সংবাদ

১৪ তারিখ ফেরার কথা ছিল শ্যামলের


সুব্রত দাস, রাজশাহী
সুব্রত দাস, রাজশাহী
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

১৪ তারিখ ফেরার কথা ছিল শ্যামলের
ছবি : সংবাদ

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি তুলার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন রাজশাহীর বাগমারার প্রবাসী শ্যামল উদ্দীন মাঝি (৪৫)। আগামী ১৪ আগস্ট তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফেরার সেই ক্ষণ আসার আগেই না-ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। সোমবার তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়।

নিহত শ্যামল উদ্দীন উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের মরু গ্রামের কলিম উদ্দীন মাঝির ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে নিথর হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী ও তিন কন্যা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ধারদেনা করে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান শ্যামল। হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ঋণের টাকা শোধ করার পর চার কক্ষের একটি পাকা বাড়ির কাজ শুরু করেছিলেন। বাড়িতে ফেরার কথা ছিল মাত্র কয়েক দিন পরই। ইচ্ছে ছিল অসম্পূর্ণ বাড়ির কাজ শেষ করবেন এবং দ্বিতীয় মেয়ে নাদিয়াকে বিয়ে দেবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন রিয়াদের কারখানার আগুনে ছাই হয়ে গেছে।

নিহতের স্ত্রী রশিদা বিবি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘রাতেও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বলেছিল, দেশে এসে অসম্পূর্ণ ঘর ঠিক করবে, মেয়ের বিয়ে দেবে। সকালে ফোনের ওপার থেকে খবর এল সে আর নেই। এখন আমাদের কে দেখবে?’

নিহতের বড় মেয়ে শামীমা আক্তার তা‘র বাবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাবার মুখটা শেষবারের মতো দেখে তার নিজ গ্রামেই দাফন করতে চাই।’

ঝিকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্যামল অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


১৪ তারিখ ফেরার কথা ছিল শ্যামলের

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি তুলার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন রাজশাহীর বাগমারার প্রবাসী শ্যামল উদ্দীন মাঝি (৪৫)। আগামী ১৪ আগস্ট তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফেরার সেই ক্ষণ আসার আগেই না-ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। সোমবার তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়।

নিহত শ্যামল উদ্দীন উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের মরু গ্রামের কলিম উদ্দীন মাঝির ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে নিথর হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী ও তিন কন্যা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ধারদেনা করে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান শ্যামল। হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ঋণের টাকা শোধ করার পর চার কক্ষের একটি পাকা বাড়ির কাজ শুরু করেছিলেন। বাড়িতে ফেরার কথা ছিল মাত্র কয়েক দিন পরই। ইচ্ছে ছিল অসম্পূর্ণ বাড়ির কাজ শেষ করবেন এবং দ্বিতীয় মেয়ে নাদিয়াকে বিয়ে দেবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন রিয়াদের কারখানার আগুনে ছাই হয়ে গেছে।

নিহতের স্ত্রী রশিদা বিবি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘রাতেও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বলেছিল, দেশে এসে অসম্পূর্ণ ঘর ঠিক করবে, মেয়ের বিয়ে দেবে। সকালে ফোনের ওপার থেকে খবর এল সে আর নেই। এখন আমাদের কে দেখবে?’

নিহতের বড় মেয়ে শামীমা আক্তার তা‘র বাবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাবার মুখটা শেষবারের মতো দেখে তার নিজ গ্রামেই দাফন করতে চাই।’

ঝিকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্যামল অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত