সংবাদ

গাছ কেটে খাস জমিতে দোকান ও পাকা ঘর


প্রতিনিধি, বদরগঞ্জ (রংপুর)
প্রতিনিধি, বদরগঞ্জ (রংপুর)
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

গাছ কেটে খাস জমিতে দোকান ও পাকা ঘর
রংপুরের বদরগঞ্জে খাস জমিতে গাছ কেটে পাকা ঘর নির্মাণ। ছবি : সংবাদ

রংপুরের বদরগঞ্জে সরকারি খাস জমি বরাদ্দের আবেদন জমা দিয়েই তা দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু জমি দখলই নয়, সেখানে থাকা সরকারি বড় বড় গাছ কেটে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা দোকানঘর ও বসতবাড়ি।

উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর এলাকার চান্দামারিঘাট সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটেছে। সরকারি জমি দখলের এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৈরামপুর মৌজায় মোট ৯ একর ৬৩ শতক খাস জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৮ দাগের ৮ শতক জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন আতাউর রহমান নামের এক ব্যক্তি। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি ২ শতক খাস জমি বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আবেদন করেন তিনি। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্তের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে চিঠি পাঠানো হয়।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হলেও এবং জমি বরাদ্দ পাওয়ার আগেই আতাউর রহমান ওই খাস জমি নিজের দখলে নেন। এমনকি বরাদ্দ পাওয়ার আগেই গাছ কেটে সেখানে ৮ শতক জমিতে স্থায়ী পাকা স্থাপনা গড়ে তোলেন। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ওই খাস জমি দখলের চেষ্টা করেছিলেন আতাউর। তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মালিহা খানমের হস্তক্ষেপে সেবার তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে ওই কর্মকর্তার বদলির সুযোগে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বকুল মিয়ার প্রশ্রয়ে তিনি পুনরায় জমিটি দখলে নেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বকুল মিয়া বলেন, ‘জমিটি এখনো আতাউর রহমানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। মে মাসে পরিদর্শনে গিয়ে তার পাকা ঘর নির্মাণের বিষয়টি আমি দেখেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।’ তবে চার মাস পার হলেও কেন বিষয়টি জানানো হয়নি, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ঘটনার সত্যতা জানতে বদরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, ‘জরুরি সভায় আছি, পরে কথা বলব।’

বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, ‘আবেদন জমা দিয়েই খাস জমি দখল করে পাকা স্থাপনা গড়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আতাউর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে জমিটি বরাদ্দ পাব–এটা নিশ্চিত হয়েই পাকা স্থাপনা তৈরি করেছি।’ তবে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল ২ শতক কিন্তু দখল করেছেন ৮ শতক–এমন প্রশ্নে এবং সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গাছ কেটে খাস জমিতে দোকান ও পাকা ঘর

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রংপুরের বদরগঞ্জে সরকারি খাস জমি বরাদ্দের আবেদন জমা দিয়েই তা দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু জমি দখলই নয়, সেখানে থাকা সরকারি বড় বড় গাছ কেটে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা দোকানঘর ও বসতবাড়ি।

উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর এলাকার চান্দামারিঘাট সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটেছে। সরকারি জমি দখলের এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৈরামপুর মৌজায় মোট ৯ একর ৬৩ শতক খাস জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৮ দাগের ৮ শতক জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন আতাউর রহমান নামের এক ব্যক্তি। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি ২ শতক খাস জমি বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আবেদন করেন তিনি। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্তের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে চিঠি পাঠানো হয়।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হলেও এবং জমি বরাদ্দ পাওয়ার আগেই আতাউর রহমান ওই খাস জমি নিজের দখলে নেন। এমনকি বরাদ্দ পাওয়ার আগেই গাছ কেটে সেখানে ৮ শতক জমিতে স্থায়ী পাকা স্থাপনা গড়ে তোলেন। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ওই খাস জমি দখলের চেষ্টা করেছিলেন আতাউর। তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মালিহা খানমের হস্তক্ষেপে সেবার তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে ওই কর্মকর্তার বদলির সুযোগে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বকুল মিয়ার প্রশ্রয়ে তিনি পুনরায় জমিটি দখলে নেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বকুল মিয়া বলেন, ‘জমিটি এখনো আতাউর রহমানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। মে মাসে পরিদর্শনে গিয়ে তার পাকা ঘর নির্মাণের বিষয়টি আমি দেখেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।’ তবে চার মাস পার হলেও কেন বিষয়টি জানানো হয়নি, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ঘটনার সত্যতা জানতে বদরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, ‘জরুরি সভায় আছি, পরে কথা বলব।’

বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, ‘আবেদন জমা দিয়েই খাস জমি দখল করে পাকা স্থাপনা গড়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আতাউর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে জমিটি বরাদ্দ পাব–এটা নিশ্চিত হয়েই পাকা স্থাপনা তৈরি করেছি।’ তবে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল ২ শতক কিন্তু দখল করেছেন ৮ শতক–এমন প্রশ্নে এবং সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত