গ্রাহকের অজান্তেই ক্রেডিট কার্ড উত্তোলন করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত সারোয়ার হোসেন (৪০) বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি স্বনামধন্য ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ওই ব্যাংকে সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস) পদে কর্মরত ছিলেন সারোয়ার হোসেন। তখন এক গ্রাহক তার নামে ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর আবেদন করেন। পরে প্রয়োজন না হওয়ায় ওই গ্রাহক কার্ডটি ব্যাংকে ফেরত দেন।
কিন্তু সারোয়ার হোসেন কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। তিনি ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন। ফলে সব ওটিপি (এককালীন পাসওয়ার্ড) পৌঁছাতে থাকে তার কাছে। পরে তিনি সেই কার্ড ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে নানা আর্থিক লেনদেন করেন।
সিআইডি জানায়, ২০১৭ সালের শেষ থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকের অজ্ঞাতে কার্ডটি ব্যবহার করে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকা লেনদেন করা হয়। পরে মোট লেনদেনের বিপরীতে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও সুদ ও অন্যান্য খরসহ বাকি থাকে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সম্প্রতি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদন থেকে জানতে পারেন, তার নামে ঋণ রয়েছে। তিনি কোনো ঋণ না নেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানান। পরে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় গ্রাহকের আস্থার অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেন সারোয়ার। ২০১৯ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু তার পরেও ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন চালিয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
গত ৮ জুন বিকেলে ঢাকার গুলশানের কমার্শিয়াল কোভ ভবন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির একটি আভিযানিক দল।
এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে সিআইডি।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
গ্রাহকের অজান্তেই ক্রেডিট কার্ড উত্তোলন করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত সারোয়ার হোসেন (৪০) বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি স্বনামধন্য ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ওই ব্যাংকে সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস) পদে কর্মরত ছিলেন সারোয়ার হোসেন। তখন এক গ্রাহক তার নামে ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর আবেদন করেন। পরে প্রয়োজন না হওয়ায় ওই গ্রাহক কার্ডটি ব্যাংকে ফেরত দেন।
কিন্তু সারোয়ার হোসেন কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। তিনি ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন। ফলে সব ওটিপি (এককালীন পাসওয়ার্ড) পৌঁছাতে থাকে তার কাছে। পরে তিনি সেই কার্ড ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে নানা আর্থিক লেনদেন করেন।
সিআইডি জানায়, ২০১৭ সালের শেষ থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকের অজ্ঞাতে কার্ডটি ব্যবহার করে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকা লেনদেন করা হয়। পরে মোট লেনদেনের বিপরীতে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও সুদ ও অন্যান্য খরসহ বাকি থাকে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সম্প্রতি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদন থেকে জানতে পারেন, তার নামে ঋণ রয়েছে। তিনি কোনো ঋণ না নেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানান। পরে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় গ্রাহকের আস্থার অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেন সারোয়ার। ২০১৯ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু তার পরেও ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন চালিয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
গত ৮ জুন বিকেলে ঢাকার গুলশানের কমার্শিয়াল কোভ ভবন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির একটি আভিযানিক দল।
এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে সিআইডি।

আপনার মতামত লিখুন