ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার অবশেষে চাকরি হারালেন। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ‘রাজনৈতিকভাবে অনুগত’ অফিসার হিসেবে পরিচিতি ছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্তের পর এবার স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রথমত, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের নির্দেশদাতা হিসেবে বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। সরকার পতনের পর রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, লালবাগ, শেরেবাংলা, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন থানায় ২৭টি হত্যা মামলার আসামি হন তিনি। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
দ্বিতীয়ত, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি এবং পরবর্তীতে ডিএমপি সদর দপ্তরের যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনস) থাকাকালীন বিরোধী দলের (বিএনপি-জামায়াত) আন্দোলন-সংগ্রাম কঠোর হস্তে দমনের কারণে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার চেয়ে তিনি ‘আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারের’ মতো আচরণ করতেন বলে সমালোচনা রয়েছে।
তৃতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিপ্লব কুমার সরকার আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করে। দীর্ঘ সময় ধরে কর্মস্থলে পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকার অপরাধে বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সরকারি চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। দুদকের অভিযোগ, বিপ্লব কুমার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৩৪১টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। যেখানে ৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা ও ৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
গেল ১ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে বিপ্লব কুমার সরকার ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের নামে থাকা ২৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ২টি বিও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা হয়। দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গেল বছরের ৯ ডিসেম্বর আদালত বিপ্লব কুমার সরকার, তার স্ত্রী, ভাই ও শ্যালিকার ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
তবে সরকার পতনের পর থেকেই বিপ্লব কুমার সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়, তিনি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও কয়েকজন চোরাকারবারি আটক হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তার বেশ কিছু অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়।

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার অবশেষে চাকরি হারালেন। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ‘রাজনৈতিকভাবে অনুগত’ অফিসার হিসেবে পরিচিতি ছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্তের পর এবার স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রথমত, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের নির্দেশদাতা হিসেবে বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। সরকার পতনের পর রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, লালবাগ, শেরেবাংলা, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন থানায় ২৭টি হত্যা মামলার আসামি হন তিনি। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
দ্বিতীয়ত, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি এবং পরবর্তীতে ডিএমপি সদর দপ্তরের যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনস) থাকাকালীন বিরোধী দলের (বিএনপি-জামায়াত) আন্দোলন-সংগ্রাম কঠোর হস্তে দমনের কারণে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার চেয়ে তিনি ‘আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারের’ মতো আচরণ করতেন বলে সমালোচনা রয়েছে।
তৃতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিপ্লব কুমার সরকার আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করে। দীর্ঘ সময় ধরে কর্মস্থলে পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকার অপরাধে বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সরকারি চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। দুদকের অভিযোগ, বিপ্লব কুমার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৩৪১টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। যেখানে ৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা ও ৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
গেল ১ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে বিপ্লব কুমার সরকার ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের নামে থাকা ২৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ২টি বিও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা হয়। দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গেল বছরের ৯ ডিসেম্বর আদালত বিপ্লব কুমার সরকার, তার স্ত্রী, ভাই ও শ্যালিকার ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
তবে সরকার পতনের পর থেকেই বিপ্লব কুমার সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়, তিনি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও কয়েকজন চোরাকারবারি আটক হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তার বেশ কিছু অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়।

আপনার মতামত লিখুন