সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়া শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নামের এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণও দাবি করেছিল।
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর এলাকার বাসিন্দা নাসির মিয়ার ছেলে। তিনি পড়াশোনার জন্য সাইপ্রাসে অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন ওরোক্লিনি এলাকায় নিজের বাসা থেকে বের হওয়ার পর ইমনের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি কোফিনু অঞ্চলের একটি কারখানায় তাঁর প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে পরিচিতদের জানিয়েছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার রাতে তিনি একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর এক বন্ধুকে নিজের অবস্থানের লোকেশন পাঠিয়েছিলেন। এর পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন যুবক হত্যার দায় স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং নিহতের ব্যক্তিগত সামগ্রী কোথায় ফেলে রাখা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, একটি বাসযাত্রার সময় ইমনের সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়েছিল। অভিযুক্তের দাবি, সে সময় ইমনের আচরণে সে অপমানিত বোধ করেছিল।
পুলিশের ধারণা, ব্যক্তিগত ক্ষোভের পাশাপাশি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যও এই ঘটনার পেছনে কাজ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে ওরোক্লিনি থেকে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যার কয়েক ঘণ্টা পরই অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। এর মাধ্যমে অপহরণের একটি ভুয়া নাটক তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচনরত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমনকে হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমানে মরদেহ উদ্ধারের স্থানকে কেন্দ্র করে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। ঘটনার নেপথ্যের সব তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়া শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নামের এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণও দাবি করেছিল।
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর এলাকার বাসিন্দা নাসির মিয়ার ছেলে। তিনি পড়াশোনার জন্য সাইপ্রাসে অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন ওরোক্লিনি এলাকায় নিজের বাসা থেকে বের হওয়ার পর ইমনের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি কোফিনু অঞ্চলের একটি কারখানায় তাঁর প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে পরিচিতদের জানিয়েছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার রাতে তিনি একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর এক বন্ধুকে নিজের অবস্থানের লোকেশন পাঠিয়েছিলেন। এর পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন যুবক হত্যার দায় স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং নিহতের ব্যক্তিগত সামগ্রী কোথায় ফেলে রাখা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, একটি বাসযাত্রার সময় ইমনের সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়েছিল। অভিযুক্তের দাবি, সে সময় ইমনের আচরণে সে অপমানিত বোধ করেছিল।
পুলিশের ধারণা, ব্যক্তিগত ক্ষোভের পাশাপাশি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যও এই ঘটনার পেছনে কাজ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে ওরোক্লিনি থেকে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যার কয়েক ঘণ্টা পরই অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। এর মাধ্যমে অপহরণের একটি ভুয়া নাটক তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচনরত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমনকে হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমানে মরদেহ উদ্ধারের স্থানকে কেন্দ্র করে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। ঘটনার নেপথ্যের সব তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন