সংবাদ

বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যতে সিলিকন ভ্যালিতে নতুন বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যতে সিলিকন ভ্যালিতে নতুন বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব

বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ‘বিএসআইএ সিলিকন রিভার যুক্তরাষ্ট্র রোডশো ২০২৬’ এর সিলিকন ভ্যালি পর্ব। সফরজুড়ে বিশ্বের শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সিলিকন রিভার বাংলাদেশের প্রধান স্থপতি ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসেইন। সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি ‘ন্যাশন অব ইনোভেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

৯ জুন প্রতিনিধিদল সানডিস্কের সদর দপ্তর পরিদর্শন করে। সেখানে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাট ক্রাউলি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট দীপাংশু দত্তের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর জনশক্তি উন্নয়ন, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং ও টেস্টিং, স্টোরেজ সিস্টেম ভ্যালিডেশন, রিলায়েবিলিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, এআই-চালিত অবকাঠামো এবং যৌথ গবেষণার মতো খাতে পাঁচ বছরের সহযোগিতার রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এর অংশ হিসেবে সম্ভাব্য সহযোগিতা মূল্যায়নের জন্য সানডিস্ক একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করেছে।

এরপর প্রতিনিধিদল গ্লোবাল ফাউন্ড্রিজ পরিদর্শন করে। সেখানে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, এআই, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও উন্নত ইলেকট্রনিক্স খাতে তাদের সক্ষমতা উপস্থাপন করে। বৈঠকের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দুটি বাংলাদেশি কোম্পানিকে গ্লোবাল ফাউন্ড্রিজের প্রাইমারি ভেন্ডর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাশাপাশি অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং, বায়োইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

১০ জুন প্রতিনিধিদল সিনোপসিসের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে ৩ হাজার ৫০০ প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ডিজাইন কিট (এমডিকে) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অগ্রগতি হয়। সিনোপসিস জানায়, তারা বিয়ার সামিট ২০২৬ এ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠাবে এবং বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য গবেষণা অংশগ্রহণ সহজ করতে কাজ করবে।

পরবর্তীতে ক্রেডো টেকনোলজি, ইন্টেল ও আর্মের সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় উচ্চগতির সংযোগ প্রযুক্তি, এআই-ভিত্তিক কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন এবং দক্ষ জনবল উন্নয়ন গুরুত্ব পায়। ইন্টেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ সেশনে বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন এবং দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সফরের অংশ হিসেবে ইউসি ব্র্যাকলে স্কাইডেকে বৈঠকে বাংলাদেশি স্টার্টআপদের জন্য প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংযোগ এবং ইনোভেশন শোকেস আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এছাড়া ওয়াইইএস (ইয়েল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সিস্টেমস) এর সঙ্গে বৈঠকে উৎপাদন সক্ষমতা, ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি এবং উন্নত প্যাকেজিং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

স্যাক্রামেন্টোতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রবাসী সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবীরা ‘ব্রেইনগেইন’ উদ্যোগে যুক্ত হয়ে মেন্টরশিপ, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

সফর শেষে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকোয়েট রিসেপশনে বিভিন্ন বৈশ্বিক কোম্পানির প্রতিনিধি ও বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতকে বৈশ্বিক ইকোসিস্টেমে আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

বিএসআইএ জানায়, সিলিকন রিভার, ব্রেইনগেইন, ক্রেস্ট, এসআইসিআইপি, সারা এবং বিয়ার সামিটের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যতে সিলিকন ভ্যালিতে নতুন বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ‘বিএসআইএ সিলিকন রিভার যুক্তরাষ্ট্র রোডশো ২০২৬’ এর সিলিকন ভ্যালি পর্ব। সফরজুড়ে বিশ্বের শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সিলিকন রিভার বাংলাদেশের প্রধান স্থপতি ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসেইন। সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি ‘ন্যাশন অব ইনোভেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

৯ জুন প্রতিনিধিদল সানডিস্কের সদর দপ্তর পরিদর্শন করে। সেখানে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাট ক্রাউলি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট দীপাংশু দত্তের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর জনশক্তি উন্নয়ন, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং ও টেস্টিং, স্টোরেজ সিস্টেম ভ্যালিডেশন, রিলায়েবিলিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, এআই-চালিত অবকাঠামো এবং যৌথ গবেষণার মতো খাতে পাঁচ বছরের সহযোগিতার রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এর অংশ হিসেবে সম্ভাব্য সহযোগিতা মূল্যায়নের জন্য সানডিস্ক একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করেছে।

এরপর প্রতিনিধিদল গ্লোবাল ফাউন্ড্রিজ পরিদর্শন করে। সেখানে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, এআই, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও উন্নত ইলেকট্রনিক্স খাতে তাদের সক্ষমতা উপস্থাপন করে। বৈঠকের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দুটি বাংলাদেশি কোম্পানিকে গ্লোবাল ফাউন্ড্রিজের প্রাইমারি ভেন্ডর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাশাপাশি অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং, বায়োইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

১০ জুন প্রতিনিধিদল সিনোপসিসের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে ৩ হাজার ৫০০ প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ডিজাইন কিট (এমডিকে) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অগ্রগতি হয়। সিনোপসিস জানায়, তারা বিয়ার সামিট ২০২৬ এ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠাবে এবং বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য গবেষণা অংশগ্রহণ সহজ করতে কাজ করবে।

পরবর্তীতে ক্রেডো টেকনোলজি, ইন্টেল ও আর্মের সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় উচ্চগতির সংযোগ প্রযুক্তি, এআই-ভিত্তিক কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন এবং দক্ষ জনবল উন্নয়ন গুরুত্ব পায়। ইন্টেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ সেশনে বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন এবং দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সফরের অংশ হিসেবে ইউসি ব্র্যাকলে স্কাইডেকে বৈঠকে বাংলাদেশি স্টার্টআপদের জন্য প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংযোগ এবং ইনোভেশন শোকেস আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এছাড়া ওয়াইইএস (ইয়েল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সিস্টেমস) এর সঙ্গে বৈঠকে উৎপাদন সক্ষমতা, ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি এবং উন্নত প্যাকেজিং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

স্যাক্রামেন্টোতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রবাসী সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবীরা ‘ব্রেইনগেইন’ উদ্যোগে যুক্ত হয়ে মেন্টরশিপ, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

সফর শেষে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকোয়েট রিসেপশনে বিভিন্ন বৈশ্বিক কোম্পানির প্রতিনিধি ও বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতকে বৈশ্বিক ইকোসিস্টেমে আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

বিএসআইএ জানায়, সিলিকন রিভার, ব্রেইনগেইন, ক্রেস্ট, এসআইসিআইপি, সারা এবং বিয়ার সামিটের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত