আজ ২৪ আগস্ট, ইয়াসমিন ট্র্যাজেডি দিবস। ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন কিশোরী ইয়াসমিন। এ ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ২৭ আগস্ট বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে সামু, কাদের ও সিরাজসহ সাতজন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে দিনটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিভিন্ন নারী সংগঠন।
১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ভোররাতে ঢাকায় কর্মস্থল থেকে দিনাজপুরে মায়ের কাছে ফিরছিলেন ইয়াসমিন। দিনাজপুরগামী বাস না পেয়ে তিনি ঠাকুরগাঁওগামী একটি বাসে ওঠেন। বাসটি তাকে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় নামিয়ে দেয়। সেখানে একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে পুলিশের টহল গাড়ি এসে তাকে শহরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে তুলে নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পথে পুলিশ সদস্যরা ইয়াসমিনকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। পরে তার মরদেহ দিনাজপুর শহরের কাছে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ২৫ আগস্ট থেকে দিনাজপুরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২৬ আগস্ট রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করেন। পরদিন ২৭ আগস্ট শান্তিপূর্ণ একটি মিছিলের ওপর পুলিশ গুলি চালালে সাতজন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিনাজপুর শহরে কারফিউ জারি করা হয় এবং তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রংপুর বিশেষ আদালত ইয়াসমিন হত্যা মামলায় তিন পুলিশ সদস্য - এএসআই মইনুল হোসেন, কনস্টেবল আবদুস সাত্তার ও পিকআপচালক অমৃত লাল বর্মনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে আলামত গোপনের অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ সুপার আবদুল মোতালেব এবং বিক্ষোভে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জব্বার ফারুককে আদালত মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
ইয়াসমিন ট্র্যাজেডির ৩১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দিনাজপুর জেলা শাখা বিকেল সাড়ে চারটায় মুন্সিপাড়ার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
আজ ২৪ আগস্ট, ইয়াসমিন ট্র্যাজেডি দিবস। ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন কিশোরী ইয়াসমিন। এ ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ২৭ আগস্ট বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে সামু, কাদের ও সিরাজসহ সাতজন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে দিনটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিভিন্ন নারী সংগঠন।
১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ভোররাতে ঢাকায় কর্মস্থল থেকে দিনাজপুরে মায়ের কাছে ফিরছিলেন ইয়াসমিন। দিনাজপুরগামী বাস না পেয়ে তিনি ঠাকুরগাঁওগামী একটি বাসে ওঠেন। বাসটি তাকে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় নামিয়ে দেয়। সেখানে একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে পুলিশের টহল গাড়ি এসে তাকে শহরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে তুলে নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পথে পুলিশ সদস্যরা ইয়াসমিনকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। পরে তার মরদেহ দিনাজপুর শহরের কাছে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ২৫ আগস্ট থেকে দিনাজপুরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২৬ আগস্ট রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করেন। পরদিন ২৭ আগস্ট শান্তিপূর্ণ একটি মিছিলের ওপর পুলিশ গুলি চালালে সাতজন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিনাজপুর শহরে কারফিউ জারি করা হয় এবং তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রংপুর বিশেষ আদালত ইয়াসমিন হত্যা মামলায় তিন পুলিশ সদস্য - এএসআই মইনুল হোসেন, কনস্টেবল আবদুস সাত্তার ও পিকআপচালক অমৃত লাল বর্মনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে আলামত গোপনের অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ সুপার আবদুল মোতালেব এবং বিক্ষোভে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জব্বার ফারুককে আদালত মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
ইয়াসমিন ট্র্যাজেডির ৩১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দিনাজপুর জেলা শাখা বিকেল সাড়ে চারটায় মুন্সিপাড়ার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

আপনার মতামত লিখুন