সংবাদ

তিন মাসেই কার্যকর হতে পারে রামিসার খুনিদের ফাঁসি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

তিন মাসেই কার্যকর হতে পারে রামিসার খুনিদের ফাঁসি

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এখনও শুকায়নি দেশবাসীর বুক থেকে। তবে এই পৈশাচিক ঘটনার বিচার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাচ্ছে রাষ্ট্র। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর এবার আগামী তিন মাসের মধ্যে সেই ফাঁসির রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রবিবার আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী জানান, এই মামলার ডেথ রেফারেন্স আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বিশেষ আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, "আমাদের আইনি বাধ্যবাধকতা আছে যে সাত দিনের মধ্যে এই ফাইল চলে যাবে ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে। যাওয়ার পরে সমস্ত মামলায় পেপার বুক রেডি করতে হয়, পেপার বুক বাইরে করার সুযোগ নাই। পেপার বুক সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই হয়।"

অতীতে মেজর সিনহা বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা যেভাবে বিশেষ আদেশে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছিল, রামিসার ক্ষেত্রেও তেমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আজকের এই যে ফাস্ট ট্র্যাক সরকার একা করেননি, আপনাদের মাথায় রাখতে হবে যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি যদি ১৫ই জুন পর্যন্ত এই মাননীয় বিচারকদের যে ছুটি ছিল, সেই ছুটি বাতিল না করতেন তাহলে ফাস্ট ট্র্যাক করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হত না।"

আইনে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট সলিসিটর অফিসের যৌথ উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে সব ধাপ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হিসাবটি বুঝিয়ে দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, "একটা হল এক সপ্তাহের মধ্যে যদি ফাইলটা আসে, আমরা যদি তার পরের সপ্তাহ থেকে এটাকে পেপার বুকে দিয়ে দিতে পারি, পেপার বুক যদি ১৫ দিনের মধ্যে আমরা শেষ করতে পারি, তারপরে যদি বিশেষ বিবেচনায় এটা শুনানি করা হয়, শুনানি যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে করি, তারপর অ্যাপিল ডিভিশনে যাবে, এটা তিন মাস থেকে তিন মাসের মধ্যে করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।"

আসামিদের অপরাধের ভয়াবহতা এবং বিচার বিলম্বিত করার অপচেষ্টা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "রামিসা হত্যাকান্ড, এরা তো মানসিকভাবে অপরাধী, কত বড় ক্রিমিনাল চিন্তা করেন। এরকম একটা ঘটনা ঘটিয়ে ১৬৪ করেছেন, এরপর বিচারকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য মামলার রেকর্ডে যা নাই, এরকম আরেকজনকে টেনে এনে ওর উদ্দেশ্যই ছিল যে, বিচার প্রক্রিয়াটা কতটা বিলম্বিত করা যায়। মানুষ ভুলে যায় কি না, মানুষ তার এটা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে নেয় কি না। কিন্তু আমরা আমাদের বিচার প্রক্রিয়ায় যেমন ফোকাস ছিলাম, আমাদের সামনে যা কিছু ম্যাটেরিয়াল ছিল আমরা সেগুলো সামনে নিয়ে এগিয়ে গেছি।"

তবে কোনো তাড়াহুড়ো করে আইনি ফাঁকফোকর রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, "আইনের এই স্তরগুলো আপনার এক্সজস্ট না করে যদি আমরা এই রায় কার্যকর করতে চাই, সেটা আরেকটা দিক উন্মোচন হবে, আরেকটা প্রশ্ন আসবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


তিন মাসেই কার্যকর হতে পারে রামিসার খুনিদের ফাঁসি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এখনও শুকায়নি দেশবাসীর বুক থেকে। তবে এই পৈশাচিক ঘটনার বিচার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাচ্ছে রাষ্ট্র। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর এবার আগামী তিন মাসের মধ্যে সেই ফাঁসির রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রবিবার আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী জানান, এই মামলার ডেথ রেফারেন্স আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বিশেষ আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, "আমাদের আইনি বাধ্যবাধকতা আছে যে সাত দিনের মধ্যে এই ফাইল চলে যাবে ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে। যাওয়ার পরে সমস্ত মামলায় পেপার বুক রেডি করতে হয়, পেপার বুক বাইরে করার সুযোগ নাই। পেপার বুক সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই হয়।"

অতীতে মেজর সিনহা বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা যেভাবে বিশেষ আদেশে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছিল, রামিসার ক্ষেত্রেও তেমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আজকের এই যে ফাস্ট ট্র্যাক সরকার একা করেননি, আপনাদের মাথায় রাখতে হবে যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি যদি ১৫ই জুন পর্যন্ত এই মাননীয় বিচারকদের যে ছুটি ছিল, সেই ছুটি বাতিল না করতেন তাহলে ফাস্ট ট্র্যাক করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হত না।"

আইনে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট সলিসিটর অফিসের যৌথ উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে সব ধাপ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হিসাবটি বুঝিয়ে দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, "একটা হল এক সপ্তাহের মধ্যে যদি ফাইলটা আসে, আমরা যদি তার পরের সপ্তাহ থেকে এটাকে পেপার বুকে দিয়ে দিতে পারি, পেপার বুক যদি ১৫ দিনের মধ্যে আমরা শেষ করতে পারি, তারপরে যদি বিশেষ বিবেচনায় এটা শুনানি করা হয়, শুনানি যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে করি, তারপর অ্যাপিল ডিভিশনে যাবে, এটা তিন মাস থেকে তিন মাসের মধ্যে করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।"

আসামিদের অপরাধের ভয়াবহতা এবং বিচার বিলম্বিত করার অপচেষ্টা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "রামিসা হত্যাকান্ড, এরা তো মানসিকভাবে অপরাধী, কত বড় ক্রিমিনাল চিন্তা করেন। এরকম একটা ঘটনা ঘটিয়ে ১৬৪ করেছেন, এরপর বিচারকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য মামলার রেকর্ডে যা নাই, এরকম আরেকজনকে টেনে এনে ওর উদ্দেশ্যই ছিল যে, বিচার প্রক্রিয়াটা কতটা বিলম্বিত করা যায়। মানুষ ভুলে যায় কি না, মানুষ তার এটা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে নেয় কি না। কিন্তু আমরা আমাদের বিচার প্রক্রিয়ায় যেমন ফোকাস ছিলাম, আমাদের সামনে যা কিছু ম্যাটেরিয়াল ছিল আমরা সেগুলো সামনে নিয়ে এগিয়ে গেছি।"

তবে কোনো তাড়াহুড়ো করে আইনি ফাঁকফোকর রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, "আইনের এই স্তরগুলো আপনার এক্সজস্ট না করে যদি আমরা এই রায় কার্যকর করতে চাই, সেটা আরেকটা দিক উন্মোচন হবে, আরেকটা প্রশ্ন আসবে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত