আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়ে চলছে তীব্র লড়াই।
তবে ভোট গ্রহণের দিন শেষ হওয়ার পরের সময়টিকেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের জোরালো আশঙ্কা, যেসব অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা শেষ হতে কয়েকদিন বা তারও বেশি সময় লাগবে, সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার মিত্ররা ফলাফলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড় অঙ্গরাজ্যগুলোতে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় সেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাবেক ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা কেইটলিন ডারকোভিচ ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের এক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ভোটের ফল চূড়ান্ত হওয়ার এই অপেক্ষার সময়টিতেই জনমনে সন্দেহ তৈরি করার সুযোগ খোঁজে বিভিন্ন পক্ষ।
তার মতে, এবার ভোট শেষ হওয়ার পরপরই বিদেশি হস্তক্ষেপের অবাস্তব অভিযোগ সামনে আনা হতে পারে এবং এই অজুহাতে ভোটিং মেশিন বা ব্যালট জব্দের মতো অবৈধ অপচেষ্টাও চালানো হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া বদলানোর বিভিন্ন উদ্যোগ অতীতে আদালতে বাধাগ্রস্ত হলেও এবারের নির্বাচনকে ঘিরে তারা নতুন কোনো কৌশল আটতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ব্রেনান সেন্টারের নির্বাচনবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ল্যারি নর্ডেন জনগণের মাঝে সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তার মতে, ভোট গণনায় সামান্য দেরি হলেই সাধারণ মানুষের মনে অনিয়মের ভুয়া ধারণা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতি এড়াতে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন কর্মকর্তারা এখন থেকেই মানুষকে পুরো ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বোঝানোর চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আইনি লড়াই নিয়েও আলোচনা চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নানা বাধা ও আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াই পেরিয়ে অবশেষে নভেম্বরের এই নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রচলিত ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থাই বহাল রাখা হয়েছে।
অপরদিকে সাবেক ডেপুটি ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স বেথ স্যানার বিদেশি প্রভাব ও প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরে জানান, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সরাসরি ভোটের হিসাব পাল্টে দেওয়ার মতো কোনো বিদেশি হ্যাকিংয়ের ঘটনা অতীতে ঘটেনি। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর দেশের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের নির্বাচন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, ফেডারেল পর্যায় থেকে নির্বাচন নিরাপত্তায় আর্থিক সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা আগের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়ে চলছে তীব্র লড়াই।
তবে ভোট গ্রহণের দিন শেষ হওয়ার পরের সময়টিকেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের জোরালো আশঙ্কা, যেসব অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা শেষ হতে কয়েকদিন বা তারও বেশি সময় লাগবে, সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার মিত্ররা ফলাফলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড় অঙ্গরাজ্যগুলোতে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় সেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাবেক ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা কেইটলিন ডারকোভিচ ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের এক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ভোটের ফল চূড়ান্ত হওয়ার এই অপেক্ষার সময়টিতেই জনমনে সন্দেহ তৈরি করার সুযোগ খোঁজে বিভিন্ন পক্ষ।
তার মতে, এবার ভোট শেষ হওয়ার পরপরই বিদেশি হস্তক্ষেপের অবাস্তব অভিযোগ সামনে আনা হতে পারে এবং এই অজুহাতে ভোটিং মেশিন বা ব্যালট জব্দের মতো অবৈধ অপচেষ্টাও চালানো হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া বদলানোর বিভিন্ন উদ্যোগ অতীতে আদালতে বাধাগ্রস্ত হলেও এবারের নির্বাচনকে ঘিরে তারা নতুন কোনো কৌশল আটতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ব্রেনান সেন্টারের নির্বাচনবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ল্যারি নর্ডেন জনগণের মাঝে সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তার মতে, ভোট গণনায় সামান্য দেরি হলেই সাধারণ মানুষের মনে অনিয়মের ভুয়া ধারণা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতি এড়াতে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন কর্মকর্তারা এখন থেকেই মানুষকে পুরো ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বোঝানোর চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আইনি লড়াই নিয়েও আলোচনা চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নানা বাধা ও আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াই পেরিয়ে অবশেষে নভেম্বরের এই নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রচলিত ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থাই বহাল রাখা হয়েছে।
অপরদিকে সাবেক ডেপুটি ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স বেথ স্যানার বিদেশি প্রভাব ও প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরে জানান, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সরাসরি ভোটের হিসাব পাল্টে দেওয়ার মতো কোনো বিদেশি হ্যাকিংয়ের ঘটনা অতীতে ঘটেনি। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর দেশের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের নির্বাচন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, ফেডারেল পর্যায় থেকে নির্বাচন নিরাপত্তায় আর্থিক সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা আগের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন