কোনো সামরিক বা সাইবার হামলা নয়, অদৃশ্য এক অণুজীবের আক্রমণে আচমকা অচল হয়ে পড়েছে ইসরায়েলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা! গত ৩০ আগস্ট ইসরায়েলের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে নেমে আসে এক অভাবনীয় বিপর্যয়। দেশের ছয়টি সুবিশাল পানি শোধনাগারের পাঁচটিই একযোগে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। মরুভূমির দেশ ইসরায়েলের ৬৫ শতাংশ সুপেয় পানি আসে সমুদ্রের লোনা পানি শোধন করে। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের ঠিক মাঝখানেই এই শোধনাগারগুলো স্তব্ধ হয়ে পড়ায় এক চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই নীরব ঘাতকের নাম 'মাইক্রোঅ্যালগি' । নীল নদের বদ্বীপ থেকে সাগরের স্রোতে ভেসে আসা এই শৈবাল ইসরায়েল উপকূলে অন্তত ১২ মাইল এলাকাজুড়ে বিশাল আস্তরণ তৈরি করে। ইসরায়েলের শোধনাগারগুলো মূলত 'রিভার্স অসমোসিস' বা সূক্ষ্ম ছাঁকনির মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করে। কিন্তু এই শৈবালের মারাত্মক আক্রমণ সেই মেমব্রেন বা ছাঁকনিগুলোকে পুরোপুরি অকেজো করে দেয়, ফলে পরিশোধন প্রক্রিয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক ঘাটতি মেটাতে সরকার গ্যালিলি সাগর, ভূগর্ভস্থ কূপ ও রিজার্ভ থেকে পানি পাম্প শুরু করে। কৃষিকাজ ও বাগানে সেচের ওপর জারি করা হয় কঠোর নিষেধাজ্ঞা। বিগত ২০ বছর ধরে সাগর নিয়ে গবেষণা করা অধ্যাপক ইডো বার-জেভ এই ঘটনাকে 'অত্যন্ত বিরল' আখ্যা দিয়েছেন। তিনি কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের কারণে এমন বিপর্যয়ের হার সামনে আরও বাড়বে। ক্ষুদ্র শৈবালেই যদি এই হাল হয়, তবে সমুদ্রে বড় কোনো তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটলে দেশের পানি সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়বে। প্রকৃতির এই নীরব প্রতিশোধ যেন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, আধুনিক প্রযুক্তি আসলে কতটা অসহায়!