সংবাদ

বেইজিংয়ে তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা: আজ লি ছিয়াং ও কাল শি চিনপিংয়ের সাথে বৈঠক



বেইজিংয়ে তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা: আজ লি ছিয়াং ও কাল শি চিনপিংয়ের সাথে বৈঠক

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে এটি তাঁর দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় সফর। বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।

​আজ বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গেও তাঁর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে।

​গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে হাই স্পিড ট্রেনযোগে (বুলেট ট্রেন) চীনের তালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বেইজিংয়ের ছাওইয়াঙ রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের (জিএসিসি) মন্ত্রী এবং চীনের সিপিসি কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইচুন। এ সময় শিশু-কিশোররা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়।

​স্টেশনে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন 'তিয়াওইউথাই গেস্টহাউস'-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তাঁরা এখানেই অবস্থান করবেন।

​আজকের দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রায় ১০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর ও বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আর আগামীকাল প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

​প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

​বেইজিংয়ে আসার আগে গতকাল সকালে চীনের তালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’র বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ। ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নসের এই আয়োজনে ৯০টিরও বেশি দেশের ১,৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। ​সম্মেলনের সাইডলাইনে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন,

​"বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।"

​আলোইস জভিংগি বাংলাদেশের এই জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় মূল বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

​‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর সাইডলাইনে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে 'স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন' স্থাপনের বিষয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হন। বাংলাদেশ থেকে কাজাখস্তানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, পানি কূটনীতি নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটি বিশেষায়িত সংস্থা প্রতিষ্ঠার কাজাখস্তানের প্রস্তাবে সমর্থন জানায় বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


বেইজিংয়ে তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা: আজ লি ছিয়াং ও কাল শি চিনপিংয়ের সাথে বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে এটি তাঁর দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় সফর। বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।

​আজ বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গেও তাঁর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে।

​গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে হাই স্পিড ট্রেনযোগে (বুলেট ট্রেন) চীনের তালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বেইজিংয়ের ছাওইয়াঙ রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের (জিএসিসি) মন্ত্রী এবং চীনের সিপিসি কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইচুন। এ সময় শিশু-কিশোররা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়।

​স্টেশনে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন 'তিয়াওইউথাই গেস্টহাউস'-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তাঁরা এখানেই অবস্থান করবেন।

​আজকের দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রায় ১০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর ও বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আর আগামীকাল প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

​প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

​বেইজিংয়ে আসার আগে গতকাল সকালে চীনের তালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’র বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ। ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নসের এই আয়োজনে ৯০টিরও বেশি দেশের ১,৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। ​সম্মেলনের সাইডলাইনে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন,

​"বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।"

​আলোইস জভিংগি বাংলাদেশের এই জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় মূল বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

​‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর সাইডলাইনে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে 'স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন' স্থাপনের বিষয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হন। বাংলাদেশ থেকে কাজাখস্তানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, পানি কূটনীতি নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটি বিশেষায়িত সংস্থা প্রতিষ্ঠার কাজাখস্তানের প্রস্তাবে সমর্থন জানায় বাংলাদেশ।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত