সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ফের জাতিসংঘে আহ্বান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ফের জাতিসংঘে আহ্বান
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য আবারও জাতিসংঘের দোরগোড়ায় গিয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাড়ির মেয়াদ শেষ হওয়া এই অতিথিদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা চেয়েছে ঢাকা।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতিসংঘে মিয়ানমার বিষয়ক মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।’ তিনি জানান, মানবিক কারণে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এই দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও দেশের সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ‘প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।’

সালাহউদ্দিন নোমান রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী সমর্থন চান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে ছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।

আন্তর্জাতিক চাপে ২০১৭ সালের শেষ দিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় মিয়ানমারের তৎকালীন সরকার। ২০১৯ সালে দুই দফায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মিয়ানমারের ওপর রোহিঙ্গাদের আস্থা না থাকায় তা ভেস্তে যায়।

২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন ধাক্কা লাগে। এদিকে রাখাইনে যুদ্ধের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে আরও এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে সরকার।

বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও বড় পরিসরে সম্পৃক্ত করার কথা বলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ফের জাতিসংঘে আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য আবারও জাতিসংঘের দোরগোড়ায় গিয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাড়ির মেয়াদ শেষ হওয়া এই অতিথিদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা চেয়েছে ঢাকা।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতিসংঘে মিয়ানমার বিষয়ক মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।’ তিনি জানান, মানবিক কারণে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এই দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও দেশের সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ‘প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।’

সালাহউদ্দিন নোমান রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী সমর্থন চান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে ছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।

আন্তর্জাতিক চাপে ২০১৭ সালের শেষ দিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় মিয়ানমারের তৎকালীন সরকার। ২০১৯ সালে দুই দফায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মিয়ানমারের ওপর রোহিঙ্গাদের আস্থা না থাকায় তা ভেস্তে যায়।

২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন ধাক্কা লাগে। এদিকে রাখাইনে যুদ্ধের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে আরও এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে সরকার।

বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও বড় পরিসরে সম্পৃক্ত করার কথা বলছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত