সংবাদ

বিভাজনের রাজনীতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঐক্যের প্রশ্ন


বাবুল রবিদাস
বাবুল রবিদাস
প্রকাশ: ২ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

বিভাজনের রাজনীতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঐক্যের প্রশ্ন

ভারতীয় উপমহাদেশে দীর্ঘকাল ধরে সমাজকে বিভিন্ন বর্ণ ও শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত বর্ণব্যবস্থায় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র—এই চারটি শ্রেণীর কথা উল্লেখ করা হয়। ব্রাহ্মণদের জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে, ক্ষত্রিয়দের শাসন ও প্রতিরক্ষার সঙ্গে, বৈশ্যদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে এবং শূদ্রদের সেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। ঐতিহাসিকভাবে শূদ্রদের সমাজের নিম্নস্তরে অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অচ্ছুত বা অস্পৃশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। 

প্রথাগতভাবে চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুত, ঝাড়ু দেয়া, মলমূত্র অপসারণসহ বিভিন্ন শ্রমনির্ভর পেশায় শূদ্র শ্রেণীর মানুষদের নিয়োজিত রাখা হতো। ভারতে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ১৯৭৯ সালে বিহারের সাবেক মন্ত্রী ও নেতা শ্রী বিন্দেশ্বরী প্রসাদ মণ্ডলের নেতৃত্বে মণ্ডল কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন ১৯৮০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভারতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়। 

অনেকের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত ও দুর্বল রাখার জন্য বিভিন্ন উপগোষ্ঠী, পদবি ও সামাজিক পরিচয়ের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর ফলে একই ধরনের পেশা বা সামাজিক অবস্থানের মানুষদের মধ্যেও পারস্পরিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন পরিচয়, বিশ্বাস ও প্রথার কারণে তারা একক সামাজিক শক্তিতে পরিণত হতে পারেনি। 

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকার কারণে বহু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে। মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত ছিল। জীবিকার তাগিদে এবং চরম দারিদ্র্যের কারণে তাদের অনেককে অত্যন্ত কষ্টকর জীবন পার করতে হয়েছে। নানা ধরনের সামাজিক বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনা সহ্য করেও তারা টিকে আছে। 

যারা জুতা তৈরি, মেরামত বা বুট পালিশের কাজ করেন, তাদের মধ্যে বিভিন্ন পদবি দেখা যায়। যেমন—মুচি, চামার, ঋষি, রবিদাস, মেঘওয়াল, সৎনামী, দাস, অন্ত্যজ প্রভৃতি। একই ধরনের পেশায় যুক্ত হলেও এসব সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সামাজিক রীতি-নীতি অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। ফলে তাদের মধ্যে আত্মীয়তা বা সামাজিক যোগাযোগ সীমিত থাকে। এই বিভক্ত অবস্থার কারণে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব অর্জনও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। 

একইভাবে ‘হরিজন’ পরিচয়ের আওতায় থাকা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যেও নানা পদবি ও সামাজিক বিভাজন বিদ্যমান। ডোম, হাড়ি, বাল্মিকী, বাঁশফোর, লালবেগী, হেলা, ভক্তসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় একই ধরনের পেশায় নিয়োজিত হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে। ফলে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ঐক্য গড়ে তোলা কঠিন হয়ে ওঠে। 

আদিবাসী পরিচয় নিয়েও দেশে-বিদেশে নানা বিতর্ক রয়েছে। সাধারণভাবে যারা প্রাচীনকাল থেকে নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাস করে নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা বজায় রেখেছে, তাদের আদিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে সরকারিভাবে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’, ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী’ বা ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী এসব জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, প্রথা ও সামাজিক কাঠামো একে অন্যের থেকে ভিন্ন। 

সমতলে সাঁওতাল, ওরাঁও, মুন্ডা, রবিদাসসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বসবাস করে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ অঞ্চলের গারো জনগোষ্ঠী নিজেদের ‘আচিক’ পরিচয়ে পরিচিত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীরও স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পদবির মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ, আবার কোথাও আত্মীয়তার নিজস্ব নিয়ম বিদ্যমান। এসব সামাজিক রীতিনীতি তাদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করলেও বৃহত্তর ঐক্যের পথে কিছু বাধা তৈরি করে। 

সমাজে আবার এমন একটি অংশ রয়েছে যারা নিজেদের সংখ্যালঘু পরিচয়ে চিহ্নিত করেন, কিন্তু দলিত, আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয়ের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করেন না। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আরও বৈচিত্র্য ও বিভাজন সৃষ্টি হয়। অনেকের মতে, এই বিভাজন শাসন ও নিয়ন্ত্রণকে সহজ করে তোলে। 

প্রশ্ন হলো, এই ধরনের বিভক্তি কি সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ বয়ে আনে? বাস্তবতা হলো, বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সমর্থনের ঘাটতি তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নকে দুর্বল করে। ফলে তারা প্রায়ই উন্নয়নের মূল ধারা থেকে পিছিয়ে থাকে এবং বঞ্চনার শিকার হয়। 

এই পরিস্থিতিতে পারস্পরিক দোষারোপ না করে সংলাপ, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন পরিচয় ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বজায় রেখেও সাধারণ স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব। সামাজিক ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি আরও জোরদার করা জরুরি। 

[লেখক: আইনজীবী, জজ কোর্ট, জয়পুরহাট]



আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


বিভাজনের রাজনীতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঐক্যের প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতীয় উপমহাদেশে দীর্ঘকাল ধরে সমাজকে বিভিন্ন বর্ণ ও শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত বর্ণব্যবস্থায় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র—এই চারটি শ্রেণীর কথা উল্লেখ করা হয়। ব্রাহ্মণদের জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে, ক্ষত্রিয়দের শাসন ও প্রতিরক্ষার সঙ্গে, বৈশ্যদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে এবং শূদ্রদের সেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। ঐতিহাসিকভাবে শূদ্রদের সমাজের নিম্নস্তরে অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অচ্ছুত বা অস্পৃশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। 

প্রথাগতভাবে চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুত, ঝাড়ু দেয়া, মলমূত্র অপসারণসহ বিভিন্ন শ্রমনির্ভর পেশায় শূদ্র শ্রেণীর মানুষদের নিয়োজিত রাখা হতো। ভারতে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ১৯৭৯ সালে বিহারের সাবেক মন্ত্রী ও নেতা শ্রী বিন্দেশ্বরী প্রসাদ মণ্ডলের নেতৃত্বে মণ্ডল কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন ১৯৮০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভারতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়। 

অনেকের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত ও দুর্বল রাখার জন্য বিভিন্ন উপগোষ্ঠী, পদবি ও সামাজিক পরিচয়ের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর ফলে একই ধরনের পেশা বা সামাজিক অবস্থানের মানুষদের মধ্যেও পারস্পরিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন পরিচয়, বিশ্বাস ও প্রথার কারণে তারা একক সামাজিক শক্তিতে পরিণত হতে পারেনি। 

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকার কারণে বহু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে। মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত ছিল। জীবিকার তাগিদে এবং চরম দারিদ্র্যের কারণে তাদের অনেককে অত্যন্ত কষ্টকর জীবন পার করতে হয়েছে। নানা ধরনের সামাজিক বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনা সহ্য করেও তারা টিকে আছে। 

যারা জুতা তৈরি, মেরামত বা বুট পালিশের কাজ করেন, তাদের মধ্যে বিভিন্ন পদবি দেখা যায়। যেমন—মুচি, চামার, ঋষি, রবিদাস, মেঘওয়াল, সৎনামী, দাস, অন্ত্যজ প্রভৃতি। একই ধরনের পেশায় যুক্ত হলেও এসব সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সামাজিক রীতি-নীতি অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। ফলে তাদের মধ্যে আত্মীয়তা বা সামাজিক যোগাযোগ সীমিত থাকে। এই বিভক্ত অবস্থার কারণে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব অর্জনও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। 

একইভাবে ‘হরিজন’ পরিচয়ের আওতায় থাকা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যেও নানা পদবি ও সামাজিক বিভাজন বিদ্যমান। ডোম, হাড়ি, বাল্মিকী, বাঁশফোর, লালবেগী, হেলা, ভক্তসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় একই ধরনের পেশায় নিয়োজিত হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে। ফলে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ঐক্য গড়ে তোলা কঠিন হয়ে ওঠে। 

আদিবাসী পরিচয় নিয়েও দেশে-বিদেশে নানা বিতর্ক রয়েছে। সাধারণভাবে যারা প্রাচীনকাল থেকে নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাস করে নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা বজায় রেখেছে, তাদের আদিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে সরকারিভাবে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’, ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী’ বা ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী এসব জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, প্রথা ও সামাজিক কাঠামো একে অন্যের থেকে ভিন্ন। 

সমতলে সাঁওতাল, ওরাঁও, মুন্ডা, রবিদাসসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বসবাস করে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ অঞ্চলের গারো জনগোষ্ঠী নিজেদের ‘আচিক’ পরিচয়ে পরিচিত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীরও স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পদবির মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ, আবার কোথাও আত্মীয়তার নিজস্ব নিয়ম বিদ্যমান। এসব সামাজিক রীতিনীতি তাদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করলেও বৃহত্তর ঐক্যের পথে কিছু বাধা তৈরি করে। 

সমাজে আবার এমন একটি অংশ রয়েছে যারা নিজেদের সংখ্যালঘু পরিচয়ে চিহ্নিত করেন, কিন্তু দলিত, আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয়ের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করেন না। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আরও বৈচিত্র্য ও বিভাজন সৃষ্টি হয়। অনেকের মতে, এই বিভাজন শাসন ও নিয়ন্ত্রণকে সহজ করে তোলে। 

প্রশ্ন হলো, এই ধরনের বিভক্তি কি সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ বয়ে আনে? বাস্তবতা হলো, বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সমর্থনের ঘাটতি তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নকে দুর্বল করে। ফলে তারা প্রায়ই উন্নয়নের মূল ধারা থেকে পিছিয়ে থাকে এবং বঞ্চনার শিকার হয়। 

এই পরিস্থিতিতে পারস্পরিক দোষারোপ না করে সংলাপ, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন পরিচয় ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বজায় রেখেও সাধারণ স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব। সামাজিক ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি আরও জোরদার করা জরুরি। 

[লেখক: আইনজীবী, জজ কোর্ট, জয়পুরহাট]




সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত