর পর তার যোগ্য সন্তান আলতামাশ কবির (মিশু) বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে সংবাদ–এর সম্পাদকীয় স্বাতন্ত্র, নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। করপোরেট নির্ভরতার যুগের মঝেও তিনি সংবাদকে এখনও স্বাতন্ত্রময় বলিষ্ঠতায় টিকিয়ে রেখেছেন। বাবার মতো সেই উঁচুলম্বা মথাকে নিচু হতে দেখিনি অন্তত আমি।
এই দীর্ঘ ৭৭ বছরের পথচলায় বহু প্রথিতযশা সাংবাদিক আজ আমাদের মধ্যে নেই। তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের কলম, তাদের সংগ্রাম এবং তাদের নিষ্ঠাই সংবাদ–কে গণমানুষের পত্রিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উত্তরাঞ্চলের অসংখ্য প্রতিনিধি, মফস্বল সাংবাদিক এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদকেরা এই প্রতিষ্ঠানের প্রাণশক্তি ছিলেন-আজও আছেন।
একজন প্রাক্তন সংবাদকর্মীর চোখে সংবাদ কখনও শুধু কর্মস্থল ছিল না- ছিল এক পরিবার, এক দায়িত্ববোধ, এক আত্মিক সম্পর্ক। আর সেই পরিবার আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে- এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বরেণ্য সাংবাদিকদের অনেকেই এখন আমাদের মাঝে নেই, ইহলোক ত্যাগ করেছেন।
সংবাদ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, এই দীর্ঘ ইতিহাস, এই সাংবাদিকদের অবদান এবং তাদের কাজ সংরক্ষণ করার জন্য একটি স্মারক গ্রন্থ বা আর্কাইভ প্রকাশ করা হোক। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংবাদ-এ সাংবাদিকতার শিকড় সম্পর্কে জানতে পারে। কেননা ওই সব বরেণ্য সাংবাদিকদের অনেকেই এখন আর আমাদের মাঝে নেই।
সংবাদ-এর ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জানাই অভিনন্দন, প্রীতি ও অফুরাণ শুভেচ্ছা। আর কামনা করছি 'সংবাদ'-এর অনাগত সমৃদ্ধি।
লেখক: কলকাতা প্রতিনিধি

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
“সংবাদ”-শুধু একটি পত্রিকার নাম নয়, এটি এক আবেগ, এক ইতিহাস এবং এক অবিচল দায়িত্ববোধের প্রতীক। দি সংবাদ লিমিটেড- যার পরিচিতি বিশ্বজোড়া, সেই প্রতিষ্ঠানের পতাকাবাহী এই দৈনিক নানা ঘাত-প্রতিঘাত, যুদ্ধ-বিগ্রহ, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সময়ের পরীক্ষার মধ্যে আজও মাথা উঁচু করে টিকে আছে- এক মহীরুহের মতো।
প্রায় ৭৬ বছরে পা রাখা সংবাদের পথচলা শুরু হয়েছিল প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ করে, অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ভিত্তি করে সীমাহীন দায়িত্ববোধ ও নিরলস কর্তব্যনিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই যাত্রা বিস্তৃত হয়েছে আরও বহুদূর, অর্জন করেছে লক্ষ-কোটি মানুষের অটুট আস্থা। করপোরেট প্রভাবমুক্ত সম্পাদকীয় নীতির কারণে ‘সংবাদ’ হয়ে উঠে গণমানুষের মুখপত্র এবং সমাজের এক নির্ভরযোগ্য দর্পণ।
প্রথিতযশা সাংবাদিকদের অবদান: এই দীর্ঘ ইতিহাসে সামিল হয়েছেন বহু প্রতিথযশা বরেণ্য সাংবাদিক। সংবাদের শুরুর এই প্রথিতযশা সিনিয়র সাংবাদিকদের অবদান অপরিসীম। যেসব নাম উল্লেখ না করলেই নয় তাদের মধ্যে রয়েছেন, জহুর হোসেন চৌধুরী, বজলুর রহমান, তোয়াহা খান, শহীদুল্লাহ কায়সার, সন্তোষ গুপ্ত, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাঈদ আতীকুল্লাহ, কে জি মুস্তফা, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, মোজাম্মেল হক মন্টু, আতাউর রহমান আতা, আবুল হাসনাত, ফাহিম মোনায়েম টিপু, মুনিরুজ্জামান, সোহারাব হাসান, জীবন চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, শাহরিয়ার করিম, কাসেম হুমায়ুন, কার্তিক চট্টোপাধ্যায়, চিররঞ্জন সরকার, জি এম ইয়াকুব, স্বপন দত্ত, মিনু আপা, নিনি আপা, জলি আপা, বকুল মাহবুব, আখতারজাহান মালিক, আব্দুল হামিদ, শান্তনু কাসার, সালাম যুবায়ের, ফরহাদ মাহমুদ ছাড়াও ছিলেন উঁচুমানের বেশ কিছু নিজস্ব বার্তা পরিবেশক। তাদের মধ্যে অনেকে সংবাদের বার্তা, এডিটরিয়াল, সম্পাদনা বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে নিরলস দায়িত্ব পালন করে পত্রিকাটিকে একটি শক্তিশালী, বস্তুনিষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যমে পরিণত করেছেন। তাদের ( উপসম্পাদকীয়) ক্ষুরধার লেখনী, বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি এবং আপসহীন সাংবাদিকতার মাধ্যমে সংবাদ কেবল তথ্য প্রকাশ করেনি- বরং সত্য, ন্যায় ও গণমানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠার মডেল তৈরি করেছেন।
মোনাজাত উদ্দিন: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এক অনন্য নাম। সংবাদ–এর অন্যতম বড় শক্তি ছিল মফস্বল সাংবাদিক ও মাঠপর্যায়ের সংবাদদাতারা। দেশের রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী বরগুনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিরা ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতেন। মফস্বলের এই চৌকস সাংবাদিকরা ছিল মেধাবী এবং সংবাদ অনুরাগী একজনের সঙ্গে আরেকজনের তুলনা করা ছিল কঠিন ব্যাপার। এই ধারার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম মোনাজাত উদ্দিন। তিনি ছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু সংবাদ সংগ্রহ করতেন না- বরং ঘটনার অন্তরালে থাকা সত্য উন্মোচন করতেন। সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বাস্তবতাকে তিনি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতেন, যা অনেক সময় “সংবাদের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট” হিসেবেও পরিচিত ছিল।
উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম, হাট-বাজার, কৃষিজীবী সমাজ- সবখানেই তার উপস্থিতি ছিল দৃঢ়। মানুষের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবচিত্র তিনি নির্ভীকভাবে তুলে ধরতেন। তার কাজের মাধ্যমে তিনি শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, সমগ্র দেশের সাংবাদিকতায় এক বিশেষ স্থান তৈরি করেন।
এই সময়ের সংবাদ ছিল যেন সাংবাদিকতার এক “পাঠশালা”- যেখানে সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছ থেকে নবীনরা শিখতেন দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের কৌশল। সন্তোষ দা শেখাতেন খবরের চমক শিরোনাম বা হেডিং আর ইন্ট্রো।
সম্পাদক আহমদুল কবিরের ভূমিকা ও উত্তরাধিকার: এই দীর্ঘ পথচলায় সম্পাদক আহমদুল কবির-এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেখেছি তাকে কি বলিষ্ঠ ও আত্মমর্যদা সম্পন্ন ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন কিন্তু তার সংবাদপত্রটিকে কখনও রাজনৈতিক প্লাটফর্ম বা ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট- সংবাদপত্রের শক্তি তার নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতায়। তিনি সংবাদ–কে করপোরেট প্রভাব থেকে দূরে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদায় দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছিলেন। তিনি মূল্যায়নভিত্তিক মফস্বল সংবাদদাতাদের স্টাফ রিপোর্টার ও জেলা সংবাদদাতাদের জুনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছেন। যা এখনও বিদ্যমান। তিনি মফস্বল সাংবাদিকদের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন বলেই একেকজন খবর পাগল সাংবাদিক এখনও টিকে আছে।
তার মৃত্যুর পর তার যোগ্য সন্তান আলতামাশ কবির (মিশু) বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে সংবাদ–এর সম্পাদকীয় স্বাতন্ত্র, নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। করপোরেট নির্ভরতার যুগের মঝেও তিনি সংবাদকে এখনও স্বাতন্ত্রময় বলিষ্ঠতায় টিকিয়ে রেখেছেন। বাবার মতো সেই উঁচুলম্বা মথাকে নিচু হতে দেখিনি অন্তত আমি।
এই দীর্ঘ ৭৭ বছরের পথচলায় বহু প্রথিতযশা সাংবাদিক আজ আমাদের মধ্যে নেই। তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের কলম, তাদের সংগ্রাম এবং তাদের নিষ্ঠাই সংবাদ–কে গণমানুষের পত্রিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উত্তরাঞ্চলের অসংখ্য প্রতিনিধি, মফস্বল সাংবাদিক এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদকেরা এই প্রতিষ্ঠানের প্রাণশক্তি ছিলেন-আজও আছেন।
একজন প্রাক্তন সংবাদকর্মীর চোখে সংবাদ কখনও শুধু কর্মস্থল ছিল না- ছিল এক পরিবার, এক দায়িত্ববোধ, এক আত্মিক সম্পর্ক। আর সেই পরিবার আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে- এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বরেণ্য সাংবাদিকদের অনেকেই এখন আমাদের মাঝে নেই, ইহলোক ত্যাগ করেছেন।
সংবাদ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, এই দীর্ঘ ইতিহাস, এই সাংবাদিকদের অবদান এবং তাদের কাজ সংরক্ষণ করার জন্য একটি স্মারক গ্রন্থ বা আর্কাইভ প্রকাশ করা হোক। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংবাদ-এ সাংবাদিকতার শিকড় সম্পর্কে জানতে পারে। কেননা ওই সব বরেণ্য সাংবাদিকদের অনেকেই এখন আর আমাদের মাঝে নেই।
সংবাদ-এর ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জানাই অভিনন্দন, প্রীতি ও অফুরাণ শুভেচ্ছা। আর কামনা করছি 'সংবাদ'-এর অনাগত সমৃদ্ধি।
লেখক: কলকাতা প্রতিনিধি

আপনার মতামত লিখুন