সংবাদ

তদন্তকারীদের ‘খুঁজে’ না পাওয়ার দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ঝুলে আছে ১২৬ বার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৪ এএম

সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ঝুলে আছে ১২৬ বার

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তাদের পরিবার। অন্যদিকে ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় তৎকালীন তদন্ত সংশ্লিষ্টদের এখন ‘খুঁজে’ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ, যার কারণে তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বুধবার, ৩ জুন সাগর-রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ ও মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের রোমান সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং তাদের আইনজীবী শিশির মনিরের সঙ্গে দেখা করেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তদন্তের স্থবিরতা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন রুনির ভাই।

​নওশের রোমান অভিযোগ করে বলেন, "তদন্তের হালনাগাদ তথ্য না থাকায় নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, যা আমাদের পরিবারকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।"

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মামলার অগ্রগতির আশা করলেও তা পূরণ হয়নি বলে আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন, "১৪ বছর ধরে আমরা বিচার চাইছি। আগে অন্তত এক মাস পরপর আদালতে অগ্রগতির খবর পাওয়া যেত, এখন ছয় মাস পরপর সময় দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণাই নেই।"

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ১৪ বছরেও এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হয়নি এবং গত ৭ মে ১২৬ বারের মতো পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ।

​তদন্তের এই ধীরগতি ও বাস্তব সংকটের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, "তদন্তকারী সংস্থাকে কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ঘটনার পরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাদের অনেককেই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।"

তদন্তের জটিলতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "১৫ বছর আগের একটি ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি, আলামত ও ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে।"

মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি কেবল তদন্তকারী সংস্থার তুলে ধরা ‘বাস্তব পরিস্থিতিই’ বর্ণনা করছেন এবং পরিবারের এই উদ্বেগ ও হতাশার বিষয়টি তিনি অবশ্যই তদন্তকারীদের জানাবেন।

​এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির জানান, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক এরই মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আগামী ৭ জুন হাইকোর্ট খুললে সেই প্রতিবেদনটি দেখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হবে। এর আগে গত ৭ মে নির্ধারিত দিনে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ১৮ জুন প্রতিবেদন জমার নতুন দিন ধার্য করেছে। দীর্ঘ এই সময়েও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ঝুলে আছে ১২৬ বার

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তাদের পরিবার। অন্যদিকে ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় তৎকালীন তদন্ত সংশ্লিষ্টদের এখন ‘খুঁজে’ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ, যার কারণে তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বুধবার, ৩ জুন সাগর-রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ ও মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের রোমান সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং তাদের আইনজীবী শিশির মনিরের সঙ্গে দেখা করেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তদন্তের স্থবিরতা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন রুনির ভাই।

​নওশের রোমান অভিযোগ করে বলেন, "তদন্তের হালনাগাদ তথ্য না থাকায় নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, যা আমাদের পরিবারকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।"

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মামলার অগ্রগতির আশা করলেও তা পূরণ হয়নি বলে আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন, "১৪ বছর ধরে আমরা বিচার চাইছি। আগে অন্তত এক মাস পরপর আদালতে অগ্রগতির খবর পাওয়া যেত, এখন ছয় মাস পরপর সময় দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণাই নেই।"

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ১৪ বছরেও এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হয়নি এবং গত ৭ মে ১২৬ বারের মতো পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ।

​তদন্তের এই ধীরগতি ও বাস্তব সংকটের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, "তদন্তকারী সংস্থাকে কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ঘটনার পরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাদের অনেককেই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।"

তদন্তের জটিলতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "১৫ বছর আগের একটি ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি, আলামত ও ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে।"

মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি কেবল তদন্তকারী সংস্থার তুলে ধরা ‘বাস্তব পরিস্থিতিই’ বর্ণনা করছেন এবং পরিবারের এই উদ্বেগ ও হতাশার বিষয়টি তিনি অবশ্যই তদন্তকারীদের জানাবেন।

​এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির জানান, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক এরই মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আগামী ৭ জুন হাইকোর্ট খুললে সেই প্রতিবেদনটি দেখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হবে। এর আগে গত ৭ মে নির্ধারিত দিনে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ১৮ জুন প্রতিবেদন জমার নতুন দিন ধার্য করেছে। দীর্ঘ এই সময়েও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত