ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের বড় একটা অংশ জুড়ে ইকুয়েডরের সমর্থকরা হলুদ সমুদ্র তৈরি করেছিলেন। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই চেলসির মিডফিল্ডার মইসেস কাইসেদো প্রথম শট নেন, যদিও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শুরুর দিকে ইকুয়েডর আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি।
১০ মিনিটে এনার ভ্যালেন্সিয়া একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। হিনকাপিয়ের নিচু ক্রস বক্সের ভেতর পেয়েও তিনি বল গ্যালারিতে উড়িয়ে মারেন। ২৩ মিনিটে জন ইয়েবোয়া প্রায় অবিশ্বাস্য এক গোল করে ফেলেছিলেন। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার আগবাদুর ভুলে বল কেড়ে নিয়ে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার সেই অসাধারণ প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
এরপর ৩০ মিনিটে আবারও ক্রসবারে আঘাত হানে ইকুয়েডর। কাইসেদোর দারুণ প্রেসিং থেকে বল পেয়ে ভিতে নিখুঁত পাস বাড়ান অ্যালান মিন্দার উদ্দেশে। প্রথম ছোঁয়ায় নেওয়া মিন্দার শট গোলকিপারকে পরাস্ত করলেও বারই সেবার বাঁচিয়ে দেয় আইভরি কোস্টকে।
অন্যদিকে আইভরি কোস্টও ছেড়ে কথা বলেনি। ১৭ মিনিটে কেসিয়ের পাস থেকে তোরের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৩৫ মিনিটে নিকোলাস পেপের জোরালো প্রচেষ্টা নিজের জীবন বাজি রেখে ব্লক করেন অ্যালান ফ্রাঙ্কো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আইভরিয়ানরা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে উইলফ্রিড সিঙ্গোর দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে বিরতিতে দুই দলই গোলশূন্য অবস্থায় মাঠ ছাড়ে। বিরতির সময় অপটা সুপারকম্পিউটার এই ম্যাচের ড্রয়ের সম্ভাবনা ৩৭.৯ শতাংশ দেখিয়েছিল, যা পরিসংখ্যানের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নাটকীয়তা কমেনি। ৪৬ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়া অসম্ভব কোণ থেকে শট নিয়ে সাইডনেটে বল জড়ান। ৫২ মিনিটে আবার ক্রসবার কাঁপায় আইভরি কোস্ট। দিয়োমান্দের ক্রস থেকে এলিয়ে ওয়াহির কাছের পোস্টের শট বারে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচে এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো ক্রসবারে বল লাগার ঘটনা। ৬৮ মিনিটে ইকুয়েডর গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়, তবে প্লাতার শক্তিশালী বাঁকানো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা।
ম্যাচটি যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন বদলি নামা আমাদ দিয়ালো। ৯০ মিনিটে ডিফেন্ডার উইলফ্রিড সিঙ্গো নিজের অর্ধে বল পেয়ে ডান দিক দিয়ে দ্রুত ওপরে উঠে আসেন।
তার নিখুঁত কাটব্যাক বক্সের প্রান্তে অপেক্ষমাণ আমাদের কাছে পৌঁছালে, এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বাম পায়ের শটে বল জালের নিচের বাম কোণে জড়িয়ে দেন। ইকুয়েডরের গোলরক্ষক গালিন্দেজের তখন চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে ইকুয়েডর। যোগ করা সময়ে কর্নার আদায় করে তারা শেষ চেষ্টা চালালেও কসোনুর দৃঢ় রক্ষণ এবং আইভরিয়ানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ডিফেন্স সেই আক্রমণ সামলে নেয়।
শেষ পর্যন্ত রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আইভরি কোস্ট শিবির, আর সুযোগ নষ্টের আক্ষেপে মাঠ ছাড়তে হয় ইকুয়েডরকে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের বড় একটা অংশ জুড়ে ইকুয়েডরের সমর্থকরা হলুদ সমুদ্র তৈরি করেছিলেন। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই চেলসির মিডফিল্ডার মইসেস কাইসেদো প্রথম শট নেন, যদিও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শুরুর দিকে ইকুয়েডর আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি।
১০ মিনিটে এনার ভ্যালেন্সিয়া একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। হিনকাপিয়ের নিচু ক্রস বক্সের ভেতর পেয়েও তিনি বল গ্যালারিতে উড়িয়ে মারেন। ২৩ মিনিটে জন ইয়েবোয়া প্রায় অবিশ্বাস্য এক গোল করে ফেলেছিলেন। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার আগবাদুর ভুলে বল কেড়ে নিয়ে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার সেই অসাধারণ প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
এরপর ৩০ মিনিটে আবারও ক্রসবারে আঘাত হানে ইকুয়েডর। কাইসেদোর দারুণ প্রেসিং থেকে বল পেয়ে ভিতে নিখুঁত পাস বাড়ান অ্যালান মিন্দার উদ্দেশে। প্রথম ছোঁয়ায় নেওয়া মিন্দার শট গোলকিপারকে পরাস্ত করলেও বারই সেবার বাঁচিয়ে দেয় আইভরি কোস্টকে।
অন্যদিকে আইভরি কোস্টও ছেড়ে কথা বলেনি। ১৭ মিনিটে কেসিয়ের পাস থেকে তোরের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৩৫ মিনিটে নিকোলাস পেপের জোরালো প্রচেষ্টা নিজের জীবন বাজি রেখে ব্লক করেন অ্যালান ফ্রাঙ্কো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আইভরিয়ানরা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে উইলফ্রিড সিঙ্গোর দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে বিরতিতে দুই দলই গোলশূন্য অবস্থায় মাঠ ছাড়ে। বিরতির সময় অপটা সুপারকম্পিউটার এই ম্যাচের ড্রয়ের সম্ভাবনা ৩৭.৯ শতাংশ দেখিয়েছিল, যা পরিসংখ্যানের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নাটকীয়তা কমেনি। ৪৬ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়া অসম্ভব কোণ থেকে শট নিয়ে সাইডনেটে বল জড়ান। ৫২ মিনিটে আবার ক্রসবার কাঁপায় আইভরি কোস্ট। দিয়োমান্দের ক্রস থেকে এলিয়ে ওয়াহির কাছের পোস্টের শট বারে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচে এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো ক্রসবারে বল লাগার ঘটনা। ৬৮ মিনিটে ইকুয়েডর গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়, তবে প্লাতার শক্তিশালী বাঁকানো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা।
ম্যাচটি যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন বদলি নামা আমাদ দিয়ালো। ৯০ মিনিটে ডিফেন্ডার উইলফ্রিড সিঙ্গো নিজের অর্ধে বল পেয়ে ডান দিক দিয়ে দ্রুত ওপরে উঠে আসেন।
তার নিখুঁত কাটব্যাক বক্সের প্রান্তে অপেক্ষমাণ আমাদের কাছে পৌঁছালে, এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বাম পায়ের শটে বল জালের নিচের বাম কোণে জড়িয়ে দেন। ইকুয়েডরের গোলরক্ষক গালিন্দেজের তখন চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে ইকুয়েডর। যোগ করা সময়ে কর্নার আদায় করে তারা শেষ চেষ্টা চালালেও কসোনুর দৃঢ় রক্ষণ এবং আইভরিয়ানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ডিফেন্স সেই আক্রমণ সামলে নেয়।
শেষ পর্যন্ত রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আইভরি কোস্ট শিবির, আর সুযোগ নষ্টের আক্ষেপে মাঠ ছাড়তে হয় ইকুয়েডরকে।

আপনার মতামত লিখুন