সংবাদ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অষ্টমির স্নানে লাখো মানুষের ঢল


প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অষ্টমির স্নানে লাখো মানুষের ঢল

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমির স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও স্নান উপলক্ষে বসেছে মেলা। দিনব্যাপী এ স্নান উৎসবে অংশ নিতে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে লাখো পূর্ণার্থী ভিড় জমিয়েছেন ব্রহ্মপুত্র পাড়ে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভোর ৪টা ৫৫মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৫৮মিনিট পর্যন্ত উত্তম লগ্নে এ স্নান উৎসব চলবে বলে জানান আয়োজকরা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর এই সময়ে অষ্টমির তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারীতে অষ্টমির স্নানে হাজার হাজার পূর্ণার্থী অংশ নেন। ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার ব্যাপী ব্রহ্মপুত্র চরে বসে অষ্টমির মেলা। মেলার উদ্দেশ্যে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রাত থেকে চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। এবারের পুণ্যস্নানের জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের রমনা ঘাট ও জোড়গাছ এলাকায় নির্ধারিত স্থান থাকলেও নদের বিভিন্ন পয়েন্টে স্নান করেন পূর্ণার্থীরা।

বগুড়া থেকে স্নান করতে আসা কার্তিক চন্দ্র জানান, নিজস্ব মাইক্রোবাস নিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্য রাত তিনটা সময় এখানে পৌঁছেছি। তেল সংগ্রহ করতে দেরী হওয়ায় আসতে বিলম্ব হল।

কার্তিক চন্দ্রের স্ত্রী মধুবালা জানান, এনিয়ে আমি চারবার আসলাম। এবারের পরিবেশটি অত্যন্ত ভাল।  মেলা প্রাঙ্গনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। আমি পরিবার ও দেশের মঙ্গল কামনা করে পুজো দিয়েছি।

রংপুরের পীরগাছা থেকে আসা গোপাল কর্মকার বলেন, এবার ডিজেল ও প্যাট্রল সংকটের কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেকে বাস রিজার্ভ করতে না পেরে স্নান করতে আসেনি।

লালমনিরহাট জেলার বাউরা এলাকা থেকে আসা কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাসেল জানায়, ভাইয়া এখানে গ্যারেজ মালিকরা একটা মোটর সাইকেলের জন্য একশত টাকা করে নিচ্ছেন। এছাড়াও বাঁধের মধ্যে অটোরিক্সা রাখলে পঞ্চাশ টাকা করে নিচ্ছেন। প্রশাসনের এগুলো দেখা উচিত। 

স্নান উৎসব কমিটির সদস্য আব্দুল মালেক জানান, অষ্টমির স্নানকে ঘিরে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর। লগ্ন অনুযায়ী সুবিধাজনক সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা স্নান সম্পন্ন করেন। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছে।

রমনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীসহ ২৫০জন পুলিশ ৪০জন চৌকিদারদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিপূর্ণভাবে স্নান পর্ব চলছে।

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান,  মেলা নির্বিঘ্নৈ সম্পন্ন করতে পূণ্যার্থিদের কাপড় পরিধানের জন্য ৫০টি বুথ, বিশুদ্ধ পানি পানের জন্য ৩০টি নলকুপ ও পয়ব্যবস্থাপনার জন্য ৩০টি লেট্রিন অস্থায়ীভাবে নিমার্ণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অষ্টমির স্নানে লাখো মানুষের ঢল

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমির স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও স্নান উপলক্ষে বসেছে মেলা। দিনব্যাপী এ স্নান উৎসবে অংশ নিতে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে লাখো পূর্ণার্থী ভিড় জমিয়েছেন ব্রহ্মপুত্র পাড়ে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভোর ৪টা ৫৫মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৫৮মিনিট পর্যন্ত উত্তম লগ্নে এ স্নান উৎসব চলবে বলে জানান আয়োজকরা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর এই সময়ে অষ্টমির তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারীতে অষ্টমির স্নানে হাজার হাজার পূর্ণার্থী অংশ নেন। ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার ব্যাপী ব্রহ্মপুত্র চরে বসে অষ্টমির মেলা। মেলার উদ্দেশ্যে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রাত থেকে চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। এবারের পুণ্যস্নানের জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের রমনা ঘাট ও জোড়গাছ এলাকায় নির্ধারিত স্থান থাকলেও নদের বিভিন্ন পয়েন্টে স্নান করেন পূর্ণার্থীরা।

বগুড়া থেকে স্নান করতে আসা কার্তিক চন্দ্র জানান, নিজস্ব মাইক্রোবাস নিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্য রাত তিনটা সময় এখানে পৌঁছেছি। তেল সংগ্রহ করতে দেরী হওয়ায় আসতে বিলম্ব হল।

কার্তিক চন্দ্রের স্ত্রী মধুবালা জানান, এনিয়ে আমি চারবার আসলাম। এবারের পরিবেশটি অত্যন্ত ভাল।  মেলা প্রাঙ্গনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। আমি পরিবার ও দেশের মঙ্গল কামনা করে পুজো দিয়েছি।

রংপুরের পীরগাছা থেকে আসা গোপাল কর্মকার বলেন, এবার ডিজেল ও প্যাট্রল সংকটের কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেকে বাস রিজার্ভ করতে না পেরে স্নান করতে আসেনি।

লালমনিরহাট জেলার বাউরা এলাকা থেকে আসা কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাসেল জানায়, ভাইয়া এখানে গ্যারেজ মালিকরা একটা মোটর সাইকেলের জন্য একশত টাকা করে নিচ্ছেন। এছাড়াও বাঁধের মধ্যে অটোরিক্সা রাখলে পঞ্চাশ টাকা করে নিচ্ছেন। প্রশাসনের এগুলো দেখা উচিত। 

স্নান উৎসব কমিটির সদস্য আব্দুল মালেক জানান, অষ্টমির স্নানকে ঘিরে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর। লগ্ন অনুযায়ী সুবিধাজনক সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা স্নান সম্পন্ন করেন। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছে।

রমনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীসহ ২৫০জন পুলিশ ৪০জন চৌকিদারদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিপূর্ণভাবে স্নান পর্ব চলছে।

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান,  মেলা নির্বিঘ্নৈ সম্পন্ন করতে পূণ্যার্থিদের কাপড় পরিধানের জন্য ৫০টি বুথ, বিশুদ্ধ পানি পানের জন্য ৩০টি নলকুপ ও পয়ব্যবস্থাপনার জন্য ৩০টি লেট্রিন অস্থায়ীভাবে নিমার্ণ করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত