সংবাদ

আর্কাইভ দেখুন

মাজারের দিঘিতে কুকুরকে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি

মাজারের দিঘিতে কুকুরকে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল। তবে কুকুরটিকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ঠেলে দেয়নি, বরং এটি ছিল একটি দুর্ঘটনা। জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে তিন সদস্যের ওই কমিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাটে একটি কুকুরকে শিকার করে নিয়ে যায় দিঘির কুমির ‘ধলা পাহাড়’। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে অভিযোগ করেন, কুকুরটিকে পরিকল্পিতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়া হয়েছে। এর সত্যতা যাচাইয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয় এবং পরীক্ষার জন্য এর মাথার অংশ ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়। বুধবার পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে কুকুরটির জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়।বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, ‘প্রতিবেদন অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল। ওই কুকুরটি এর আগে যাদের কামড় দিয়েছে, তারা জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ইতিমধ্যে টিকা নিয়েছেন।’ কুমিরের ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, কুমির সরীসৃপ ও হিংস্র প্রাণী হওয়ায় এর জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই।তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদর ইউএনও আতিয়া খাতুন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছি, কুকুরটিকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেয়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত দিঘিতে পড়ে গিয়েছিল। তদন্তকালে আমরা জানতে পেরেছি, কুকুরটি মাজারের নিরাপত্তা প্রহরীসহ কয়েকজনকে কামড় দিয়েছিল। আক্রান্তরা যথাযথ চিকিৎসা নিয়েছেন।’বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া গেছে যে কুকুরটি জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটিকে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


প্রতিহিংসা নয়, জাতীয় ঐক্যই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের শক্তি

প্রতিহিংসা নয়, জাতীয় ঐক্যই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের শক্তি

জাতীয় নেতাদের যথাযথ সম্মান না দিলে ভবিষ্যৎ ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে নাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা কিংবা অযথা বিতর্কের কোনো স্থান নেই বরং জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সব দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, তবে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দেশে এখনও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। এই খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছে।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ৫ প্রতিষ্ঠানের হাতে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ তুলে দেন।প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল জাতীয় নেতার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।তিনি সতর্ক করে বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের যথাযথ সম্মান না দিলে ভবিষ্যৎ ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ দেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল শাসন কাঠামোর মধ্য দিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করলেও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া জুলাই সনদ ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘রাষ্ট্র মেরামত’ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিদ্যা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জনপ্রশাসন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং অন্য কোনো ক্ষেত্রেও যারা গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এমন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাকে প্রতি বছর দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়।এ বছর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে অসামান্য অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘দাদু’র এই পদকটি গ্রহণ করেন খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমান। খালেদা জিয়াসহ এ বছর মোট সাতজন মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন। এরা হলেন: মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান।মেজর জলিলের পক্ষে তার কণ্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকা, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে তার স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে তার মেয়ে হুমায়ারা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে তার মেয়ে তাবাসুম শাহনাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।সরাসরি উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম (পক্ষে তার পুত্র হারুনুর রশীদ), সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান লিনু, সমাজসেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আব্দুল মুকিত মজুমদার বাবু। প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ (মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য)। চিকিৎসায় অবদানের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) পল্লী উন্নয়নে অবদানের জন্য এবং এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র জনসেবায় অবদানের জন্য।


জরিমানার খবর শুনেই জ্ঞান হারালেন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি

জরিমানার খবর শুনেই জ্ঞান হারালেন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি

নীলফামারীর ডোমারে দেওনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে দুই ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতের জরিমানার আদেশ শোনার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের ধরধরার পাড় এলাকায় দেওনাই নদে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শায়লা সাঈদ তন্বী।দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন-হরিণচড়া এলাকার মো. ফারুক (৩০) এবং ডিমলা উপজেলার ট্রাক্টরচালক অমল (২৮)। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জরিমানার আদেশ ঘোষণা করার পরপরই অভিযুক্ত ফারুক হোসেন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অবশ্য কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরে আসে এবং তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে দিন-রাত সমানতালে দেওনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর তীর ভেঙে পড়ার পাশাপাশি আশপাশের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকলেও চক্রটি বিভিন্ন উপায়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। গ্রামবাসী এসব অবৈধ কার্যক্রম চিরতরে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুজনকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে তাদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নদীতীর ভাঙন রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।


চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীসহ নিহত ২

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীসহ নিহত ২

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে পৃথক সময়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন-জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের মৃত রেজাউল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন (২৫) এবং দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের তাজিমুল ইসলামের ছেলে আজিমুদ্দিন (১৫)। আজিমুদ্দিন দর্শনা মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে জীবননগর উপজেলার ঘোষনগর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে তামাকের জমিতে খড়ি গোছানোর কাজ করছিলেন রাসেল হোসেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিফা আনজুম হিমু তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রাসেলের মৃত্যু হয়েছে।জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে, দামুড়হুদা উপজেলার মদনা গ্রামে বজ্রপাতে প্রাণ হারায় স্কুলছাত্র আজিমুদ্দিন। পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খাইরুল বাশার জানান, দুপুরে আজিমুদ্দিনের বাবা মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। বাবার জন্য বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন আজিমুদ্দিন। পথে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দর্শনার একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, স্কুলছাত্র আজিমুদ্দিনের মৃত্যুর খবর পুলিশ জেনেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


আবু সাঈদকে আরাফাত-তাপসের ব্যঙ্গ ও যুবলীগের অস্ত্র মহড়ার বর্ণনা দিলেন সাক্ষী

আবু সাঈদকে আরাফাত-তাপসের ব্যঙ্গ ও যুবলীগের অস্ত্র মহড়ার বর্ণনা দিলেন সাক্ষী

শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের চরম অবমাননাকর মন্তব্য এবং যুবলীগ নেতাদের নেতৃত্বে অস্ত্র নিয়ে রাজপথে মহড়া দেওয়ার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভয়াল দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর তাণ্ডব এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের সবিস্তার বর্ণনা দিয়েছেন গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারী মারুফ আল হাসান। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন।আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ২৭ বছর বয়সী মারুফ আল হাসান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন থেকেই আমি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এলেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি।মারুফ তার জবানবন্দিতে সুনির্দিষ্টভাবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ আরাফাত ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন। এছাড়া ওবায়দুল কাদেরের উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন দিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন বাহাউদ্দিন নাছিম।আন্দোলনের দিনগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর কীভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী বলেন, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সরাসরি নেতৃত্বে ক্যাডারদের রাজপথে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখেছি। ৫ আগস্ট রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের দিকে যাওয়ার সময় স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে আমাদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি চালানো হয়। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আমাদের ওপর। তখন রুবেল নামের একজনকে দুই হাতে গুলি ছুড়তে দেখি। পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের সম্মিলিত হামলায় ওই দিন অনেক সহযোদ্ধা রক্তাক্ত হয়েছেন।নিজের শরীর বয়ে বেড়ানো যন্ত্রণার কথা জানিয়ে মারুফ বলেন, ওই দিন একটি গুলি আমার ডান হাতের কব্জির ওপর দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গলিপথ দিয়ে রিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার সময় দেখি মাথায় গুলিবিদ্ধ আলী রায়হানকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর দফায় দফায় অস্ত্রোপচার হয়েছে, কিন্তু আমার ডান হাতটি এখন প্রায় অচল। আমি স্বাভাবিকভাবে কোনো কাজ করতে পারি না। ওই দিনের হামলায় সাকিব আঞ্জুম শহীদ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলী রায়হানও মারা যান। আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এবং পলাতক সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এর আগে, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে বিচার চলছে, যারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত আগামী ১৯ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। আজকের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।


হোমনায় স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

হোমনায় স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

কুমিল্লার হোমনায় অটোরিকশা থেকে নামিয়ে স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে এক গৃহবধূকে (১৮) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য আশিকুর রহমানকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আশিকুর রহমান (২৪) উপজেলার ওপারচর গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে থানায় ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী তার স্বামীসহ হোমনা পৌর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা অটোরিকশায় তিতাস উপজেলায় বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে হোমনা-গৌরীপুর আঞ্চলিক সড়কের মাথাভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় পৌঁছালে আশিকুর ও তার সহযোগীরা অটোরিকশাটির গতিরোধ করে। পরে দম্পতিকে ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষিণ পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে আশিকুর ও তার দুই সহযোগী গৃহবধূর মুখ চেপে ধরেন এবং অন্য সহযোগীরা স্বামী ও অটোরিকশা চালককে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। একপর্যায়ে স্বামীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়। পরে অভিযুক্তরা দম্পতিকে ছেড়ে দিলে তারা হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে মামলার প্রক্রিয়া শুরু করে।হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. শহিদ উল্লাহ জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমরা আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। প্রধান অভিযুক্ত আশিকুর রহমানসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনতে পারব।’মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হোমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিস উদ্দিন জানান, জড়িত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


বাংলাদেশিদের প্রতি ৫ জনের ১ জনের জিনে পরিবর্তন

বাংলাদেশিদের প্রতি ৫ জনের ১ জনের জিনে পরিবর্তন

বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সন্দেহভাজন তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনের শরীরে বিশেষ ধরনের জিনগত পরিবর্তন বিদ্যমান।চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হলে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশের তরুণদের ডায়াবেটিস নিয়ে নতুন গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিএমইউ-এর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল হাসানাত জানান, তরুণ বাংলাদেশীদের মধ্যে ডায়াবেটিসের এই জিনগত পরিবর্তনগুলো প্রধানত কিছু কম পরিচিত জিনে পাওয়া গেছে।তিনি উল্লেখ করেন, "গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সন্দেহভাজন তরুণ রোগীদের প্রায় প্রতি ৫ জনের ১ জনের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত জিনের পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, এই জিনগত পরিবর্তনগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।"তিনি আরও জানান, যাদের শরীরে এই পরিবর্তন আছে এবং যাদের নেই—তাদেরকে বাহ্যিক বা ক্লিনিক্যাল লক্ষণে আলাদা করা অত্যন্ত কঠিন। তবে এই ফলাফল এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করার আগে আরও নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয় যে, বাংলাদেশে বর্তমানে তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগটি প্রচলিত ডায়াবেটিসের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলছে না। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের জিনগত ধরন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে বর্তমানে প্রচলিত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের জনসংখ্যার জন্য কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। এই সংকট মোকাবিলায় দেশভিত্তিক নিজস্ব গবেষণা ও স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।সেমিনারে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসান। বিএমইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গবেষণার এই বৈশ্বিক গুরুত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মো. সলিমুল্লাহ। এছাড়া সেমিনারে চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা অংশ নেন, যাদের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশে আধুনিক রোগী সেবা ও উচ্চতর গবেষণাকে উৎসাহিত করা।


সিআইডির জালে অপহরণকারী শাহাদাত, অপহরণ ও লুণ্ঠনের রোমহর্ষক বর্ণনা

সিআইডির জালে অপহরণকারী শাহাদাত, অপহরণ ও লুণ্ঠনের রোমহর্ষক বর্ণনা

রাজধানীতে নারী অপহরণ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পলাতক থাকা আসামি শাহাদাত হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাফরুল এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম ইউনিটের একটি দল। গ্রেপ্তার শাহাদাতের গ্রামের বাড়ি বরিশালের চন্দ্রপাড়া এলাকায়। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে সে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ছিল।এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এই গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাহাদাতের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজধানীর কাফরুল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর মহাখালী ইউসুফ লাইন পার্কের সামনে থেকে এক নারীকে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। অপহরণের পর তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে মারধর করা হয় এবং তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীকে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে ফার্মগেট এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার বিষয়ে জসীম উদ্দিন খান আরও বলেন, ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় প্রাথমিকভাবে একজন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও অন্য দুই অজ্ঞাতনামা আসামিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে আদালত আসামিদের শনাক্ত ও অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে প্রদান করে। সিআইডি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গতকাল শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ঘটনার সময় শাহাদাত অপহরণে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটির চালক হিসেবে কাজ করছিল। অপরাধ সংগঠনের পর থেকেই সে অত্যন্ত সুকৌশলে আত্মগোপন করে ছিল। সিআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহাদাত ঘটনার সাথে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


টাইম ম্যাগাজিনে প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, সংসদে ধন্যবাদ

টাইম ম্যাগাজিনে প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, সংসদে ধন্যবাদ

টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জাতীয় সংসদে তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে সংসদকে অবহিত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।চিফ হুইপ বলেন, “টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সাহেবের নাম রয়েছে এবং তিনি সম্মানিত হয়েছেন। তিনি সম্মানিত মানে দেশকে সম্মানিত করা, তিনি এই জাতিকে সম্মানিত করেছেন। সংসদের তরফ থেকে তাকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি, ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালীদের তালিকানিউইয়র্কভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন বুধবার বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেনবাউম, নামিবিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নান্দি নাদাইতওয়া, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও ইউরোপী ইউনিয়নের প্রযুক্তি প্রধান হেনা ভিরকুনেনসহ বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তি স্থান পেয়েছেন।‘লিডারস’ (নেতৃত্ব) ক্যাটাগরিতে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তারেক রহমান।চিফ হুইপ যা বললেনবৃহস্পতিবার সংসদে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “সংসদ নেতা ১৭ বছর নির্বাসিত ছিলেন। পরে দেশে এসে মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়েছেন। অনুপ্রাণিত হয়ে সারা দেশের মানুষ তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে এই সংসদে পাঠিয়েছে। তার কাছে এই দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। আঙুলের কালি মোছার আগেই তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন এবং এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড অন্যতম। তিনি কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেছেন এই পহেলা বৈশাখে। এটা একটা বিপ্লব এবং যুগান্তকারী ঘটনা বাংলাদেশের জন্য। তিনি আমাদের ইমাম এবং মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা চালু করেছেন। বিভিন্ন ধর্মের পুরোহিতদের জন্য তিনি সম্মানীর ব্যবস্থা করেছেন। ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করেছেন।”চিফ হুইপ বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ তাকে স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে। বিশ্ব তাকে স্বীকৃতি দিয়ে আজকে টাইম ম্যাগাজিনে স্থান করে দিয়েছে।’তারেক রহমান প্রসঙ্গে কি লিখেছে টাইমটাইম ম্যাগাজিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রোফাইলে লিখেছে, কয়েক মাস আগেও দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু ২০২৪ সালে স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হলে তিনি বিরোধী আন্দোলনের নেতা থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় পরিণত হন, ১৭ বছর মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে বিপুল ভোটে জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সেই গন্তব্যে পৌঁছান।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ বিজয়ের মাধ্যমে তিনি তার মা খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করেন, যিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ঢাকায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান। ম্যাগাজিনটি জানায়, জানুয়ারিতে টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত শোককে তিনি দেশের ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে নিয়োজিত করবেন।


৭ বার এমপি হয়েছি, কিন্তু দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করেনি : স্পিকার

৭ বার এমপি হয়েছি, কিন্তু দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করেনি : স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘আমি অবহেলিত এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে এসেছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি, কিন্তু কোনোদিন দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি। আমার গায়ে কখনো দুর্নীতির ছোঁয়াও লাগেনি।’বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ভোলার লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় এটিই ছিল তার প্রথম সফর। এ উপলক্ষে ‘লালমোহন উপজেলা নাগরিক ফোরাম’ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, ‘গত সরকারের আমলে একজন পিয়নও ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আমি সাতবার এমপি হয়েও আমার কাছে এত টাকা নেই। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, সৎভাবে জীবন অতিবাহিত করতে চাই। আমার শেষ ইচ্ছা-লালমোহন ও তজুমদ্দিনের মানুষের সুখে-দুখে পাশে থেকে যেন মরতে পারি।’এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের দীর্ঘদিনের দাবি ভোলা-বরিশাল সেতু। আপনারা দোয়া করবেন যেন আমি এই সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে পারি। একইসঙ্গে লালমোহনে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন করাই আমার লক্ষ্য।’এলাকাবাসীর ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনাদের আশা ছিল আমি যেন একটি পতাকা (সরকারি গাড়ি) নিয়ে এলাকায় আসি। আপনাদের দোয়ায় আজ আমি দুটি পতাকা নিয়ে আসতে পেরেছি। আপনারা দোয়া করবেন যেন আপনাদের সকল স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।’লালমোহন উপজেলা নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে স্পিকার এলাকায় পৌঁছালে হাজারো মানুষ তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান।


ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান বাংলাদেশের

ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান বাংলাদেশের

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের (সিপিডি) ৫৯তম অধিবেশনে গবেষণা ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান ডিজিটাল বিভাজন হ্রাসে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বুধবার (১৫ই এপ্রিল) অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এ আহ্বান জানান।একই সঙ্গে তিনি উদীয়মান প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী তথ্য-গোপনীয়তা সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা ও উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং গবেষণার অপরিহার্য ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বে এখনও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগে গভীর বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে।  রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি তিনি টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং রিয়েল-টাইম রোগ নজরদারির মতো প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় দেশটির সম্প্রসারণের বিষয়টিও তুলে ধরেন।   তরুণ জনগোষ্ঠীতে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


পুলিশকে ‘আক্ষেপ-দুঃখের’ কথা জানালেন হকাররা

পুলিশকে ‘আক্ষেপ-দুঃখের’ কথা জানালেন হকাররা

আসন্ন ঈদ-উল-আযহার আগে ঢাকা শহর থেকে হকার উচ্ছেদ না করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। কোনো ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না বলে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।হকার্স ইউনিয়নের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ারের কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেয়।সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল হাশিম কবীর জানান, তারা কমিশনারের কাছে তাদের আক্ষেপ ও দুঃখের কথা জানিয়েছেন। কমিশনার তাদের কষ্ট বুঝেছেন এবং হকার ও পথচারী উভয়ের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।স্মারকলিপিতে হকার্স ইউনিয়ন উল্লেখ করে, গত দুই সপ্তাহ ধরে হকার উচ্ছেদ, ভাঙচুর, মালামাল নষ্ট ও আটকের ঘটনা ঘটছে। ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে সাধারণ হকাররা ঋণ করে মালামাল তুলেছেন। এ অবস্থায় পুনর্বাসনের কোনো পরিকল্পনা ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকলে হকারদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে বলে সতর্ক করা হয় স্মারকলিপিতে।দেশের অর্থনীতিতে হকারদের অবদানের কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, হকারি পেশার এখনো কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ‘প্রকৃত হকারদের’ তালিকা তৈরি, পুনর্বাসন ও জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন হকাররা।নতুন সরকারের কাছে হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশাও তুলে ধরা হয় স্মারকলিপিতে। একইসঙ্গে সড়ক উন্মুক্ত রেখে ফুটপাতের নির্ধারিত অংশে শৃঙ্খলার সঙ্গে হকারি করার বিষয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলে তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন।


সরাইল সরকারি হাসপাতালটি ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’

সরাইল সরকারি হাসপাতালটি ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি মাত্র হাসপাতাল আছে বলে সংসদে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, “সেই হাসপাতালটি নিজেই একটা রোগীর মতো।”বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। ওই প্রস্তাবের ওপর সংশোধনী বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা এ মন্তব্য করেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা সরাইল উপজেলা হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোর সংকটের চিত্র সংসদে তুলে ধরে বলেন, হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, কর্মচারী, চাহিদামাফিক ওষুধ ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। তিনি সংসদে জানান, ওই হাসপাতালে কনসালট্যান্টসহ চিকিৎসকের ৯টি, নার্সের ৬টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ২টি, ফিল্ড স্টাফের ১৫টি, স্বাস্থ্য সহকারীর ৮টিসহ মোট ৬৪টি পদ শূন্য রয়েছে।রুমিন ফারহানা বলেন, ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে একটি ৬ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন। ফলে পুরোনো দোতলা ভবনেই চিকিৎসাসেবা চালাতে হচ্ছে।সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখার সময় নিজেদের এলাকার হাসপাতালের সংকট, শয্যা বাড়ানো এবং নতুন হাসপাতাল স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন।পরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন সংসদে জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের কাছে ১০০ শয্যার ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং ৩০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে নতুন হাসপাতালের বিষয়ও বিবেচনা করা যেতে পারে। এরপর মূল প্রস্তাবকারী এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহারের ইচ্ছার কথা সংসদকে জানান। স্পিকার কণ্ঠভোটে দিলে সংসদের অনুমতিতে সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়।


আওয়ামী লীগ আমলের ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা’ প্রত্যাহারে পদক্ষেপ সরকারের

আওয়ামী লীগ আমলের ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা’ প্রত্যাহারে পদক্ষেপ সরকারের

বিগত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ সচেতন এবং এ লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদে মাগুরা-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মনোয়ার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান।এর আগে সকালে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিতে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উপস্থাপিত হয়।আইনমন্ত্রী জানান, এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ ধরনের মামলা প্রত্যাহারের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিলো। ওই কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।তিনি জানান, চলতি বছরের ৫ মার্চ হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশের জন্য জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের ‘কেন্দ্রীয় কমিটি’ গঠন করেছে বর্তমান সরকার।কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা কমিটিগুলো থেকে পাওয়া সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যসহ যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা (হত্যা মামলাসহ) প্রত্যাহারের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি তা পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় কোনো মামলা রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক বলে প্রতীয়মান হলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলার ভুক্তভোগীদের প্রতিকার দিতে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


‘জ্বালানি সংকটে’ বার কাউন্সিলের নির্বাচন বন্ধ কেন

‘জ্বালানি সংকটে’ বার কাউন্সিলের নির্বাচন বন্ধ কেন

জ্বালানি সংকট ইস্যুতে বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা নিয়ে জাতীয় সংসদের প্রশ্ন তুলেছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।তিনি বলেছেন, “নির্বাচন স্থগিত কি সত্যিই জ্বালানি সংকটের ইস্যু, নাকি একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের অংশ?”বৃহস্পতিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে (অনির্ধারিত আলোচনা) দাঁড়িয়ে আখতার হোসেন বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ১৯ মে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে মধ্যরাতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।তিনি বলেন, “সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে এক ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও বাস্তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। বার কাউন্সিলের মতো একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনও একই যুক্তিতে স্থগিত করা হয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দেয়।”আখতার হোসেন আরও বলেন, “বার কাউন্সিল অর্ডার অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচন হওয়ার কথা। অতীতে দুর্যোগ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত বা সীমিতভাবে আয়োজনের বিধান থাকলেও বর্তমানে এমন কোনো জরুরি পরিস্থিতি নেই। এরপরও নির্বাচন না করে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই নেতা বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু নির্বাচন স্থগিত করে সেই যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।”এ সময় সংসদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, “সংসদ সদস্যের বক্তব্য কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।” তিনি এ বিষয়ে লিখিত নোটিশ দিতে পরামর্শ দেন। আখতার হোসেন পরে বলেন, তিনি নোটিশ দেবেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।


বিটিআরসিতে নিয়োগ-পদোন্নতি নিয়ে রিট করা দুই কর্মকর্তার বদলি স্থগিত

বিটিআরসিতে নিয়োগ-পদোন্নতি নিয়ে রিট করা দুই কর্মকর্তার বদলি স্থগিত

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) ২৯ জনের নিয়োগ ও পদোন্নতি চ্যালেঞ্জ করে রিট করা দুই কর্মকর্তার বদলির আদেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দিয়েছে। ওই দুই কর্মকর্তা হলেন: বিটিআরসির উপ-পরিচালক সঞ্জিব কুমার সিংহ ও এসএম আফজাল রেজা।আদালতে রিট পিটিশনের পক্ষে শুনানিকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান বলেন, হাই কোর্ট বিভাগ শুনানি শেষে বিটিআরসির মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক স্বাক্ষরিত গত ৩১ মার্চ ও ২ এপ্রিলের বদলির আদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর ও ১৪ ডিসেম্বরের বদলির আদেশের কার্যকারিতা আগামী দুই মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেয়।রিটে বলা হয়, ইতোপূর্বে রিট আবেদনের কারণে সেই দুই কর্মকর্তা বিটিআরসিতে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন। বিটিআরসির বিভিন্ন বেআইনি নিয়োগ বিষয়ে প্রতিকার চাওয়ায় তারা উচ্চ মহলের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের মধ্যে তাদের দুইজনকেই একাধিক বদলির আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু এবার তাদের ঢাকার বাইরে বেআইনিভাবে সরকারের অনুনোমোদিত সিলেট ও রংপুরে ‘মনিটরিং স্টেশনে’ বদলি করা হয়। তাদের যে অবস্থানে বদলি করা হয়েছে, তা তাদের পদক্রমের নি¤œপর্যায়ের দায়িত্ব। এছাড়া উপপরিচালক পদের কর্মকর্তাদের এই ধরনের বদলির আদেশ বিটিআরসির ইতিহাসে প্রথম।রিটে আরও বলা হয়, বিটিআরসির প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম ও ২০০৮ সালে প্রণীত পদ তৈরির আদেশের কোথাও ‘মনিটরিং স্টেশনে’ উপপরিচালক পদ বলে কিছু নেই। যেহেতু বিটিআরসির আইন মেনে ঢাকার বাইরে সরকার অনুমোদিত বিটিআরসির কোনো শাখা অফিস নেই, সেহেতু কর্তৃপক্ষ ওই স্থানে কোনো পূর্ণকালীন বদলির আদেশ দিতে পারে না।আইনজীবী শিহাব উদ্দিন বলেন, বিটিআরসির ছয়জন উপ-পরিচালক সঞ্জিব কুমার সিংহ, কাজী মো. আহসানুল হাবীব, মো. জাকির হোসেন খান, এসএম আফজাল রেজা, মো. আসিফ ওয়াহিদ ও মো. হাসিবুল কবির ‘অবৈধভাবে’ ২৯ জনের নিয়োগ ও পদোন্নতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। পরে হাই কোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের বেঞ্চ গত ৫ মার্চ শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৬ অক্টোবর ও ১৪ ডিসেম্বরের চিঠি অনুসারে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেটি জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।সেইসঙ্গে ‘গুরতর আর্থিক অনিয়ম’ তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের পদোন্নতির জন্য গত বছরের ৩ নভেম্বর গঠিত ‘বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি’ বা ডিপিসির কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়েও রুল জারি করেন । আইনজীবী শিহাব বলেন,‘উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করার পরপরই দুই উপ পরিচালককে ঢাকার বাইরে বদলি করার ঘটনায় বিটিআরসিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই দুইজনকে বদলি করা হয়েছে মর্মে খবর প্রকাশিত হয়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী দুইজন হাই কোর্টে বদলির আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিটে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অডিট উইং এর যুগ্ম পরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক, প্রশাসন বিভাগের পরিচালক ও মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।