বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়ে গেল। এত ফরমাল এবং রাষ্ট্রাচার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এর আগের রাষ্ট্রপতিরা নির্বাচিত হয়েছিলেন কিনা তা নিয়েও জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বেশ উৎসবমুখর ও জাঁকজমক আয়োজনের ভেতর দিয়ে এ নির্বাচনী অনুষ্ঠান হয়ে গেল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নিজে এবং প্রধানমন্ত্রী গোপন ব্যালটে ভোট দেন। এখানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও একজন প্রার্থী দেয়া হয়েছিল। তবে সে প্রার্থী নিজে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ছিলেন না। তিনি তার নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে পরাজিত হয়েছিলেন। বলা যায় তিনি একজন সংসদের বাইরের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তবে তর্কে-বিতর্কে, বাক-বিতন্ডা আর নানা সময়ে নতুন নতুন রাজনৈতিক ইস্যুভিত্তিক মন্তব্যে তার জুড়ি মেলা ভার। বিশেষ করে একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ইত্যাদি বিষয়ে তিনি একজন একক দার্শনিক। এমনকি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত হয়েও তিনি বঙ্গভবন এবং রাষ্ট্রপতির কর্ম নিয়ে একটা আজগুবি শব্দবোমা ফাটিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির কাজ হল বঙ্গভবনের ভেতরের মাজার জিয়ারত করা ইত্যাদি।
২.
বিএনপি’র মহাসচিব পদে দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্ব পালনকারী একজন পরীক্ষিত আস্থাভাজন নেতা, সুশীল, উচ্চশিক্ষিত ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতজন মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটা ইতিবাচক সাড়া পড়ে যায়। বিনয়ী মানুষ, নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক, আদর্শিক ভাব-ভাবনার অধিকারী ব্যক্তি হিসেবেও রয়েছে তার বিপুল জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তা। আমার একেবারে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বলছি, বঙ্গবন্ধুর পরে বাংলাদেশের আর কোনো রাষ্ট্রপতিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতাগুলো থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ও অনর্গল আবৃত্তি করতে শোনা যায়নি। এদিক থেকে নবনির্বাচিত বর্তমান রাষ্ট্রপতি ব্যতিক্রমী তথা বাংলাভাষা ও শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির একজন সমঝদার ব্যক্তিত্ব। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো, ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ, পরমতসহিষ্ণু ‘রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর ভূমিকা এবং আচরণও হবে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী।
৩.
একইসঙ্গে মনে হচ্ছে, দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ একটা হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন, গুজব তথা ‘মব সম্রাট’ খ্যাত মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়ায়। জনমনে ঘোরলাগা সংশয় ছিল, ট্রেনে, বাসে, স্টেশনে, সড়কে, জনপদে মানুষের মাঝে চাপা আশঙ্কা ছিল তিনিই হবেন দেশের পরবর্তী অর্থাৎ ২৩তম রাষ্ট্রপতি। বিগত অন্তর্বর্তী সময়ের সরকার প্রধান হিসেবে তিনি জাতিকে যতটা হতাশ করেছেন, সম্ভবত অতীতে আর কেউ করেন নি। ভবিষ্যতেও এমনটা করার সম্ভাবনা কম। তার সময় নিয়ে এখন সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে যে, তিনি তার বাক- যাদুবিদ্যা দিয়ে কেবল দেশবাসীকে বোকা বানানোর অসাধারণ পারদর্শিতা ও ছলাকলার কৌশলই রপ্ত করেছেন। আর কিছু নয়। তার দ্বারা যে অন্যকিছু হবে না এটাও আজ দিবালোকের মতন প্রকাশিত।
৪.
এ বছরের (২০২৬ খ্রি.) এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে একধরনের বিপর্যয় ঘটে যায়। পাসের হার আশঙ্কাজনক ভাবে হ্রাস পায়। দেশের মোট ১১টি শিক্ষা বাের্ডে পাসের গড় হার দাঁড়ায় ৬২.২৫ শতাংশ। যা বিগত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শিক্ষামন্ত্রী ফল প্রকাশ কালে বললেন, ফলাফল নিয়ে কারও যদি আপত্তি থাকে, তাহলে তিনি খাতা রিভিউ করার সুযোগ দিবেন। এমন ঘোষণা দেওয়ার কারনে অবস্হা কোন দিকে যাচ্ছে সেটাও জানা দরকার। এবছর দেশে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৩০ হাজারের মতন। পাস করেছে ১১ লাখ ৩৯ হাজারের কাছাকাছি। কিন্তু জানা যায়, পাস এবং ফেইল করা মিলিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ছাত্র ছাত্রী তাদের খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করেছে। এটাও দেশে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সেদিন একজন প্রধান পরীক্ষক জানালেন, তার অধীনে সাধারণ পরীক্ষক থাকেন ৫ থেকে ৮ জন। প্রথমে তারা খাতা পুনঃপরীক্ষা করে প্রধান পরীক্ষকের কাছে জমা দেন।
প্রধান পরীক্ষক পুনঃনিরীক্ষন শেষে তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডে নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেন। তবে খাতা পুনঃমূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, আবেদনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ কূণ্য বা ১ থেকে ৫ নম্বর পেয়েছে এমন আছে। সেখানে নম্বর যোগ করার কি কোনো সুযোগ আছে? আবার দেখা গেছে ৯০ নম্বর পাওয়া ছাত্রও আবেদন করেছে, কারণ তার ধারণা সে ১০০ নম্বরে ৯৮ বা ৯৯ পাবে। এটা এক অদ্ভূত বিষয় এবং অভিজ্ঞতা বলে সেই প্রধান পরীক্ষক জানালেন। তিনি বলেন, ‘সরকার কর্তৃক ঢালাও ভাবে এমন সুযোগ দেয়া যথাযথ হয়নি। বরং বিশেষ ক্ষেত্রে তা করা যেত’।
তাদের অভিজ্ঞতা বলে, এর মধ্যে লক্ষাধিক ছাত্র ছাত্রী আবেদন করেছে সম্পুর্ন বিনা কারণে। তাদের ধারণা সরকার হয়তো কোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করে এদের পাস নিশ্চিত করে দিবে।
৫.
এদিকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কলেজে ভর্তি নিয়ে চলছে আরেক নজিরবিহীন কাণ্ড। এবছর এসএসসিতে কম পাস করায় গ্রামের কলেজগুলো প্রয়োজনীয় ছাত্র-ছাত্রী পাচ্ছে না। এমপিও, ননএমপিও সব কলেজই নানা প্রকার ছাড় দিয়ে বা আর্থিক সুযোগ সুবিধার কথা ঘোষণা দিয়েও ছাত্রদের নাগাল পাচ্ছে না। বিনা বেতনে পড়ানোর অঙ্গীকার করেও হালে পানি পাচ্ছে না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কলেজ শিক্ষকগণ ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দিচ্ছেন, মা-বাবা, অভিভাবককে সম্মত করেও ছাত্রের মন পাচ্ছে না। তারা শহরের বড় বড় কলেজের স্বপ্ন দেখছে। গ্রামের প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করবে না। এক্ষেত্রে অভিভাবকরা যেন রীতিমতো অসহায়বোধ করছেন।
তারা সন্তানদের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে গ্রামবাংলার শত শত স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাধারণ ইন্টারমিডিয়েট কলেজগুলো প্রত্যাশিত ছাত্র-ছাত্রী পাচ্ছে না। জানা যায়, কোনো নতুন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাত প্রায় সমান সমান। গ্রামীণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ চিত্র কখনো কাম্য হতে পারে না।
(লেখকের নিজস্ব মত)
[লেখক: গল্পকার]

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়ে গেল। এত ফরমাল এবং রাষ্ট্রাচার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এর আগের রাষ্ট্রপতিরা নির্বাচিত হয়েছিলেন কিনা তা নিয়েও জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বেশ উৎসবমুখর ও জাঁকজমক আয়োজনের ভেতর দিয়ে এ নির্বাচনী অনুষ্ঠান হয়ে গেল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নিজে এবং প্রধানমন্ত্রী গোপন ব্যালটে ভোট দেন। এখানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও একজন প্রার্থী দেয়া হয়েছিল। তবে সে প্রার্থী নিজে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ছিলেন না। তিনি তার নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে পরাজিত হয়েছিলেন। বলা যায় তিনি একজন সংসদের বাইরের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তবে তর্কে-বিতর্কে, বাক-বিতন্ডা আর নানা সময়ে নতুন নতুন রাজনৈতিক ইস্যুভিত্তিক মন্তব্যে তার জুড়ি মেলা ভার। বিশেষ করে একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ইত্যাদি বিষয়ে তিনি একজন একক দার্শনিক। এমনকি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত হয়েও তিনি বঙ্গভবন এবং রাষ্ট্রপতির কর্ম নিয়ে একটা আজগুবি শব্দবোমা ফাটিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির কাজ হল বঙ্গভবনের ভেতরের মাজার জিয়ারত করা ইত্যাদি।
২.
বিএনপি’র মহাসচিব পদে দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্ব পালনকারী একজন পরীক্ষিত আস্থাভাজন নেতা, সুশীল, উচ্চশিক্ষিত ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতজন মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটা ইতিবাচক সাড়া পড়ে যায়। বিনয়ী মানুষ, নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক, আদর্শিক ভাব-ভাবনার অধিকারী ব্যক্তি হিসেবেও রয়েছে তার বিপুল জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তা। আমার একেবারে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বলছি, বঙ্গবন্ধুর পরে বাংলাদেশের আর কোনো রাষ্ট্রপতিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতাগুলো থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ও অনর্গল আবৃত্তি করতে শোনা যায়নি। এদিক থেকে নবনির্বাচিত বর্তমান রাষ্ট্রপতি ব্যতিক্রমী তথা বাংলাভাষা ও শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির একজন সমঝদার ব্যক্তিত্ব। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো, ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ, পরমতসহিষ্ণু ‘রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর ভূমিকা এবং আচরণও হবে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী।
৩.
একইসঙ্গে মনে হচ্ছে, দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ একটা হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন, গুজব তথা ‘মব সম্রাট’ খ্যাত মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়ায়। জনমনে ঘোরলাগা সংশয় ছিল, ট্রেনে, বাসে, স্টেশনে, সড়কে, জনপদে মানুষের মাঝে চাপা আশঙ্কা ছিল তিনিই হবেন দেশের পরবর্তী অর্থাৎ ২৩তম রাষ্ট্রপতি। বিগত অন্তর্বর্তী সময়ের সরকার প্রধান হিসেবে তিনি জাতিকে যতটা হতাশ করেছেন, সম্ভবত অতীতে আর কেউ করেন নি। ভবিষ্যতেও এমনটা করার সম্ভাবনা কম। তার সময় নিয়ে এখন সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে যে, তিনি তার বাক- যাদুবিদ্যা দিয়ে কেবল দেশবাসীকে বোকা বানানোর অসাধারণ পারদর্শিতা ও ছলাকলার কৌশলই রপ্ত করেছেন। আর কিছু নয়। তার দ্বারা যে অন্যকিছু হবে না এটাও আজ দিবালোকের মতন প্রকাশিত।
৪.
এ বছরের (২০২৬ খ্রি.) এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে একধরনের বিপর্যয় ঘটে যায়। পাসের হার আশঙ্কাজনক ভাবে হ্রাস পায়। দেশের মোট ১১টি শিক্ষা বাের্ডে পাসের গড় হার দাঁড়ায় ৬২.২৫ শতাংশ। যা বিগত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শিক্ষামন্ত্রী ফল প্রকাশ কালে বললেন, ফলাফল নিয়ে কারও যদি আপত্তি থাকে, তাহলে তিনি খাতা রিভিউ করার সুযোগ দিবেন। এমন ঘোষণা দেওয়ার কারনে অবস্হা কোন দিকে যাচ্ছে সেটাও জানা দরকার। এবছর দেশে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৩০ হাজারের মতন। পাস করেছে ১১ লাখ ৩৯ হাজারের কাছাকাছি। কিন্তু জানা যায়, পাস এবং ফেইল করা মিলিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ছাত্র ছাত্রী তাদের খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করেছে। এটাও দেশে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সেদিন একজন প্রধান পরীক্ষক জানালেন, তার অধীনে সাধারণ পরীক্ষক থাকেন ৫ থেকে ৮ জন। প্রথমে তারা খাতা পুনঃপরীক্ষা করে প্রধান পরীক্ষকের কাছে জমা দেন।
প্রধান পরীক্ষক পুনঃনিরীক্ষন শেষে তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডে নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেন। তবে খাতা পুনঃমূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, আবেদনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ কূণ্য বা ১ থেকে ৫ নম্বর পেয়েছে এমন আছে। সেখানে নম্বর যোগ করার কি কোনো সুযোগ আছে? আবার দেখা গেছে ৯০ নম্বর পাওয়া ছাত্রও আবেদন করেছে, কারণ তার ধারণা সে ১০০ নম্বরে ৯৮ বা ৯৯ পাবে। এটা এক অদ্ভূত বিষয় এবং অভিজ্ঞতা বলে সেই প্রধান পরীক্ষক জানালেন। তিনি বলেন, ‘সরকার কর্তৃক ঢালাও ভাবে এমন সুযোগ দেয়া যথাযথ হয়নি। বরং বিশেষ ক্ষেত্রে তা করা যেত’।
তাদের অভিজ্ঞতা বলে, এর মধ্যে লক্ষাধিক ছাত্র ছাত্রী আবেদন করেছে সম্পুর্ন বিনা কারণে। তাদের ধারণা সরকার হয়তো কোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করে এদের পাস নিশ্চিত করে দিবে।
৫.
এদিকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কলেজে ভর্তি নিয়ে চলছে আরেক নজিরবিহীন কাণ্ড। এবছর এসএসসিতে কম পাস করায় গ্রামের কলেজগুলো প্রয়োজনীয় ছাত্র-ছাত্রী পাচ্ছে না। এমপিও, ননএমপিও সব কলেজই নানা প্রকার ছাড় দিয়ে বা আর্থিক সুযোগ সুবিধার কথা ঘোষণা দিয়েও ছাত্রদের নাগাল পাচ্ছে না। বিনা বেতনে পড়ানোর অঙ্গীকার করেও হালে পানি পাচ্ছে না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কলেজ শিক্ষকগণ ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দিচ্ছেন, মা-বাবা, অভিভাবককে সম্মত করেও ছাত্রের মন পাচ্ছে না। তারা শহরের বড় বড় কলেজের স্বপ্ন দেখছে। গ্রামের প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করবে না। এক্ষেত্রে অভিভাবকরা যেন রীতিমতো অসহায়বোধ করছেন।
তারা সন্তানদের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে গ্রামবাংলার শত শত স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাধারণ ইন্টারমিডিয়েট কলেজগুলো প্রত্যাশিত ছাত্র-ছাত্রী পাচ্ছে না। জানা যায়, কোনো নতুন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাত প্রায় সমান সমান। গ্রামীণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ চিত্র কখনো কাম্য হতে পারে না।
(লেখকের নিজস্ব মত)
[লেখক: গল্পকার]

আপনার মতামত লিখুন