সংবাদ

পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালুর আগে স্মার্ট গ্রিড তৈরির নির্দেশ বিদ্যুৎমন্ত্রীর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালুর আগে স্মার্ট গ্রিড তৈরির নির্দেশ বিদ্যুৎমন্ত্রীর

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে নিরাপদ, স্মার্ট ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন সিনক্রোনাইজেশনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, “এখনই সঠিক পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা সিস্টেম কলাপ্স (ভেঙে পড়া) করতে পারে।”

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা, বিদ্যমান দুর্বলতা, স্মার্ট গ্রিড বাস্তবায়ন এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করার চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এর প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম দেশের বিদ্যুতের বিদ্যমান সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশের বিদ্যুৎ খাতের বিবর্তন তুলে ধরে বলেন, “গ্যাস ভিত্তিক পাওয়ার থেকে আমরা মাল্টি পাওয়ারের দিকে এগিয়েছি। আমরা কয়লা এবং সোলার সিস্টেমের ব্যবহার বাড়াচ্ছি। এখন আমরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার বা পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকে যাচ্ছি।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ট্রান্সমিশন (সঞ্চালন) লাইন ও ডিস্ট্রিবিউশন (বিতরণ) লাইনের মধ্যে সিনক্রোনাইজ বা সমন্বয় করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে তার কিছুই করা হয়নি। এগুলোকে সিনক্রোনাইজ করার জন্য যথেষ্ট ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। সেটা না করলে পুরো সিস্টেম কলাপ্স করতে পারে। সেরকম দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, তার আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই আজ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা এই জরুরি মিটিং করেছি। আমরা একটি উপযুক্ত ও স্মার্ট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছি।”

সভায় মন্ত্রী স্মার্ট গ্রিড সিস্টেম বিষয়ে একটি বিস্তারিত কনসেপ্ট বা ওয়ার্কিং পেপার উপস্থাপন করার জন্য পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিদ্রুত এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে সভায় আশ্বস্ত করা হয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “এটি যেহেতু খুব উচ্চ প্রযুক্তির এবং একটি জটিল কারিগরি সিস্টেম, তাই এর জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এখানে জনগণের নিরাপত্তার দিকে আমাদের সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। বিদ্যুৎ খাতের অপচয় ও অনিয়ম প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও জানান, বিদ্যুৎ সেক্টরে বিগত সময়ে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্টসমূহ ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সব অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্টের পেছনে কারা দায়ী, তা তদন্ত করে বের করা হবে এবং যথাসময়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সভা শেষে মন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ সেক্টরের টেকসই উন্নয়নে সবাইকে প্রকৃত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালুর আগে স্মার্ট গ্রিড তৈরির নির্দেশ বিদ্যুৎমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে নিরাপদ, স্মার্ট ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন সিনক্রোনাইজেশনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, “এখনই সঠিক পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা সিস্টেম কলাপ্স (ভেঙে পড়া) করতে পারে।”

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা, বিদ্যমান দুর্বলতা, স্মার্ট গ্রিড বাস্তবায়ন এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করার চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এর প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম দেশের বিদ্যুতের বিদ্যমান সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশের বিদ্যুৎ খাতের বিবর্তন তুলে ধরে বলেন, “গ্যাস ভিত্তিক পাওয়ার থেকে আমরা মাল্টি পাওয়ারের দিকে এগিয়েছি। আমরা কয়লা এবং সোলার সিস্টেমের ব্যবহার বাড়াচ্ছি। এখন আমরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার বা পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকে যাচ্ছি।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ট্রান্সমিশন (সঞ্চালন) লাইন ও ডিস্ট্রিবিউশন (বিতরণ) লাইনের মধ্যে সিনক্রোনাইজ বা সমন্বয় করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে তার কিছুই করা হয়নি। এগুলোকে সিনক্রোনাইজ করার জন্য যথেষ্ট ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। সেটা না করলে পুরো সিস্টেম কলাপ্স করতে পারে। সেরকম দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, তার আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই আজ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা এই জরুরি মিটিং করেছি। আমরা একটি উপযুক্ত ও স্মার্ট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছি।”

সভায় মন্ত্রী স্মার্ট গ্রিড সিস্টেম বিষয়ে একটি বিস্তারিত কনসেপ্ট বা ওয়ার্কিং পেপার উপস্থাপন করার জন্য পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিদ্রুত এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে সভায় আশ্বস্ত করা হয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “এটি যেহেতু খুব উচ্চ প্রযুক্তির এবং একটি জটিল কারিগরি সিস্টেম, তাই এর জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এখানে জনগণের নিরাপত্তার দিকে আমাদের সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। বিদ্যুৎ খাতের অপচয় ও অনিয়ম প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও জানান, বিদ্যুৎ সেক্টরে বিগত সময়ে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্টসমূহ ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সব অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্টের পেছনে কারা দায়ী, তা তদন্ত করে বের করা হবে এবং যথাসময়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সভা শেষে মন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ সেক্টরের টেকসই উন্নয়নে সবাইকে প্রকৃত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত