সংবাদ

হোসেনি দালানে যেভাবে শিয়া সম্প্রদায় জুলুস বা শোক মিছিল পালন করেন

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬

পুরান ঢাকার শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় কেন্দ্র হোসেনি দালান একইভাবে মীর ইয়াকুব আলী ইমামবাড়াতেও মহররমের শোকানুষ্ঠান পালিত হয়। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯১ সালে এই ইমামবাড়াটি নির্মিত হয়। মহররমকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এখানে অনুষ্ঠিত হয় মার্সিয়া পাঠ, ধর্মীয় আলোচনা এবং বিভিন্ন শোকানুষ্ঠান। ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম মুসলিম ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশেষ করে ৭, ৮, ৯, ১০ মহররমকে কেন্দ্র করে আশুরাকে স্মরণ করা হয় ৬১ হিজরিতে সংঘটিত ঐতিহাসিক কারবালার যুদ্ধ। শোক মিছিলে কারবালার স্মৃতিবাহী বিভিন্ন প্রতীক বহন করতে দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের। এর মধ্যে রয়েছে আলম নামে পরিচিত প্রতীকী নিশান এবং জুলজানাহ, যা ঐতিহাসিকভাবে ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (রা.)-এর ঘোড়ার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। হোসেনি দালান ও অন্যান্য ইমামবাড়ায় চলছে মার্সিয়া ও শোকগাথা পাঠ। এসব আয়োজনে কারবালার ইতিহাস, সেখানে সংঘটিত ঘটনাবলি এবং শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়। ধর্মীয় আলোচনায়ও উঠে আসে মুসলিম ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে পানি, শরবত এবং ফল। কারবালার ঘটনায় পানির সংকটের স্মৃতিকে সামনে রেখেই এ ধরনের আয়োজন দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছেন শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। প্রতি বছর মহররমে এসব আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয় কারবালার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্মরণ করা এই ঘটনা মুসলিম ইতিহাসে ত্যাগ, ধৈর্য, ন্যায়বোধ এবং আদর্শের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।