সংবাদ

সকালে ভিডিও কলে দেখলেন ছেলেকে, বিকেলে এলো মৃত্যুর খবর


জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

সকালে ভিডিও কলে দেখলেন ছেলেকে, বিকেলে এলো মৃত্যুর খবর
ছবি : সংবাদ

রোববার সকাল ১০টা। সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে ভিডিও কলে আট মাসের ছেলে তাসরিফের মুখ দেখছিলেন সোহেল রানা সুমন (৩০)। স্ত্রী আমেনার সঙ্গেও কথা হলো দীর্ঘক্ষণ। কে জানত, ওই ভিডিও কলই হবে ছেলের সঙ্গে সোহেলের শেষ দেখা! কয়েক ঘণ্টা পরই রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান তিনি।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ১০ বছর প্রবাসে থাকার পর দেড় বছর আগে দেশে ফিরে বিয়ে করেন তিনি। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরতে মায়ের শেষ সম্বল স্বর্ণালঙ্কার ও সামান্য জমি বিক্রি করে আবারও সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তার স্বপ্ন ছিল টাকা জমিয়ে দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখে থাকবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন রিয়াদের কারখানার আগুনে ছাই হয়ে গেছে।

রোববার বিকেলে রিয়াদের খোরদাম শহরের ওই কারখানায় আগুন লাগলে সোহেলসহ অন্তত ১৭ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলারই রয়েছেন ১৩ জন।

সোহেলের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। আট মাসের অবুঝ শিশু তাসরিফকে বুকে জড়িয়ে নির্বাক হয়ে বসে আছেন মা আমেনা (২৩)। তিনি বলেন, ‘সকালেও ভিডিও কলে কথা হলো। ছেলেকে দেখে কত হাসলেন! বিকেলে শুনলাম সব শেষ।’

সোহেলের মা স্বপ্না বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বামী হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা তিনি। সোহেলের ছোট বোন সুবর্ণা বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর ভাইই ছিলেন আমাদের ছায়া। এখন মা আর ভাবির কী হবে?’

স্বজনরা জানান, পরিবারের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে বিদেশে গিয়েছিলেন সোহেল। এখন ঋণের বোঝা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে অকূল পাথারে পড়েছে পরিবারটি। আট মাসের তাসরিফ হয়তো এখনো জানে না, তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়টি চিরতরে হারিয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


সকালে ভিডিও কলে দেখলেন ছেলেকে, বিকেলে এলো মৃত্যুর খবর

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রোববার সকাল ১০টা। সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে ভিডিও কলে আট মাসের ছেলে তাসরিফের মুখ দেখছিলেন সোহেল রানা সুমন (৩০)। স্ত্রী আমেনার সঙ্গেও কথা হলো দীর্ঘক্ষণ। কে জানত, ওই ভিডিও কলই হবে ছেলের সঙ্গে সোহেলের শেষ দেখা! কয়েক ঘণ্টা পরই রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান তিনি।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ১০ বছর প্রবাসে থাকার পর দেড় বছর আগে দেশে ফিরে বিয়ে করেন তিনি। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরতে মায়ের শেষ সম্বল স্বর্ণালঙ্কার ও সামান্য জমি বিক্রি করে আবারও সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তার স্বপ্ন ছিল টাকা জমিয়ে দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখে থাকবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন রিয়াদের কারখানার আগুনে ছাই হয়ে গেছে।

রোববার বিকেলে রিয়াদের খোরদাম শহরের ওই কারখানায় আগুন লাগলে সোহেলসহ অন্তত ১৭ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলারই রয়েছেন ১৩ জন।

সোহেলের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। আট মাসের অবুঝ শিশু তাসরিফকে বুকে জড়িয়ে নির্বাক হয়ে বসে আছেন মা আমেনা (২৩)। তিনি বলেন, ‘সকালেও ভিডিও কলে কথা হলো। ছেলেকে দেখে কত হাসলেন! বিকেলে শুনলাম সব শেষ।’

সোহেলের মা স্বপ্না বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বামী হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা তিনি। সোহেলের ছোট বোন সুবর্ণা বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর ভাইই ছিলেন আমাদের ছায়া। এখন মা আর ভাবির কী হবে?’

স্বজনরা জানান, পরিবারের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে বিদেশে গিয়েছিলেন সোহেল। এখন ঋণের বোঝা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে অকূল পাথারে পড়েছে পরিবারটি। আট মাসের তাসরিফ হয়তো এখনো জানে না, তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়টি চিরতরে হারিয়ে গেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত