বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শেষে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যে বিশেষ টুপিটি পরেন, সেটি কেন চারকোনা — এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই জাগে। এই টুপির পেছনে রয়েছে শতাব্দীর পুরনো এক আকর্ষণীয় ইতিহাস।
সমাবর্তন
অনুষ্ঠানে 'আপনারা এখন স্নাতক' ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা টুপির ঝুলন্ত ফিতা
বা ট্যাসেল ডান দিক থেকে বাঁ দিকে সরান। এই আনুষ্ঠানিক কাজটির মাধ্যমেই ডিগ্রি
অর্জনের বিষয়টি সরকারিভাবে স্বীকৃত হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা একে একে টুপি আকাশে
ছুড়ে দেন, যা পরিবারের সামনে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্তগুলোর একটি
হয়ে ওঠে। এই টুপিটিকে বলা হয় মর্টারবোর্ড ক্যাপ।
চারকোনা
হওয়ার কারণ
মর্টারবোর্ড
ক্যাপের জন্ম ষোড়শ শতাব্দীতে ইতালিতে। ক্যাথলিক যাজকদের 'বাইরেটা' নামক টুপি থেকে
অনুপ্রাণিত হয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল, যা চতুর্দশ শতাব্দী থেকেই গির্জার পণ্ডিত ও
যাজকরা পরতেন। তবে সেই আমলের টুপিগুলো আজকের মতো চারকোনা ছিল না, বরং ওপরে তিনটি
উঁচু অংশ ও মাঝে সুতার গুচ্ছ থাকত।
১৬৬০ সালে
রাজা দ্বিতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের সিংহাসনে আসীন হলে যাজক ও পণ্ডিতরা তাঁর প্রতি
শ্রদ্ধা জানাতে টুপির ওপরের অংশ ক্রমশ বড় করতে থাকেন। একপর্যায়ে অংশটি এতটাই বড়
হয়ে যায় যে সেটি সমতল রাখতে ভেতরে শক্ত কিছু দিয়ে সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন
পড়ে। এভাবেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় আজকের চারকোনা ও সমতল মর্টারবোর্ড ক্যাপ।
মর্টারবোর্ড
নামের উৎপত্তি
টুপিটির নাম
এসেছে এর আকৃতি থেকে। নির্মাণশ্রমিকরা গাঁথুনির মসলা বহনে যে সমতল বর্গাকার কাঠের
তক্তা ব্যবহার করেন, টুপির ওপরের অংশটি দেখতে হুবহু তার মতো। ঊনবিংশ শতাব্দীর
মাঝামাঝিতে অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা ঠাট্টার ছলে এর নাম দেন মর্টারবোর্ড। সেই
নামই পরে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।
বিশ্বজুড়ে
ছড়িয়ে পড়ার গল্প
সপ্তদশ
শতাব্দীতে অক্সফোর্ডে এই টুপি ও গাউন পরা বাধ্যতামূলক ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীরা
গোল টুপি পরতেন, আর উচ্চতর ডিগ্রিধারীরাই কেবল চারকোনা টুপি পরার অধিকার পেতেন।
১৬৭৫ সালের দিকে ধনী পরিবারের সাধারণ স্নাতকদেরও এই টুপি পরার সুযোগ দেওয়া হয়
এবং এটি উচ্চশিক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়।
পরে যুক্তরাষ্ট্রে
নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার সময় অক্সফোর্ড-কেমব্রিজের আদলে এই পোশাকের ঐতিহ্যও
গ্রহণ করা হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে এই টুপি পরার প্রচলন ছড়িয়ে
পড়ে। ট্যাসেল ডান থেকে বাঁয়ে সরানোর প্রথাটিও প্রায় ১০০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে
শুরু হয়, যা আজও বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের বিশ্ববিদ্যালয় মেনে চলে।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শেষে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যে বিশেষ টুপিটি পরেন, সেটি কেন চারকোনা — এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই জাগে। এই টুপির পেছনে রয়েছে শতাব্দীর পুরনো এক আকর্ষণীয় ইতিহাস।
সমাবর্তন
অনুষ্ঠানে 'আপনারা এখন স্নাতক' ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা টুপির ঝুলন্ত ফিতা
বা ট্যাসেল ডান দিক থেকে বাঁ দিকে সরান। এই আনুষ্ঠানিক কাজটির মাধ্যমেই ডিগ্রি
অর্জনের বিষয়টি সরকারিভাবে স্বীকৃত হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা একে একে টুপি আকাশে
ছুড়ে দেন, যা পরিবারের সামনে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্তগুলোর একটি
হয়ে ওঠে। এই টুপিটিকে বলা হয় মর্টারবোর্ড ক্যাপ।
চারকোনা
হওয়ার কারণ
মর্টারবোর্ড
ক্যাপের জন্ম ষোড়শ শতাব্দীতে ইতালিতে। ক্যাথলিক যাজকদের 'বাইরেটা' নামক টুপি থেকে
অনুপ্রাণিত হয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল, যা চতুর্দশ শতাব্দী থেকেই গির্জার পণ্ডিত ও
যাজকরা পরতেন। তবে সেই আমলের টুপিগুলো আজকের মতো চারকোনা ছিল না, বরং ওপরে তিনটি
উঁচু অংশ ও মাঝে সুতার গুচ্ছ থাকত।
১৬৬০ সালে
রাজা দ্বিতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের সিংহাসনে আসীন হলে যাজক ও পণ্ডিতরা তাঁর প্রতি
শ্রদ্ধা জানাতে টুপির ওপরের অংশ ক্রমশ বড় করতে থাকেন। একপর্যায়ে অংশটি এতটাই বড়
হয়ে যায় যে সেটি সমতল রাখতে ভেতরে শক্ত কিছু দিয়ে সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন
পড়ে। এভাবেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় আজকের চারকোনা ও সমতল মর্টারবোর্ড ক্যাপ।
মর্টারবোর্ড
নামের উৎপত্তি
টুপিটির নাম
এসেছে এর আকৃতি থেকে। নির্মাণশ্রমিকরা গাঁথুনির মসলা বহনে যে সমতল বর্গাকার কাঠের
তক্তা ব্যবহার করেন, টুপির ওপরের অংশটি দেখতে হুবহু তার মতো। ঊনবিংশ শতাব্দীর
মাঝামাঝিতে অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা ঠাট্টার ছলে এর নাম দেন মর্টারবোর্ড। সেই
নামই পরে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।
বিশ্বজুড়ে
ছড়িয়ে পড়ার গল্প
সপ্তদশ
শতাব্দীতে অক্সফোর্ডে এই টুপি ও গাউন পরা বাধ্যতামূলক ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীরা
গোল টুপি পরতেন, আর উচ্চতর ডিগ্রিধারীরাই কেবল চারকোনা টুপি পরার অধিকার পেতেন।
১৬৭৫ সালের দিকে ধনী পরিবারের সাধারণ স্নাতকদেরও এই টুপি পরার সুযোগ দেওয়া হয়
এবং এটি উচ্চশিক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়।
পরে যুক্তরাষ্ট্রে
নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার সময় অক্সফোর্ড-কেমব্রিজের আদলে এই পোশাকের ঐতিহ্যও
গ্রহণ করা হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে এই টুপি পরার প্রচলন ছড়িয়ে
পড়ে। ট্যাসেল ডান থেকে বাঁয়ে সরানোর প্রথাটিও প্রায় ১০০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে
শুরু হয়, যা আজও বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের বিশ্ববিদ্যালয় মেনে চলে।

আপনার মতামত লিখুন