সুন্দরবনে একটি চিত্রা হরিণকে শিকারিদের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করেছেন বনকর্মীরা। গত বৃহস্পতিবার খুলনা রেঞ্জের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন এলাকায় ফাঁদে আটকে ছটফট করছিল প্রাণীটি। তার আর্তনাদ শুনে বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফাঁদ কেটে হরিণটিকে মুক্ত করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর বনে ছেড়ে দেন।
একই অভিযানে আশপাশ থেকে আরও ১২টি ছিটকা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। বন বিভাগের টহল জোরদার করার ফলে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান সম্ভব হচ্ছে।
সুন্দরবনে চোরা শিকারিরা প্রধানত ছিটকা ফাঁদ, মালা ফাঁদসহ বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে হরিণ শিকার করে। শিকারিরা বনের গভীরে ফাঁদ পেতে হরিণ ধরে তার মাংস লোকালয়ে বিক্রি করে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বাড়ছে। এসব ফাঁদ শুধু হরিণের জন্য নয়, বাঘের জন্যও মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। হরিণ বাঘের প্রধান খাদ্য। হরিণের সংখ্যা কমলে বাঘের খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এছাড়া ফাঁদে আটকে বাঘ আহত বা মারা যায়।
বন বিভাগ জানিয়েছে, হরিণ শিকারের ফলে বন্যপ্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়, টহল দেয়া হয়। তারপরও চোরা শিকারিদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বনকর্মীদের তৎপরতা প্রশংসাযোগ্য। বন বিভাগের টহল আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। হরিণের মাংস কেনা-বেচা বন্ধ করা দরকার। যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনের বাঘ ও হরিণসহ অন্য প্রাণী রক্ষা করতে হবে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
সুন্দরবনে একটি চিত্রা হরিণকে শিকারিদের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করেছেন বনকর্মীরা। গত বৃহস্পতিবার খুলনা রেঞ্জের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন এলাকায় ফাঁদে আটকে ছটফট করছিল প্রাণীটি। তার আর্তনাদ শুনে বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফাঁদ কেটে হরিণটিকে মুক্ত করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর বনে ছেড়ে দেন।
একই অভিযানে আশপাশ থেকে আরও ১২টি ছিটকা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। বন বিভাগের টহল জোরদার করার ফলে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান সম্ভব হচ্ছে।
সুন্দরবনে চোরা শিকারিরা প্রধানত ছিটকা ফাঁদ, মালা ফাঁদসহ বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে হরিণ শিকার করে। শিকারিরা বনের গভীরে ফাঁদ পেতে হরিণ ধরে তার মাংস লোকালয়ে বিক্রি করে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বাড়ছে। এসব ফাঁদ শুধু হরিণের জন্য নয়, বাঘের জন্যও মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। হরিণ বাঘের প্রধান খাদ্য। হরিণের সংখ্যা কমলে বাঘের খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এছাড়া ফাঁদে আটকে বাঘ আহত বা মারা যায়।
বন বিভাগ জানিয়েছে, হরিণ শিকারের ফলে বন্যপ্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়, টহল দেয়া হয়। তারপরও চোরা শিকারিদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বনকর্মীদের তৎপরতা প্রশংসাযোগ্য। বন বিভাগের টহল আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। হরিণের মাংস কেনা-বেচা বন্ধ করা দরকার। যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনের বাঘ ও হরিণসহ অন্য প্রাণী রক্ষা করতে হবে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন