সংবাদ

নিউগিনি প্রকল্পে হামলা: মাস্ক পরা দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

নিউগিনি প্রকল্পে হামলা: মাস্ক পরা দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বর এলাকার দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে এক রোমহর্ষক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতের এই আকস্মিক হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ নামের স্টুডিওটি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্টুডিওর প্রতিনিধি ইলা জানান, ঘটনার রাতে স্টুডিওতে দুজন কর্মী ছিলেন। পাশের নির্মাণকাজ থেকে শব্দ আসছে মনে করে তারা প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। পরে দুর্বৃত্তদের প্রবেশের বিষয়টি টের পেয়ে তারা ওয়াশরুমে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানান।

ইলা আরও বলেন, ‘পরে আবার ফোন করা হলে তাদের আর পাওয়া যায়নি। ততক্ষণে দুর্বৃত্তরা তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছিল।’ মাস্ক পরা দুই ব্যক্তি স্টুডিওতে ঢুকে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

স্টুডিও থেকে একটি ক্যামেরা, তিনটি লেন্স, চারটি লাইট, চারটি সফটবক্স এবং সিসিটিভির সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট হয়েছে উল্লেখ করে ইলা বলেন, ‘আমাদের পুরো স্টুডিওই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরবর্তীতে পুনর্ব্যবহার বা চালু করার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের কোনো চাঁদার বিষয় কিংবা শত্রুতার কারণে এ হামলা হয়েছে কি না, আমরা তা জানি না। আমরা মূলত পরিস্থিতির শিকার। পুরো প্রজেক্ট বা এর মালিকের সঙ্গে কোনো ঝামেলার কারণে আমাদের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি।’

পিস্তল ও রামদা নিয়ে ১৫-২০ জনের তাণ্ডব, শ্রমিকদের জমানো টাকা ও ১৬ ফোন লুট

শনিবার রাতের এই ভয়াবহ তাণ্ডবের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ওই আবাসন প্রকল্পের সাধারণ নির্মাণশ্রমিকরা। শ্রমিক নয়ন জানান, আমরা এখানে কাজ করি, এখানেই থাকি। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও আমরা কাজ শেষ করে শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে ১৫-২০ জনের একটি দল আমাদের এখানে এসে কয়েকজনকে মারধর শুরু করে।

হামলাকারীদের নৃশংসতার কথা তুলে ধরে নয়ন আরও বলেন, ‘তাদের হাতে পিস্তল, রামদা, লাঠি, চাপাতি ছিল। তারা অনেকগুলো গুলিও করে। তখন আমরা ভয়ে লুকিয়ে ছিলাম।’

তিনি জানান, আমরা এখানে ৫০ জনের মতো ছিলাম। প্রত্যেকের কাছে টাকা ছিল। তারা রুমে এসে আমাদের সবাইকে বের করে দেয়। কয়েকজনকে মারধরও করে। পরে আমরা ভয়ে বের হয়ে গেলে রুমে আমাদের টাকা-পয়সা যা ছিল সব লুট করে নিয়ে যায়। আমরা ফিরে এলে রুমে ঢুকে আমাদের ব্যাগগুলোও ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় দেখতে পাই। আমাদের অন্তত ৫০ জন শ্রমিকের জমানো টাকা ও ১৬টি মোবাইল ফোন তারা নিয়ে গেছে।

চিকোজ দম্পতিকে মারধর ও হাসপাতালে ভর্তি, মূল পরিকল্পনাকারসহ গ্রেফতার চার

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয় এবং চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং একপর্যায়ে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা লোহার ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিউগিনি প্রকল্পের মূল ফটকটি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সংখ্যায় কয়েকশ ছিল। ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই পাশেই ছিল ১০ তলা একটি ভবন। সেখানেও হামলা চালানো হয়।

আবাসিক এলাকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলার শিকার ওই ১০ তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন এক চিকিৎসক দম্পতি। হামলাকারীরা ওই ফ্ল্যাটে হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করে সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই দম্পতি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

এদিকে, শনিবার রাতের এ হামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতাররা হলেন হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ার, ভাসানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিউগিনি প্রকল্পে হামলা: মাস্ক পরা দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বর এলাকার দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে এক রোমহর্ষক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতের এই আকস্মিক হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ নামের স্টুডিওটি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্টুডিওর প্রতিনিধি ইলা জানান, ঘটনার রাতে স্টুডিওতে দুজন কর্মী ছিলেন। পাশের নির্মাণকাজ থেকে শব্দ আসছে মনে করে তারা প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। পরে দুর্বৃত্তদের প্রবেশের বিষয়টি টের পেয়ে তারা ওয়াশরুমে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানান।

ইলা আরও বলেন, ‘পরে আবার ফোন করা হলে তাদের আর পাওয়া যায়নি। ততক্ষণে দুর্বৃত্তরা তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছিল।’ মাস্ক পরা দুই ব্যক্তি স্টুডিওতে ঢুকে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

স্টুডিও থেকে একটি ক্যামেরা, তিনটি লেন্স, চারটি লাইট, চারটি সফটবক্স এবং সিসিটিভির সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট হয়েছে উল্লেখ করে ইলা বলেন, ‘আমাদের পুরো স্টুডিওই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরবর্তীতে পুনর্ব্যবহার বা চালু করার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের কোনো চাঁদার বিষয় কিংবা শত্রুতার কারণে এ হামলা হয়েছে কি না, আমরা তা জানি না। আমরা মূলত পরিস্থিতির শিকার। পুরো প্রজেক্ট বা এর মালিকের সঙ্গে কোনো ঝামেলার কারণে আমাদের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি।’

পিস্তল ও রামদা নিয়ে ১৫-২০ জনের তাণ্ডব, শ্রমিকদের জমানো টাকা ও ১৬ ফোন লুট

শনিবার রাতের এই ভয়াবহ তাণ্ডবের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ওই আবাসন প্রকল্পের সাধারণ নির্মাণশ্রমিকরা। শ্রমিক নয়ন জানান, আমরা এখানে কাজ করি, এখানেই থাকি। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও আমরা কাজ শেষ করে শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে ১৫-২০ জনের একটি দল আমাদের এখানে এসে কয়েকজনকে মারধর শুরু করে।

হামলাকারীদের নৃশংসতার কথা তুলে ধরে নয়ন আরও বলেন, ‘তাদের হাতে পিস্তল, রামদা, লাঠি, চাপাতি ছিল। তারা অনেকগুলো গুলিও করে। তখন আমরা ভয়ে লুকিয়ে ছিলাম।’

তিনি জানান, আমরা এখানে ৫০ জনের মতো ছিলাম। প্রত্যেকের কাছে টাকা ছিল। তারা রুমে এসে আমাদের সবাইকে বের করে দেয়। কয়েকজনকে মারধরও করে। পরে আমরা ভয়ে বের হয়ে গেলে রুমে আমাদের টাকা-পয়সা যা ছিল সব লুট করে নিয়ে যায়। আমরা ফিরে এলে রুমে ঢুকে আমাদের ব্যাগগুলোও ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় দেখতে পাই। আমাদের অন্তত ৫০ জন শ্রমিকের জমানো টাকা ও ১৬টি মোবাইল ফোন তারা নিয়ে গেছে।

চিকোজ দম্পতিকে মারধর ও হাসপাতালে ভর্তি, মূল পরিকল্পনাকারসহ গ্রেফতার চার

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয় এবং চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং একপর্যায়ে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা লোহার ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিউগিনি প্রকল্পের মূল ফটকটি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সংখ্যায় কয়েকশ ছিল। ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই পাশেই ছিল ১০ তলা একটি ভবন। সেখানেও হামলা চালানো হয়।

আবাসিক এলাকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলার শিকার ওই ১০ তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন এক চিকিৎসক দম্পতি। হামলাকারীরা ওই ফ্ল্যাটে হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করে সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই দম্পতি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

এদিকে, শনিবার রাতের এ হামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতাররা হলেন হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ার, ভাসানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত