সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই বৈঠক নয়, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত শর্ত চায় ইরান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ জুলাই ২০২৬, ১২:১১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই বৈঠক নয়, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত শর্ত চায় ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছালেও, তাদের সঙ্গে ইরানের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে মঙ্গলবার দেশটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

​ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, দুই সপ্তাহ আগে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো আগে পুরোপুরি চূড়ান্ত করতে হবে। এরপরই পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতাসহ অন্যান্য জটিল বিষয়ে আলোচনা সম্ভব। এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, প্রাথমিক কাঠামোর মূল বিষয়গুলো নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

​হোয়াইট হাউসের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বর্তমানে দোহায় অবস্থান করছেন। ​তবে ইরান ও স্বাগতিক দেশ কাতার নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন প্রতিনিধিরা সরাসরি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসছেন না। কাতারই এখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না হলেও দুই দেশের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা শুরু হতে পারে।

​যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আলোচনাও করেন। তবে আপাতত ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আর কিছুটা সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও প্রকাশ্যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুঁশিয়ারি বজায় রেখেছেন।

​যুদ্ধের কারণে কিছুদিন ব্যাহত থাকার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'হরমুজ প্রণালি' দিয়ে আবার আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।

​ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম অধিকার কেবল ইরান ও ওমানের। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি (৬০ দিনের সময়সীমা শেষে) থেকে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের ফি আদায় করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, এই জলপথে তেল পরিবহন প্রায় যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

সংঘাতের অনিশ্চয়তার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) জানিয়েছে, জ্বালানি বাজারে চাপ কমলেও দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো এখনো খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনও অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোলের দাম কমানোর জন্য জ্বালানি বিক্রেতাদের আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী এই শান্তি আলোচনার কাঠামোর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই পৃথক কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করায় পুরো শান্তি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই বৈঠক নয়, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত শর্ত চায় ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছালেও, তাদের সঙ্গে ইরানের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে মঙ্গলবার দেশটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

​ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, দুই সপ্তাহ আগে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো আগে পুরোপুরি চূড়ান্ত করতে হবে। এরপরই পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতাসহ অন্যান্য জটিল বিষয়ে আলোচনা সম্ভব। এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, প্রাথমিক কাঠামোর মূল বিষয়গুলো নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

​হোয়াইট হাউসের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বর্তমানে দোহায় অবস্থান করছেন। ​তবে ইরান ও স্বাগতিক দেশ কাতার নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন প্রতিনিধিরা সরাসরি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসছেন না। কাতারই এখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না হলেও দুই দেশের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা শুরু হতে পারে।

​যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আলোচনাও করেন। তবে আপাতত ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আর কিছুটা সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও প্রকাশ্যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুঁশিয়ারি বজায় রেখেছেন।

​যুদ্ধের কারণে কিছুদিন ব্যাহত থাকার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'হরমুজ প্রণালি' দিয়ে আবার আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।

​ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম অধিকার কেবল ইরান ও ওমানের। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি (৬০ দিনের সময়সীমা শেষে) থেকে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের ফি আদায় করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, এই জলপথে তেল পরিবহন প্রায় যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

সংঘাতের অনিশ্চয়তার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) জানিয়েছে, জ্বালানি বাজারে চাপ কমলেও দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো এখনো খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনও অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোলের দাম কমানোর জন্য জ্বালানি বিক্রেতাদের আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী এই শান্তি আলোচনার কাঠামোর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই পৃথক কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করায় পুরো শান্তি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে উঠতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত