যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উল্লাসী জিয়া খাল দীর্ঘ ৫০ বছর পর আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পুনঃখননের ফলে খালের নাব্যতা ফিরে আসায় এবার বর্ষায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সোনামুখী ও বনমান্দার বিলসহ প্রায় ২২টি বিলের পানি এখন এই খাল দিয়ে অনায়াসেই নেমে যাচ্ছে। ফলে কয়েক হাজার একর জমিতে এবার আমন চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় সংস্কার না করায় খালটি ভরাট হয়ে গিয়েছিল। বাবার স্মৃতিবিজড়িত সেই খালটিই আবার নতুন করে খনন করলেন ছেলে তারেক রহমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভরাট হয়ে যাওয়া মরা খালে এখন স্রোত বইছে। স্থানীয় জেলেরা জাল ফেলছেন মাছ ধরার জন্য। গ্রামের শিশু-কিশোরেরা মেতেছে সাঁতার ও জলকেলিতে। কৃষকেরা জানান, একসময় সামান্য বৃষ্টিতেই বিলে পানি জমে আমন চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। এবার চিত্র ভিন্ন। খাল দিয়ে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ জমিতেই ধান লাগানো শেষ হয়েছে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘খালটি খনন করায় সোনামুখী ও কামান্দার বিলের জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে। উপজেলায় এবার ২০ হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে এরই মধ্যে রোপণ শেষ হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এই খালের পানি সেচ কাজেও ব্যবহার করা যাবে।’
তবে স্থানীয়দের একটি দাবি এখনো অপূরণীয়। তারা জানান, জিয়া খালের সঙ্গে সংযুক্ত বেতনা নদীটি এখনো অবৈধ দখলে রয়েছে। নদীটি দখলমুক্ত করা গেলে খাল খননের সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শনে এসে জানিয়েছেন, যশোরের উন্নয়নের থমকে যাওয়া চাকা আবার সচল করার অংশ হিসেবেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উল্লাসী জিয়া খাল দীর্ঘ ৫০ বছর পর আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পুনঃখননের ফলে খালের নাব্যতা ফিরে আসায় এবার বর্ষায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সোনামুখী ও বনমান্দার বিলসহ প্রায় ২২টি বিলের পানি এখন এই খাল দিয়ে অনায়াসেই নেমে যাচ্ছে। ফলে কয়েক হাজার একর জমিতে এবার আমন চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় সংস্কার না করায় খালটি ভরাট হয়ে গিয়েছিল। বাবার স্মৃতিবিজড়িত সেই খালটিই আবার নতুন করে খনন করলেন ছেলে তারেক রহমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভরাট হয়ে যাওয়া মরা খালে এখন স্রোত বইছে। স্থানীয় জেলেরা জাল ফেলছেন মাছ ধরার জন্য। গ্রামের শিশু-কিশোরেরা মেতেছে সাঁতার ও জলকেলিতে। কৃষকেরা জানান, একসময় সামান্য বৃষ্টিতেই বিলে পানি জমে আমন চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। এবার চিত্র ভিন্ন। খাল দিয়ে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ জমিতেই ধান লাগানো শেষ হয়েছে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘খালটি খনন করায় সোনামুখী ও কামান্দার বিলের জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে। উপজেলায় এবার ২০ হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে এরই মধ্যে রোপণ শেষ হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এই খালের পানি সেচ কাজেও ব্যবহার করা যাবে।’
তবে স্থানীয়দের একটি দাবি এখনো অপূরণীয়। তারা জানান, জিয়া খালের সঙ্গে সংযুক্ত বেতনা নদীটি এখনো অবৈধ দখলে রয়েছে। নদীটি দখলমুক্ত করা গেলে খাল খননের সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শনে এসে জানিয়েছেন, যশোরের উন্নয়নের থমকে যাওয়া চাকা আবার সচল করার অংশ হিসেবেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন