মাত্র ১৪ দিন আগে জন্ম নেওয়া মেয়ে আয়েশা জান্নাতিকে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিন গুনছিলেন রুবেল হোসেন (২৫)। কিন্তু সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড তার সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। ভিডিও কলে মেয়ের মুখ দেখে যার দিন কাটত, সেই রুবেল এখন ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রায় নয় বছর ধরে সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করতেন। আড়াই বছর আগে বিয়ে করার পর চার মাস আগে ছুটি কাটিয়ে আবারও কর্মস্থলে ফেরেন তিনি। এর মধ্যেই তার ঘর আলো করে আসে প্রথম সন্তান।
রুবেলের বাবা সাইদুর রহমান বলেন, ‘মেয়ে হওয়ার পর রুবেল খুব খুশি ছিল। ভিডিও কলে মেয়েকে দেখত আর বলত, দ্রুত দেশে এসে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরবে। কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না।’
গত রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেলে সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা কারখানায় আগুন লাগলে রুবেলসহ ১৭ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
নিহত অন্য শ্রমিকেরা হলেন-পারকাসুন্দা গ্রামের জালাল; ডুবাই গ্রামের সুমন হোসেন, হাসিবুল হাসান শুভ ও সোহেল রানা; গন্ডগোহালী গ্রামের মোহন প্রামাণিক, সুমন প্রামাণিক ও কলিউদ্দিন প্রামাণিক; উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ; মাদবপুর গ্রামের মজিদুল ইসলাম; মধ্যেবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ এবং খরসতী গ্রামের মহিদুল ইসলাম।
একসঙ্গে ১৩ জন প্রবাসীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আত্রাইয়ের গ্রামগুলোতে শোকের মাতম চলছে। যে পরিবারগুলোতে নবজাতকের আগমন বা ঈদের খুশির আমেজ ছিল, সেখানে এখন শুধুই স্বজনদের আহাজারি। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটিয়ে জীবন উৎসর্গ করা এই শ্রমিকদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
আপনার মতামত লিখুন