সংবাদ

ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে ‘মুলতবি নয়’, রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল টিম


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে ‘মুলতবি নয়’, রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল টিম
ছবি : সংগৃহীত

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে  রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে সময়ের কোনো আবেদন বা মুলতবি চাওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল  রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলাসহ এসব ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য নিজের নেতৃত্বে একটি ‘স্পেশাল টিম’ গঠন করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে স্পেশাল টিমের সদস্যরা হলেন- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী,  মেহেদী হাসান, জামিউল হক ফয়সাল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপন।

তিনি বলেন, " প্রধান বিচারপতি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফার্মেশনের রেফারেন্স এবং এই ধরনের মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকে কোনো ফৌজদারি আপিল শুনানির জন্য  একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন।"

সুপ্রিম কোর্টের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন থেকে এই বিশেষ বেঞ্চ কার্যকর হবে এবং রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিচারকাজ শুরু হবে বলে জানান রুহুল কুদ্দুস কাজল।

শিশু রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "দ্রুত পেপারবুক সম্পন্ন হয়ে গেলে আমরা প্রত্যাশা করতে পারি হয়তো রবিবারেই তালিকার মধ্যে এই মামলাটিও আসতে পারে।"

এই মামলাগুলো পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের নিয়ে স্পেশাল টিম গঠন করা হয়েছে।

প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, “শুক্রবার এবং শনিবার বন্ধের দুই দিন তারা মামলাটা স্টাডি করবেন, আর্গুমেন্ট তৈরি করবেন, যাতে রবিবার থেকে আমরা আদালতকে ইফেক্টিভলি সহায়তা করতে পারি।” "এখানে সবাই আমার নেতৃত্বেই থাকবেন এবং প্রত্যেকটা মামলায় আমার উপস্থিতি থাকবে। আমি নিজেই এই মামলাগুলোর আর্গুমেন্ট করব" যোগ করেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা।

মামলার দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে কাজল বলেন, “আমাদের অফিসের পক্ষ থেকে কোনো আইন কর্মকর্তা কোনো রকমের কোনো মামলায় মুলতবি (সময় প্রার্থনা) গ্রহণ করবেন না।আমার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ভাষায় আমাদের আইন কর্মকর্তাদেরকে বলে দিয়েছি এবং আমি নিজে কোনো মামলায় আমাদের পক্ষ থেকে মুলতবি চাইব না।"

তিনি  বলেন, "যেকোনো মামলায় মুলতবি চেয়ে মামলা বিলম্ব করার যে প্রবণতা অনেকের মধ্যে কাজ করে, এই ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে সেটি কাজ করবে না।"

রামিসা হত্যা মামলাসহ সাম্প্রতিক কিছু মামলার ‘তড়িঘড়ি বিচার’ নিয়ে সাবেক কয়েকজন বিচারপতির আশঙ্কা এবং মিডিয়া ট্রায়ালের প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এমন আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, "আমি এটা মনে করি না। একটা বিচার তো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই চলে। রাষ্ট্রের যেমন কোনো ব্যক্তির বিচার করার অধিকার আছে, একইভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিও যেন আইনের সমান সুযোগ লাভ করেন, সেটাও দেখতে হবে।"

তিনি বলেন, "সংবিধানেও কিন্তু দ্রুত বিচার প্রাপ্তি প্রত্যেকের একটি সাংবিধানিক অধিকার। যিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তার পরিবার দেখতে চায় হত্যাকারী আইনের মুখোমুখি হয়েছে। এই মামলাটি তড়িঘড়ি বলতে কী বোঝান আপনি আর বিলম্ব বলতে কী বোঝায়? এর তো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নাই।"

বিচার প্রক্রিয়ার সকল ধাপ পার করেই রায় হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, "আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে, তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, দোষ স্বীকার করেছেন। সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সকল মামলার ক্ষেত্রে যে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া, এই মামলাতেও তা পরিচালিত হয়েছে।"

"সুতরাং আইন অনুযায়ী যদি সঠিক প্রয়োগ হয়, তাহলে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের দায়িত্ব দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেওয়া এবং নিরাপরাধ ব্যক্তিদের মুক্ত করা," যোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল

এর আগে গতকাল (বুধবার) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। 

সুপ্রিম কোর্টের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এই বিশেষ বেঞ্চের বিচারকাজ শুরু হবে।

বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত হাইকোর্ট বিভাগের ১৪৩নং গঠনবিধিতে বলা হয়েছে, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ একত্রে বসবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে ‘মুলতবি নয়’, রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল টিম

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে  রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে সময়ের কোনো আবেদন বা মুলতবি চাওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল  রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলাসহ এসব ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য নিজের নেতৃত্বে একটি ‘স্পেশাল টিম’ গঠন করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে স্পেশাল টিমের সদস্যরা হলেন- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী,  মেহেদী হাসান, জামিউল হক ফয়সাল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপন।

তিনি বলেন, " প্রধান বিচারপতি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফার্মেশনের রেফারেন্স এবং এই ধরনের মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকে কোনো ফৌজদারি আপিল শুনানির জন্য  একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন।"

সুপ্রিম কোর্টের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন থেকে এই বিশেষ বেঞ্চ কার্যকর হবে এবং রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিচারকাজ শুরু হবে বলে জানান রুহুল কুদ্দুস কাজল।

শিশু রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "দ্রুত পেপারবুক সম্পন্ন হয়ে গেলে আমরা প্রত্যাশা করতে পারি হয়তো রবিবারেই তালিকার মধ্যে এই মামলাটিও আসতে পারে।"

এই মামলাগুলো পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের নিয়ে স্পেশাল টিম গঠন করা হয়েছে।

প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, “শুক্রবার এবং শনিবার বন্ধের দুই দিন তারা মামলাটা স্টাডি করবেন, আর্গুমেন্ট তৈরি করবেন, যাতে রবিবার থেকে আমরা আদালতকে ইফেক্টিভলি সহায়তা করতে পারি।” "এখানে সবাই আমার নেতৃত্বেই থাকবেন এবং প্রত্যেকটা মামলায় আমার উপস্থিতি থাকবে। আমি নিজেই এই মামলাগুলোর আর্গুমেন্ট করব" যোগ করেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা।

মামলার দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে কাজল বলেন, “আমাদের অফিসের পক্ষ থেকে কোনো আইন কর্মকর্তা কোনো রকমের কোনো মামলায় মুলতবি (সময় প্রার্থনা) গ্রহণ করবেন না।আমার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ভাষায় আমাদের আইন কর্মকর্তাদেরকে বলে দিয়েছি এবং আমি নিজে কোনো মামলায় আমাদের পক্ষ থেকে মুলতবি চাইব না।"

তিনি  বলেন, "যেকোনো মামলায় মুলতবি চেয়ে মামলা বিলম্ব করার যে প্রবণতা অনেকের মধ্যে কাজ করে, এই ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে সেটি কাজ করবে না।"

রামিসা হত্যা মামলাসহ সাম্প্রতিক কিছু মামলার ‘তড়িঘড়ি বিচার’ নিয়ে সাবেক কয়েকজন বিচারপতির আশঙ্কা এবং মিডিয়া ট্রায়ালের প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এমন আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, "আমি এটা মনে করি না। একটা বিচার তো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই চলে। রাষ্ট্রের যেমন কোনো ব্যক্তির বিচার করার অধিকার আছে, একইভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিও যেন আইনের সমান সুযোগ লাভ করেন, সেটাও দেখতে হবে।"

তিনি বলেন, "সংবিধানেও কিন্তু দ্রুত বিচার প্রাপ্তি প্রত্যেকের একটি সাংবিধানিক অধিকার। যিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তার পরিবার দেখতে চায় হত্যাকারী আইনের মুখোমুখি হয়েছে। এই মামলাটি তড়িঘড়ি বলতে কী বোঝান আপনি আর বিলম্ব বলতে কী বোঝায়? এর তো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নাই।"

বিচার প্রক্রিয়ার সকল ধাপ পার করেই রায় হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, "আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে, তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, দোষ স্বীকার করেছেন। সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সকল মামলার ক্ষেত্রে যে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া, এই মামলাতেও তা পরিচালিত হয়েছে।"

"সুতরাং আইন অনুযায়ী যদি সঠিক প্রয়োগ হয়, তাহলে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের দায়িত্ব দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেওয়া এবং নিরাপরাধ ব্যক্তিদের মুক্ত করা," যোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল

এর আগে গতকাল (বুধবার) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। 

সুপ্রিম কোর্টের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এই বিশেষ বেঞ্চের বিচারকাজ শুরু হবে।

বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত হাইকোর্ট বিভাগের ১৪৩নং গঠনবিধিতে বলা হয়েছে, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ একত্রে বসবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত