রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ মঙ্গলবার
(১৬ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে
গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর আগে গত রোববার
(১৪ জুন) আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। তার আগে রামিসা হত্যা
মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের যাবতীয় নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়
এবং কারাবন্দি দুই আসামি জেল আপিল দায়ের করেন।
গত ৭ জুন ঢাকা
মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলার ঐতিহাসিক
রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু
না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তবে বিধি অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের
অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
রায়ে আদালত
প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
করেন। এই জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামিরা জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে কালেক্টরেট অফিসকে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি
ক্রোক ও বিক্রি করে সেই অর্থ রামিসার পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের
মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছিল, যা বিচার বিভাগে দ্রুততম সময়ে
রায় ঘোষণার অন্যতম এক দৃষ্টান্ত। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় যেভাবে।
১৯ মে: পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে
হত্যা।
২১ মে: আদালতে আসামি সোহেল রানার ১৬৪ ধারায়
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি।
২৫ মে: মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার
এসআই অহিদুজ্জামান কর্তৃক চার্জশিট দাখিল।
১ জুন: আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে
আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু।
২ জুন: মাত্র এক দিনেই রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন
সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন।
৩ জুন: ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের
পরীক্ষা।
৭ জুন: ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের
রায় ঘোষণা।
নিহত রামিসা
স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা পরিবার নিয়ে
পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং বনানীর একটি বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই ভবনের অন্য একটি
ফ্ল্যাটে থাকতেন।
গত ১৯ মে রামিসাকে
ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান আসামি সোহেল রানা।
পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে
হেফাজতে নেয়। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে প্রধান
আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায়
মামলা দায়ের করেছিলেন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ মঙ্গলবার
(১৬ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে
গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর আগে গত রোববার
(১৪ জুন) আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। তার আগে রামিসা হত্যা
মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের যাবতীয় নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়
এবং কারাবন্দি দুই আসামি জেল আপিল দায়ের করেন।
গত ৭ জুন ঢাকা
মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলার ঐতিহাসিক
রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু
না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তবে বিধি অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের
অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
রায়ে আদালত
প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
করেন। এই জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামিরা জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে কালেক্টরেট অফিসকে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি
ক্রোক ও বিক্রি করে সেই অর্থ রামিসার পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের
মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছিল, যা বিচার বিভাগে দ্রুততম সময়ে
রায় ঘোষণার অন্যতম এক দৃষ্টান্ত। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় যেভাবে।
১৯ মে: পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে
হত্যা।
২১ মে: আদালতে আসামি সোহেল রানার ১৬৪ ধারায়
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি।
২৫ মে: মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার
এসআই অহিদুজ্জামান কর্তৃক চার্জশিট দাখিল।
১ জুন: আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে
আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু।
২ জুন: মাত্র এক দিনেই রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন
সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন।
৩ জুন: ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের
পরীক্ষা।
৭ জুন: ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের
রায় ঘোষণা।
নিহত রামিসা
স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা পরিবার নিয়ে
পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং বনানীর একটি বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই ভবনের অন্য একটি
ফ্ল্যাটে থাকতেন।
গত ১৯ মে রামিসাকে
ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান আসামি সোহেল রানা।
পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে
হেফাজতে নেয়। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে প্রধান
আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায়
মামলা দায়ের করেছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন