সংবাদ

কেমন গেলো ‘হ্যালো ডিসি’র এক মাস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

কেমন গেলো ‘হ্যালো ডিসি’র এক মাস

জেলা প্রশাসনের নানামুখী সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চালু হওয়া ‘হ্যালো ডিসি’ উদ্যোগে ব্যাপক সাড়াজাগানিয়া পরিবর্তন এসেছে।

কার্যক্রমটি চালুর পর প্রথম এক মাসের সেবা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাত্র ৩০ দিনে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মোট ২০৯১ জন নাগরিক সরাসরি সেবা গ্রহণ করেছেন। রবিবার ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ইতিবাচক চিত্র সামনে আসে।

প্রতিবেদনে এক মাসের খতিয়ান

ঢাকা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে এই অ্যাপের মাধ্যমে মোট ৯৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৭৪২টি আবেদনের সেবা ইতোমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ৩৯টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন এবং ৪৬টি অপেক্ষমাণ রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি ও ভুল আবেদনের কারণে ১১৭টি আবেদন বাতিল করা হয়।

অ্যাপ ছাড়াও সরাসরি ফোনকল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৪৯ জন মানুষ তাৎক্ষণিক তথ্য ও সেবা গ্রহণ করেছেন। সাধারণ মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ, প্রতিবন্ধী ও দুস্থদের আর্থিক সহায়তা, প্রবাসীদের গণশুনানি, খাদ্য ভেজাল রোধ এবং অবৈধ খাসজমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে নাগরিকদের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।

প্রান্তিক পর্যায়ে মানবিক ছোঁয়া ও অনলাইন নিরাপত্তা

‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যেই ঢাকার দোহারে একযোগে ১৪টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ধামরাইয়ে ১৫ জন দুস্থ মানুষকে আর্থিক সহায়তা, বেদে পল্লীতে বিশেষ সাহায্য এবং কেরানীগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

নাগরিকদের সহজে সেবা দেওয়া প্রসঙ্গে ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, "নাগরিকদের দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা নিশ্চিত করতেই ‘হ্যালো ডিসি’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ, আবেদন ও সেবারের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আমরা চাই, মানুষ যেন ভোগান্তি ছাড়াই সেবা পায়। যে সেবা একটা ফোনকলে দেওয়া সম্ভব, সে সেবা পেতে কেন একজন বৃদ্ধ মানুষকে তিন ঘণ্টার যানজটে বসে থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসতে হবে? আমরা নাগরিকদের সেই ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই সেবাকে আরও সহজ করতে চেষ্টা করেছি।"

এদিকে অ্যাপটির নিরাপত্তা ও তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেপিটেকের চেয়ারম্যান মুর্তজা পলাশ বলেন, "নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। ‘হ্যালো ডিসি’ প্ল্যাটফর্মে কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা প্রকাশের সুযোগ নেই। সেবার প্রয়োজনেই কেবল নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তথ্য ব্যবহার করা হয় এবং তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের আস্থা ধরে রাখাও আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই তথ্যের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পুরো সিস্টেমটি তৈরি ও পরিচালনা করা হচ্ছে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


কেমন গেলো ‘হ্যালো ডিসি’র এক মাস

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জেলা প্রশাসনের নানামুখী সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চালু হওয়া ‘হ্যালো ডিসি’ উদ্যোগে ব্যাপক সাড়াজাগানিয়া পরিবর্তন এসেছে।

কার্যক্রমটি চালুর পর প্রথম এক মাসের সেবা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাত্র ৩০ দিনে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মোট ২০৯১ জন নাগরিক সরাসরি সেবা গ্রহণ করেছেন। রবিবার ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ইতিবাচক চিত্র সামনে আসে।

প্রতিবেদনে এক মাসের খতিয়ান

ঢাকা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে এই অ্যাপের মাধ্যমে মোট ৯৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৭৪২টি আবেদনের সেবা ইতোমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ৩৯টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন এবং ৪৬টি অপেক্ষমাণ রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি ও ভুল আবেদনের কারণে ১১৭টি আবেদন বাতিল করা হয়।

অ্যাপ ছাড়াও সরাসরি ফোনকল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৪৯ জন মানুষ তাৎক্ষণিক তথ্য ও সেবা গ্রহণ করেছেন। সাধারণ মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ, প্রতিবন্ধী ও দুস্থদের আর্থিক সহায়তা, প্রবাসীদের গণশুনানি, খাদ্য ভেজাল রোধ এবং অবৈধ খাসজমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে নাগরিকদের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।

প্রান্তিক পর্যায়ে মানবিক ছোঁয়া ও অনলাইন নিরাপত্তা

‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যেই ঢাকার দোহারে একযোগে ১৪টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ধামরাইয়ে ১৫ জন দুস্থ মানুষকে আর্থিক সহায়তা, বেদে পল্লীতে বিশেষ সাহায্য এবং কেরানীগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

নাগরিকদের সহজে সেবা দেওয়া প্রসঙ্গে ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, "নাগরিকদের দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা নিশ্চিত করতেই ‘হ্যালো ডিসি’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ, আবেদন ও সেবারের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আমরা চাই, মানুষ যেন ভোগান্তি ছাড়াই সেবা পায়। যে সেবা একটা ফোনকলে দেওয়া সম্ভব, সে সেবা পেতে কেন একজন বৃদ্ধ মানুষকে তিন ঘণ্টার যানজটে বসে থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসতে হবে? আমরা নাগরিকদের সেই ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই সেবাকে আরও সহজ করতে চেষ্টা করেছি।"

এদিকে অ্যাপটির নিরাপত্তা ও তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেপিটেকের চেয়ারম্যান মুর্তজা পলাশ বলেন, "নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। ‘হ্যালো ডিসি’ প্ল্যাটফর্মে কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা প্রকাশের সুযোগ নেই। সেবার প্রয়োজনেই কেবল নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তথ্য ব্যবহার করা হয় এবং তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের আস্থা ধরে রাখাও আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই তথ্যের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পুরো সিস্টেমটি তৈরি ও পরিচালনা করা হচ্ছে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত