শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখা ও তাদের সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৩ পুত্রবধূকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন মিলনায়তনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘স্বপ্নকুঁড়ি’ এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সম্মাননাপ্রাপ্ত ৩ পুত্রবধূ হলেন- মোছা. সহিতন নেছা, নাছিমা আক্তার ডলি ও ফেরদৌসী বেগম। ‘পুত্রবধূ ও শ্বশুর-শাশুড়ির ঐকান্তিক অনবদ্য ও চিরায়ত সম্পর্কের বন্ধন’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে তাদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, বর্তমান সমাজে একান্নবর্তী পরিবারের ঐতিহ্য যখন হারিয়ে যাচ্ছে, তখন এই সম্পর্কগুলোকে উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন। যাচাই-বাছাই কমিটি উপজেলার ৪৭ জন পুত্রবধূর মধ্য থেকে এই ৩ জনকে মনোনীত করে।
পুরস্কার পেয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘আমার শ্বশুর আমাকে সব সময় মা বলে ডাকতেন। তার সেবা করাটা আমার কাছে ছিল পরম পাওয়া। এই ভালোবাসা ভেতর থেকে আসে, কাউকে বলে করানো যায় না।’ আরেক সম্মাননাপ্রাপ্ত নাছিমা আক্তার বলেন, ‘শ্বশুর-শাশুড়ির মাঝেই আমি আমার বাবা-মাকে খুঁজে পেয়েছি।’
তবে জীবনযুদ্ধের এক ভিন্ন চিত্র উঠে আসে সহিতন নেছার ক্ষেত্রে। তিনি সকালে ভাতের হোটেল চালিয়ে সারাদিন অসুস্থ শাশুড়ির সেবা করেন। নিজের থাকার ঘর না থাকলেও শাশুড়িকে আগলে রেখেছেন তিনি। অথচ তার শাশুড়ির অন্য সামর্থ্যবান ছেলেরা মায়ের খোঁজ নেন না।
স্বপ্নকুঁড়ির প্রতিষ্ঠাতা আবু সাইদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের শেখ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাথী দাস বলেন, ‘একটা সময় একান্নবর্তী পরিবার ছিল আমাদের সাধারণ সংস্কৃতি। এখন এমন আদর্শ খুঁজে বের করে সম্মাননা দিতে হয়। এই উদ্যোগ অন্যদেরও তাদের শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি যত্নবান হতে অনুপ্রাণিত করবে।’

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখা ও তাদের সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৩ পুত্রবধূকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন মিলনায়তনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘স্বপ্নকুঁড়ি’ এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সম্মাননাপ্রাপ্ত ৩ পুত্রবধূ হলেন- মোছা. সহিতন নেছা, নাছিমা আক্তার ডলি ও ফেরদৌসী বেগম। ‘পুত্রবধূ ও শ্বশুর-শাশুড়ির ঐকান্তিক অনবদ্য ও চিরায়ত সম্পর্কের বন্ধন’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে তাদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, বর্তমান সমাজে একান্নবর্তী পরিবারের ঐতিহ্য যখন হারিয়ে যাচ্ছে, তখন এই সম্পর্কগুলোকে উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন। যাচাই-বাছাই কমিটি উপজেলার ৪৭ জন পুত্রবধূর মধ্য থেকে এই ৩ জনকে মনোনীত করে।
পুরস্কার পেয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘আমার শ্বশুর আমাকে সব সময় মা বলে ডাকতেন। তার সেবা করাটা আমার কাছে ছিল পরম পাওয়া। এই ভালোবাসা ভেতর থেকে আসে, কাউকে বলে করানো যায় না।’ আরেক সম্মাননাপ্রাপ্ত নাছিমা আক্তার বলেন, ‘শ্বশুর-শাশুড়ির মাঝেই আমি আমার বাবা-মাকে খুঁজে পেয়েছি।’
তবে জীবনযুদ্ধের এক ভিন্ন চিত্র উঠে আসে সহিতন নেছার ক্ষেত্রে। তিনি সকালে ভাতের হোটেল চালিয়ে সারাদিন অসুস্থ শাশুড়ির সেবা করেন। নিজের থাকার ঘর না থাকলেও শাশুড়িকে আগলে রেখেছেন তিনি। অথচ তার শাশুড়ির অন্য সামর্থ্যবান ছেলেরা মায়ের খোঁজ নেন না।
স্বপ্নকুঁড়ির প্রতিষ্ঠাতা আবু সাইদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের শেখ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাথী দাস বলেন, ‘একটা সময় একান্নবর্তী পরিবার ছিল আমাদের সাধারণ সংস্কৃতি। এখন এমন আদর্শ খুঁজে বের করে সম্মাননা দিতে হয়। এই উদ্যোগ অন্যদেরও তাদের শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি যত্নবান হতে অনুপ্রাণিত করবে।’

আপনার মতামত লিখুন