প্রায় ১৩ বছর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত ‘খুলনা শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও কেন এতদিন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, তা উদঘাটন করতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই দীর্ঘ বিলম্বের পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার
(৯ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী এই
নির্দেশনা দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব
করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এই সভায় মোট
৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭
লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত
১০টি উন্নয়ন প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত
প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে
সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০
কোটি ৬২ লাখ টাকা
এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৮০
কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
১০টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি নতুন, তিনটি সংশোধিত এবং দুটি মেয়াদ
বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্প রয়েছে।
বৈঠক
শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী
সাংবাদিকদের জানান, ‘১২ বছরেও খুলনা
শিপইয়ার্ড উন্নয়ন প্রকল্পটি দফায় দফায় বাড়ানো
হয়েছে। কিন্তু কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন হয়নি কেন, তা
তদন্ত করে কারা কারা
এর সাথে জড়িত তাদের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয়
নির্দেশনা দিয়েছেন।’
খুলনা
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটির প্রাথমিক
মেয়াদ ছিল মাত্র ২
বছর। ২০১৩ সালের জুলাই
মাসে একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর ৯৮ কোটি
৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে
২০১৫ সালের জুনে প্রকল্পটির কাজ
শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু
নির্ধারিত সময়ে কাজই শুরু
করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা। পরবর্তীতে দফায় দফায় এর
মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রথম ও
দ্বিতীয় দফায় যথাক্রমে ১
বছর ও ২ বছর
সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে
কাজ শেষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যপূরণ
না হওয়ায় ধাপে ধাপে সপ্তম
দফা পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন
পর্যন্ত করা হয়। সপ্তম
মেয়াদেও কাজের ভৌত অগ্রগতি মাত্র
৭০ শতাংশ হওয়ায়, বাকি কাজ শেষ
করতে অষ্টম ধাপে গত বছরের
ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।
নথিপত্র
অনুযায়ী, দীর্ঘ বিলম্বের পর ২০২২ সালের
২২ জানুয়ারি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল।
সাড়ে তিন বছরের অধিক
সময়ে মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ
শেষ করার পর সংশ্লিষ্ট
যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আতাউর রহমান লিমিটেড’ ও ‘মাহাবুব ব্রাদার্স
প্রাইভেট লিমিটেড’ বিল উত্তোলন করে
লাপাত্তা হয়ে যায়। সড়ক
সংস্কারের কাজ দীর্ঘদিন ধরে
ফেলে রাখায় গত বছরের ৭
আগস্ট তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়
কর্তৃপক্ষ।
মেয়াদের
পাশাপাশি প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। প্রথমবার প্রকল্পটির ব্যয় ২৮ কোটি
টাকা এবং দ্বিতীয়বারে ১৩২
কোটি টাকা বাড়ানো হয়।
এতে মূল ৯৮ কোটি
৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের
ব্যয় এসে দাঁড়ায় ২৫৯
কোটি টাকায়। পরবর্তীতে ব্যয় কিছুটা কমিয়ে
২৫৪ কোটি টাকা পুনর্নিধারণ
করা হয়।
বৈঠকে
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা
মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ
চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ
মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন,
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ
ইয়াসিন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী
আ ন ম এহছানুল
হক মিলন, সড়ক পরিবহন ও
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন বিভাগের
সচিবগণও উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
প্রায় ১৩ বছর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত ‘খুলনা শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও কেন এতদিন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, তা উদঘাটন করতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই দীর্ঘ বিলম্বের পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার
(৯ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী এই
নির্দেশনা দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব
করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এই সভায় মোট
৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭
লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত
১০টি উন্নয়ন প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত
প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে
সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০
কোটি ৬২ লাখ টাকা
এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৮০
কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
১০টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি নতুন, তিনটি সংশোধিত এবং দুটি মেয়াদ
বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্প রয়েছে।
বৈঠক
শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী
সাংবাদিকদের জানান, ‘১২ বছরেও খুলনা
শিপইয়ার্ড উন্নয়ন প্রকল্পটি দফায় দফায় বাড়ানো
হয়েছে। কিন্তু কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন হয়নি কেন, তা
তদন্ত করে কারা কারা
এর সাথে জড়িত তাদের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয়
নির্দেশনা দিয়েছেন।’
খুলনা
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটির প্রাথমিক
মেয়াদ ছিল মাত্র ২
বছর। ২০১৩ সালের জুলাই
মাসে একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর ৯৮ কোটি
৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে
২০১৫ সালের জুনে প্রকল্পটির কাজ
শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু
নির্ধারিত সময়ে কাজই শুরু
করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা। পরবর্তীতে দফায় দফায় এর
মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রথম ও
দ্বিতীয় দফায় যথাক্রমে ১
বছর ও ২ বছর
সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে
কাজ শেষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যপূরণ
না হওয়ায় ধাপে ধাপে সপ্তম
দফা পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন
পর্যন্ত করা হয়। সপ্তম
মেয়াদেও কাজের ভৌত অগ্রগতি মাত্র
৭০ শতাংশ হওয়ায়, বাকি কাজ শেষ
করতে অষ্টম ধাপে গত বছরের
ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।
নথিপত্র
অনুযায়ী, দীর্ঘ বিলম্বের পর ২০২২ সালের
২২ জানুয়ারি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল।
সাড়ে তিন বছরের অধিক
সময়ে মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ
শেষ করার পর সংশ্লিষ্ট
যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আতাউর রহমান লিমিটেড’ ও ‘মাহাবুব ব্রাদার্স
প্রাইভেট লিমিটেড’ বিল উত্তোলন করে
লাপাত্তা হয়ে যায়। সড়ক
সংস্কারের কাজ দীর্ঘদিন ধরে
ফেলে রাখায় গত বছরের ৭
আগস্ট তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়
কর্তৃপক্ষ।
মেয়াদের
পাশাপাশি প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। প্রথমবার প্রকল্পটির ব্যয় ২৮ কোটি
টাকা এবং দ্বিতীয়বারে ১৩২
কোটি টাকা বাড়ানো হয়।
এতে মূল ৯৮ কোটি
৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের
ব্যয় এসে দাঁড়ায় ২৫৯
কোটি টাকায়। পরবর্তীতে ব্যয় কিছুটা কমিয়ে
২৫৪ কোটি টাকা পুনর্নিধারণ
করা হয়।
বৈঠকে
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা
মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ
চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ
মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন,
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ
ইয়াসিন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী
আ ন ম এহছানুল
হক মিলন, সড়ক পরিবহন ও
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন বিভাগের
সচিবগণও উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন