সংবাদ

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

​দলীয় এমপি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেই নন, একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।

​আজ সোমবার (২২ জুন) লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে স্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্টারমারকে পাশে নিয়ে জনসম্মুখে এই নাটকীয় ঘোষণা দেন তিনি। স্টারমারের বক্তব্যের সময় সেখানে উপস্থিত সমর্থকেরা করতালি ও উল্লাসের মধ্য দিয়ে তাকে বিদায় জানান।

​কিয়ার স্টারমারের এই বিদায়ের নেপথ্যে রয়েছেন তারই দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়র সম্প্রতি মেয়রের দায়িত্ব ছেড়ে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেইকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন এবং গত শুক্রবার (১৮ জুন) এক গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে (ওয়েস্টমিনস্টার) ফিরে আসেন। বার্নহামের এই জয়ের পরপরই স্টারমারের নেতৃত্ব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

​২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে টনি ব্লেয়ারের ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর লেবার পার্টিকে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। তবে ক্ষমতায় আসার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দলের ভেতর ও বাইরে তার জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকে।

শীতকালীন জ্বালানি ভাতা সীমিত করা এবং সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিতে কাটছাঁটের মতো সিদ্ধান্তের কারণে জনমত জরিপে দলের জনপ্রিয়তা ব্যাপক কমে যায়। নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে মনোনীত করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

সামরিক ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের জেরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলির সমর্থন হারান স্টারমার। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আনাস সারওয়ারও প্রকাশ্যে তার পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন।

পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের দলের (রিফর্ম ইউকে) উত্থান লেবার পার্টির জন্য বড় বিপদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন দলের এমপিরা।

​গত শুক্রবার পর্যন্ত কিয়ার স্টারমার লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও, সপ্তাহান্তে চেকার্সে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানো এবং মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্যদের আপত্তির মুখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন। সূত্রের দাবি, অন্তত ছয়জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ফলে আগামী এক দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্টারমার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আপাতত অ্যান্ডি বার্নহামকেই সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি অন্য কোনো প্রার্থী (যেমন: ওয়েস স্ট্রিটিং) প্রয়োজনীয় ৮১টি এমপির মনোনয়ন সংগ্রহ করতে না পারেন, তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হতে পারে। নতুন যিনিই প্রধানমন্ত্রী হোন না কেন, তার সামনে যুক্তরাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট এবং জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার এক বিশাল চ্যালেঞ্জ থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

​দলীয় এমপি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেই নন, একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।

​আজ সোমবার (২২ জুন) লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে স্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্টারমারকে পাশে নিয়ে জনসম্মুখে এই নাটকীয় ঘোষণা দেন তিনি। স্টারমারের বক্তব্যের সময় সেখানে উপস্থিত সমর্থকেরা করতালি ও উল্লাসের মধ্য দিয়ে তাকে বিদায় জানান।

​কিয়ার স্টারমারের এই বিদায়ের নেপথ্যে রয়েছেন তারই দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়র সম্প্রতি মেয়রের দায়িত্ব ছেড়ে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেইকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন এবং গত শুক্রবার (১৮ জুন) এক গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে (ওয়েস্টমিনস্টার) ফিরে আসেন। বার্নহামের এই জয়ের পরপরই স্টারমারের নেতৃত্ব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

​২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে টনি ব্লেয়ারের ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর লেবার পার্টিকে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। তবে ক্ষমতায় আসার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দলের ভেতর ও বাইরে তার জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকে।

শীতকালীন জ্বালানি ভাতা সীমিত করা এবং সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিতে কাটছাঁটের মতো সিদ্ধান্তের কারণে জনমত জরিপে দলের জনপ্রিয়তা ব্যাপক কমে যায়। নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে মনোনীত করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

সামরিক ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের জেরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলির সমর্থন হারান স্টারমার। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আনাস সারওয়ারও প্রকাশ্যে তার পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন।

পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের দলের (রিফর্ম ইউকে) উত্থান লেবার পার্টির জন্য বড় বিপদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন দলের এমপিরা।

​গত শুক্রবার পর্যন্ত কিয়ার স্টারমার লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও, সপ্তাহান্তে চেকার্সে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানো এবং মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্যদের আপত্তির মুখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন। সূত্রের দাবি, অন্তত ছয়জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ফলে আগামী এক দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্টারমার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আপাতত অ্যান্ডি বার্নহামকেই সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি অন্য কোনো প্রার্থী (যেমন: ওয়েস স্ট্রিটিং) প্রয়োজনীয় ৮১টি এমপির মনোনয়ন সংগ্রহ করতে না পারেন, তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হতে পারে। নতুন যিনিই প্রধানমন্ত্রী হোন না কেন, তার সামনে যুক্তরাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট এবং জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার এক বিশাল চ্যালেঞ্জ থাকবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত