সংবাদ

পিছিয়ে থেকেও সেনেগালের বিরুদ্ধে বেলজিয়ামের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৪ এএম

পিছিয়ে থেকেও সেনেগালের বিরুদ্ধে বেলজিয়ামের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে

​ফুটবল বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে সিয়াটলে মুখোমুখি হয়েছিল বেলজিয়াম ও সেনেগাল। ম্যাচের প্রথমার্ধে সেনেগালের দাপুটে ফুটবল এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও এক গোলের কল্যাণে আফ্রিকান দলটির জয় যখন প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার জন্ম দেয় বেলজিয়াম।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল শোধ করে ২-২ সমতায় ফেরে বেলজিয়ানরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের সময়ে।
​ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। সাদিও মানে, ইসমাইলা সার ও ইলিমান এনদিয়ায়েদের গতিময় আক্রমণের সামনে শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিল কেভিন ডি ব্রুইনের বেলজিয়াম।
খেলার ৯ মিনিটে চার্লস ডি কেটেলারের পাস থেকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের একটি নিচু শট সেনেগালের গোলরক্ষক দিয়াও আটকে দিলেও এরপর পুরো প্রথমার্ধে বেলজিয়াম নিজেদের চেনা ছন্দ খুঁজে পায়নি।
১৪ মিনিটে সেনেগালের ইসমাইলা সার একটি অবিশ্বাস্য সুযোগ হাতছাড়া করেন, যেখানে তাঁর প্রথম শট পোস্টে লাগে এবং ফিরতি বলটি ফাঁকা জালের বাইরে চলে যায়। এরপর ১৮ মিনিটে ইদ্রিসা গুইয়ের হাফ-ভলি সহজেই রুখে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
২২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থামাতে গিয়ে ইউরি টিলেমান্স সেনেগালের হাবিব দিয়ারাকে ফাউল করলে অনেকেই মাঠের পরিস্থিতি দেখে মন্তব্য করেন, "সে সময় টিলেমান্স হলুদ কার্ড দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।"
​অবশেষে ম্যাচের ২৫ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় সেনেগাল। বাম দিক থেকে সাদিও মানের চমৎকার ক্রসে ইসমাইলা সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে মাটিতে পড়ে থাকা কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে ফিরতি বলে সহজ টোকায় গোল করেন হাবিব দিয়ারা।
১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও সেনেগালের আক্রমণ থামেনি। ম্যাচের ২৯ মিনিটে প্রথম কুলিং ব্রেকের সময় অপ্টা সুপারকম্পিউটার ও পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী বিশ্লেষকরা বলছিলেন, "ম্যাচ শুরুর আগে সেনেগালের জয়ের সম্ভাবনা ছিল ২৩.৪ শতাংশ, যা প্রথমার্ধ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৩ শতাংশে।"
৩৭ মিনিটে সাদিও মানে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও শট নেওয়ার সময় পিছলে যাওয়ায় কোর্তোয়া বল ধরে ফেলেন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে কেভিন ডি ব্রুইনের কর্নার থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের একটি বাঁকানো শট সেনেগাল গোলরক্ষক দিয়াও কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দিলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেনেগাল।
​দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেলজিয়ামকে আরও বড় ধাক্কা দেয় আফ্রিকান প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে যখন বেলজিয়ামের বিদায় প্রায় নিশ্চিত, তখনই শুরু হয় ইউরোপের দলটির অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকু গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৮৯ মিনিটে ইওরি তিয়েলম্যানের চোখধাঁধানো গোলে ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয়তায় ম্যাচটি সরাসরি নকআউট থেকে অতিরিক্ত সময়ে রূপ নেয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


পিছিয়ে থেকেও সেনেগালের বিরুদ্ধে বেলজিয়ামের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

​ফুটবল বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে সিয়াটলে মুখোমুখি হয়েছিল বেলজিয়াম ও সেনেগাল। ম্যাচের প্রথমার্ধে সেনেগালের দাপুটে ফুটবল এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও এক গোলের কল্যাণে আফ্রিকান দলটির জয় যখন প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার জন্ম দেয় বেলজিয়াম।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল শোধ করে ২-২ সমতায় ফেরে বেলজিয়ানরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের সময়ে।
​ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। সাদিও মানে, ইসমাইলা সার ও ইলিমান এনদিয়ায়েদের গতিময় আক্রমণের সামনে শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিল কেভিন ডি ব্রুইনের বেলজিয়াম।
খেলার ৯ মিনিটে চার্লস ডি কেটেলারের পাস থেকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের একটি নিচু শট সেনেগালের গোলরক্ষক দিয়াও আটকে দিলেও এরপর পুরো প্রথমার্ধে বেলজিয়াম নিজেদের চেনা ছন্দ খুঁজে পায়নি।
১৪ মিনিটে সেনেগালের ইসমাইলা সার একটি অবিশ্বাস্য সুযোগ হাতছাড়া করেন, যেখানে তাঁর প্রথম শট পোস্টে লাগে এবং ফিরতি বলটি ফাঁকা জালের বাইরে চলে যায়। এরপর ১৮ মিনিটে ইদ্রিসা গুইয়ের হাফ-ভলি সহজেই রুখে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
২২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থামাতে গিয়ে ইউরি টিলেমান্স সেনেগালের হাবিব দিয়ারাকে ফাউল করলে অনেকেই মাঠের পরিস্থিতি দেখে মন্তব্য করেন, "সে সময় টিলেমান্স হলুদ কার্ড দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।"
​অবশেষে ম্যাচের ২৫ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় সেনেগাল। বাম দিক থেকে সাদিও মানের চমৎকার ক্রসে ইসমাইলা সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে মাটিতে পড়ে থাকা কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে ফিরতি বলে সহজ টোকায় গোল করেন হাবিব দিয়ারা।
১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও সেনেগালের আক্রমণ থামেনি। ম্যাচের ২৯ মিনিটে প্রথম কুলিং ব্রেকের সময় অপ্টা সুপারকম্পিউটার ও পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী বিশ্লেষকরা বলছিলেন, "ম্যাচ শুরুর আগে সেনেগালের জয়ের সম্ভাবনা ছিল ২৩.৪ শতাংশ, যা প্রথমার্ধ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৩ শতাংশে।"
৩৭ মিনিটে সাদিও মানে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও শট নেওয়ার সময় পিছলে যাওয়ায় কোর্তোয়া বল ধরে ফেলেন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে কেভিন ডি ব্রুইনের কর্নার থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের একটি বাঁকানো শট সেনেগাল গোলরক্ষক দিয়াও কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দিলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেনেগাল।
​দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেলজিয়ামকে আরও বড় ধাক্কা দেয় আফ্রিকান প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে যখন বেলজিয়ামের বিদায় প্রায় নিশ্চিত, তখনই শুরু হয় ইউরোপের দলটির অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকু গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৮৯ মিনিটে ইওরি তিয়েলম্যানের চোখধাঁধানো গোলে ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয়তায় ম্যাচটি সরাসরি নকআউট থেকে অতিরিক্ত সময়ে রূপ নেয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত