সংবাদ

সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটির কারণে ফোর লেনের কাজে ধীরগতি, জনমনে ক্ষোভ


জেলা বার্তা পরিবেশক, সুনামগঞ্জ
জেলা বার্তা পরিবেশক, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটির কারণে ফোর লেনের কাজে ধীরগতি, জনমনে ক্ষোভ
সুনামগঞ্জে ফোর লেন সড়কের মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না করেই চলছে পিচঢালাইয়ের কাজ। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ছবি : সংবাদ

সুনামগঞ্জ জেলা শহরের যানজট নিরসন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ফোর লেনের (চার লেন) মহাসড়ক নির্মাণকাজ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতা কাটিয়ে কাজ শুরু হলেও এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কের ওপর থাকা শত শত উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক খুঁটি। সময়মতো খুঁটি অপসারণ না করায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স’। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগের ধীরগতিতে কাজের গতি থমকে গেছে।

সওজ কর্তৃপক্ষ জানায়, খুঁটিগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস পার হলেও এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ খুঁটি আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খুঁটিগুলো অপসারণ না করায় বাধ্য হয়ে সেগুলোকে পাশ কাটিয়েই পিচঢালাই ও কার্পেটিংয়ের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে সড়কের কোথাও মাঝখানে, আবার কোথাও বিপজ্জনক মোড়ে খুঁটিগুলো মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাতের অন্ধকারে বা কুয়াশায় দ্রুতগতির যানবাহনগুলো যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালক ও পথচারীরা।

শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা নূরুল হাসান আতাহার বলেন, ‘ফোর লেন সড়কটি আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প। কিন্তু সড়কের মাঝখানে খুঁটি রেখেই পিচঢালাই হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ধীরগতির কাজ ও ধুলোবালিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।’

সুনামগঞ্জ সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘খুঁটি সরানোর জন্য আমরা পিডিবিকে বারবার তাগিদ দিচ্ছি। টাকা নিয়েও তারা সময়মতো কাজ করছে না। ফলে পুরো প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তবে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ বলেন, ‘খুঁটি সরানোর কাজ আমাদের অনুমোদিত ঠিকাদারের মাধ্যমে চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে পশ্চিম পাশের প্রায় ৫৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটির কারণে ফোর লেনের কাজে ধীরগতি, জনমনে ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জ জেলা শহরের যানজট নিরসন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ফোর লেনের (চার লেন) মহাসড়ক নির্মাণকাজ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতা কাটিয়ে কাজ শুরু হলেও এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কের ওপর থাকা শত শত উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক খুঁটি। সময়মতো খুঁটি অপসারণ না করায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স’। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগের ধীরগতিতে কাজের গতি থমকে গেছে।

সওজ কর্তৃপক্ষ জানায়, খুঁটিগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস পার হলেও এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ খুঁটি আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খুঁটিগুলো অপসারণ না করায় বাধ্য হয়ে সেগুলোকে পাশ কাটিয়েই পিচঢালাই ও কার্পেটিংয়ের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে সড়কের কোথাও মাঝখানে, আবার কোথাও বিপজ্জনক মোড়ে খুঁটিগুলো মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাতের অন্ধকারে বা কুয়াশায় দ্রুতগতির যানবাহনগুলো যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালক ও পথচারীরা।

শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা নূরুল হাসান আতাহার বলেন, ‘ফোর লেন সড়কটি আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প। কিন্তু সড়কের মাঝখানে খুঁটি রেখেই পিচঢালাই হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ধীরগতির কাজ ও ধুলোবালিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।’

সুনামগঞ্জ সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘খুঁটি সরানোর জন্য আমরা পিডিবিকে বারবার তাগিদ দিচ্ছি। টাকা নিয়েও তারা সময়মতো কাজ করছে না। ফলে পুরো প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তবে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ বলেন, ‘খুঁটি সরানোর কাজ আমাদের অনুমোদিত ঠিকাদারের মাধ্যমে চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে পশ্চিম পাশের প্রায় ৫৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত