হবিগঞ্জে এবার চাহিদার তুলনায় কোরবানির পশুর মজুত বেশি থাকায় লাভের আশা করছেন স্থানীয় খামারিরা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার ৫০টি। বিপরীতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ১৩৫টি পশু। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও ৪ হাজার ৮৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। খামারিদের আশা, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি গরু না এলে এবার তাঁরা ভালো দাম পাবেন।
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন হবিগঞ্জের খামারিরা। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় বর্তমানে খামারির সংখ্যা ১ হাজার ৪৪০ জন। প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ৯৭২টি গরু, ১১ হাজার ১২৩টি ছাগল, ৪ হাজার ৫২৯টি ভেড়া এবং ৬৫টি মহিষ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু রাজধানীসহ দেশের অন্য জেলাগুলোতেও পাঠানো সম্ভব হবে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের খামারি মো. তুহিন মিয়া জানান, ১ হাজার কেজি ওজনের একটি ষাঁড় লালন-পালনে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাজারের ওপরই এখন তার সব আশা-ভরসা। আরেক খামারি জোবায়ের আহমেদ বলেন, ‘পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় খরচ অনেক বেড়েছে। বিদেশি গরু বাজারে না এলে আমরা কিছুটা লাভের মুখ দেখব।’
খামারিদের অভিযোগ, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও অসাধু সিন্ডিকেটের প্রভাবে উৎপাদন খরচ মেলাতেই তারা হিমশিম খাচ্ছেন। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জেলার ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত পথে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, পশুর হাটে অসুস্থ বা ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা পশু বিক্রি ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চারটি মেডিকেল টিম কাজ করবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম জানান, হাটের নিরাপত্তায় পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে একাধিক টহল টিম মোতায়েন থাকবে। জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।
আপনার মতামত লিখুন