ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এর কাছাকাছি মায়ুন বা পেরিম দ্বীপ এখন তাদের মুঠোয়। এর আগে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগর মোখা দখল করে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্রুত অগ্রগতি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য নতুন বিপদের ঘণ্টা বাজিয়েছে। বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ, যেখান দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ চলাচল করে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পর এই পথটির গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে সৌদি আরব বর্তমানে ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল। যুদ্ধ শুরুর পর এই পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিনে ৭০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করে রিয়াদ। কিন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এর সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের আধিপত্য যোগ হওয়ায় সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প পথগুলো মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের পক্ষে পুরো লোহিত সাগর দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ রাখা কঠিন হলেও, যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেই তারা জাহাজ চলাচল কমিয়ে দিতে পারে। এতে পরিবহন ও বিমা খরচ বেড়ে গিয়ে বিশ্ব বাজারে পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে বিমান হামলা চালালেও এখন পর্যন্ত হুথিদের অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি। এমতাবস্থায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন।
তবে ওয়াশিংটন সরাসরি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে গোয়েন্দা সহায়তার দিকে ঝুঁকছে। এরই মধ্যে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিন দেশের একজনের ওপর হামলা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হলেও পাকিস্তান জানিয়েছে যে এই মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংঘাতে জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথ এবং আঞ্চলিক কূটনীতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এর কাছাকাছি মায়ুন বা পেরিম দ্বীপ এখন তাদের মুঠোয়। এর আগে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগর মোখা দখল করে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্রুত অগ্রগতি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য নতুন বিপদের ঘণ্টা বাজিয়েছে। বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ, যেখান দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ চলাচল করে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পর এই পথটির গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে সৌদি আরব বর্তমানে ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল। যুদ্ধ শুরুর পর এই পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিনে ৭০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করে রিয়াদ। কিন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এর সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের আধিপত্য যোগ হওয়ায় সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প পথগুলো মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের পক্ষে পুরো লোহিত সাগর দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ রাখা কঠিন হলেও, যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেই তারা জাহাজ চলাচল কমিয়ে দিতে পারে। এতে পরিবহন ও বিমা খরচ বেড়ে গিয়ে বিশ্ব বাজারে পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে বিমান হামলা চালালেও এখন পর্যন্ত হুথিদের অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি। এমতাবস্থায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন।
তবে ওয়াশিংটন সরাসরি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে গোয়েন্দা সহায়তার দিকে ঝুঁকছে। এরই মধ্যে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিন দেশের একজনের ওপর হামলা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হলেও পাকিস্তান জানিয়েছে যে এই মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংঘাতে জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথ এবং আঞ্চলিক কূটনীতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন