সংবাদ

মেসির জন্য স্পেনের ‘ত্রিমুখী খাঁচা’: চলছে জাদুর বাক্স বন্দির ছক


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

মেসির জন্য স্পেনের ‘ত্রিমুখী খাঁচা’: চলছে জাদুর বাক্স বন্দির ছক

বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা কি উঁচিয়ে ধরবেন লিওনেল মেসি, নাকি স্প্যানিশদের তারুণ্যের জয়জয়কার হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে? মহাযুদ্ধের বাঁশি বাজার আগেই ফুটবল দুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন; লিওনেল মেসিকে থামাবে কে? ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

তবে ম্যাচের চেয়েও বড় আলোচনা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের জাদুকরী ফর্ম। আসর জুড়ে ৮ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট করে প্রতিপক্ষ শিবিরে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে ভালো করেই জানেন, বিশ্বজয়ের মুকুট পরতে হলে মেসি নামক গ্রহের সেরা ফুটবলারকে বোতলবন্দি করার কোনো বিকল্প নেই। আর তাই মেসিকে রুখতে স্প্যানিশ ডাগআউটে তৈরি হয়েছে তিন স্তরের এক মহাপরিকল্পনা।

মেসিকে একা থামানো যে অসম্ভব, তা ফাইনালের আগে অকপটে স্বীকার করেছেন স্পেনের কোচ। শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, "মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে থামানো সম্ভব নয়। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"

স্প্যানিশ থিংক ট্যাংকের তৈরি করা প্রথম পরিকল্পনাটি হলো দলগতভাবে মেসিকে ঘিরে রাখা। মেসি যখনই বল পাবেন, তখনই যেন একাধিক ডিফেন্ডার তাকে বৃত্তের মধ্যে ফেলে দেন। দ্বিতীয়ত, মেসির পায়ে বল পৌঁছানোর পথটাই কেটে দিতে চায় স্পেন। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজদের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করা হবে, যেন তারা মেসির দিকে পাস বাড়াতেই না পারেন। আর তৃতীয় পরিকল্পনাটি হলো, মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যকার ফাঁকা জায়গাগুলো বন্ধ করে দেওয়া, যাতে মেসি ডিফেন্ডারদের সাথে ওয়ান-অন-অন পরিস্থিতিতে যাওয়ার সুযোগই না পান।

স্পেনের এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিকল্পনার কথা অবশ্য অজানা নয় আর্জেন্টিনার ডাগআউটেও। আর্জেন্টাইন হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি ও তার সহকারীরা স্প্যানিশদের এই ‘কড়া পাহারা’র কৌশল ভাঙতে ইতিমধ্যেই নিজেদের ছক সাজাতে শুরু করেছেন। মাঝমাঠের তীব্র শারীরিক ও কৌশলগত লড়াইয়ে মেসিকে কীভাবে একটু মুক্ত জায়গায় বল জোগান দেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করছে আলবিসেলেস্তেরা।

ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, মাঝমাঠের এই দাবার বোর্ডে এক সেকেন্ডের অসতর্কতাও যেকোনো দলের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিতে পারে। একদিকে মেসির পায়ে রূপকথা লেখার তাগিদ, অন্যদিকে স্পেনের অভেদ্য প্রাচীর, সব মিলিয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়াম রূপ নিতে যাচ্ছে এক আধুনিক রণক্ষেত্রে।

বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা; আর্জেন্টিনার হয়ে সম্ভাব্য সব ট্রফিই ছুঁয়ে দেখেছেন মেসি। তবে বিশ্বকাপের প্রায় সব ব্যক্তিগত পুরস্কার বগলে পুরলেও, একটি ট্রফি এখনো তাঁর শোকেসে অধরা; তা হলো গোল্ডেন বুট। আজ সেই আক্ষেপ ঘোচানোর দারুণ সুযোগ মেসির সামনে। তবে সমীকরণটি বেশ জটিল। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে গেছেন। মেসির গোল এখন ৮টি, আর দুজনেরই অ্যাসিস্ট ৪টি করে।

টাইব্রেকারের নিয়মানুযায়ী, সমান গোল ও অ্যাসিস্ট হলে কম মিনিট মাঠে থাকা খেলোয়াড়ই বুট পান। যেহেতু মেসি আজ মাঠে নামলেই এমবাপের চেয়ে বেশি মিনিট খেলার তালিকায় চলে যাবেন, তাই গোল্ডেন বুট নিজের করতে মেসিকে আজ হয় হ্যাটট্রিক করতে হবে, না হয় দুটি গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করে এমবাপেকে টপকে যেতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


মেসির জন্য স্পেনের ‘ত্রিমুখী খাঁচা’: চলছে জাদুর বাক্স বন্দির ছক

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা কি উঁচিয়ে ধরবেন লিওনেল মেসি, নাকি স্প্যানিশদের তারুণ্যের জয়জয়কার হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে? মহাযুদ্ধের বাঁশি বাজার আগেই ফুটবল দুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন; লিওনেল মেসিকে থামাবে কে? ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

তবে ম্যাচের চেয়েও বড় আলোচনা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের জাদুকরী ফর্ম। আসর জুড়ে ৮ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট করে প্রতিপক্ষ শিবিরে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে ভালো করেই জানেন, বিশ্বজয়ের মুকুট পরতে হলে মেসি নামক গ্রহের সেরা ফুটবলারকে বোতলবন্দি করার কোনো বিকল্প নেই। আর তাই মেসিকে রুখতে স্প্যানিশ ডাগআউটে তৈরি হয়েছে তিন স্তরের এক মহাপরিকল্পনা।

মেসিকে একা থামানো যে অসম্ভব, তা ফাইনালের আগে অকপটে স্বীকার করেছেন স্পেনের কোচ। শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, "মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে থামানো সম্ভব নয়। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"

স্প্যানিশ থিংক ট্যাংকের তৈরি করা প্রথম পরিকল্পনাটি হলো দলগতভাবে মেসিকে ঘিরে রাখা। মেসি যখনই বল পাবেন, তখনই যেন একাধিক ডিফেন্ডার তাকে বৃত্তের মধ্যে ফেলে দেন। দ্বিতীয়ত, মেসির পায়ে বল পৌঁছানোর পথটাই কেটে দিতে চায় স্পেন। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজদের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করা হবে, যেন তারা মেসির দিকে পাস বাড়াতেই না পারেন। আর তৃতীয় পরিকল্পনাটি হলো, মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যকার ফাঁকা জায়গাগুলো বন্ধ করে দেওয়া, যাতে মেসি ডিফেন্ডারদের সাথে ওয়ান-অন-অন পরিস্থিতিতে যাওয়ার সুযোগই না পান।

স্পেনের এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিকল্পনার কথা অবশ্য অজানা নয় আর্জেন্টিনার ডাগআউটেও। আর্জেন্টাইন হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি ও তার সহকারীরা স্প্যানিশদের এই ‘কড়া পাহারা’র কৌশল ভাঙতে ইতিমধ্যেই নিজেদের ছক সাজাতে শুরু করেছেন। মাঝমাঠের তীব্র শারীরিক ও কৌশলগত লড়াইয়ে মেসিকে কীভাবে একটু মুক্ত জায়গায় বল জোগান দেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করছে আলবিসেলেস্তেরা।

ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, মাঝমাঠের এই দাবার বোর্ডে এক সেকেন্ডের অসতর্কতাও যেকোনো দলের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিতে পারে। একদিকে মেসির পায়ে রূপকথা লেখার তাগিদ, অন্যদিকে স্পেনের অভেদ্য প্রাচীর, সব মিলিয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়াম রূপ নিতে যাচ্ছে এক আধুনিক রণক্ষেত্রে।

বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা; আর্জেন্টিনার হয়ে সম্ভাব্য সব ট্রফিই ছুঁয়ে দেখেছেন মেসি। তবে বিশ্বকাপের প্রায় সব ব্যক্তিগত পুরস্কার বগলে পুরলেও, একটি ট্রফি এখনো তাঁর শোকেসে অধরা; তা হলো গোল্ডেন বুট। আজ সেই আক্ষেপ ঘোচানোর দারুণ সুযোগ মেসির সামনে। তবে সমীকরণটি বেশ জটিল। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে গেছেন। মেসির গোল এখন ৮টি, আর দুজনেরই অ্যাসিস্ট ৪টি করে।

টাইব্রেকারের নিয়মানুযায়ী, সমান গোল ও অ্যাসিস্ট হলে কম মিনিট মাঠে থাকা খেলোয়াড়ই বুট পান। যেহেতু মেসি আজ মাঠে নামলেই এমবাপের চেয়ে বেশি মিনিট খেলার তালিকায় চলে যাবেন, তাই গোল্ডেন বুট নিজের করতে মেসিকে আজ হয় হ্যাটট্রিক করতে হবে, না হয় দুটি গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করে এমবাপেকে টপকে যেতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত