জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তি ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ১,৪৭৯ জন মিয়ানমারের নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে পৌঁছানো এসব অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাগুলো।
মালয়েশিয়ার লুমুট নৌঘাঁটি থেকে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজে করে ফেরত পাঠানো এই প্রথম দফার অভিবাসীরা রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে ইয়াঙ্গুনে পৌঁছান। মিয়ানমারের আঞ্চলিক সরকারের মন্ত্রী নে লিন তুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫,০০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। বর্তমানে সে দেশের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আটককেন্দ্রে ১০,৩০০ জনেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিক বন্দি রয়েছেন।
মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা অভিযোগ করেছে, অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় ও বুঝে-শুনে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা যাচাই করার জন্য তাদের কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে দেয়নি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গত জুলাইয়ে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার কথা ঘোষণা করেন। মূলত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত চাপের অজুহাত দেখিয়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে শরণার্থীভিত্তিক বিদ্বেষ বৃদ্ধির পটভূমিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া জাতিসংঘের ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় তারা নিবন্ধিত শরণার্থীদেরও ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে গণ্য করে। তা সত্ত্বেও দেশটিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থায় নিবন্ধিত প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। ১,৫০০ জনের প্রথম ধাপে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
/

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তি ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ১,৪৭৯ জন মিয়ানমারের নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে পৌঁছানো এসব অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাগুলো।
মালয়েশিয়ার লুমুট নৌঘাঁটি থেকে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজে করে ফেরত পাঠানো এই প্রথম দফার অভিবাসীরা রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে ইয়াঙ্গুনে পৌঁছান। মিয়ানমারের আঞ্চলিক সরকারের মন্ত্রী নে লিন তুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫,০০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। বর্তমানে সে দেশের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আটককেন্দ্রে ১০,৩০০ জনেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিক বন্দি রয়েছেন।
মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা অভিযোগ করেছে, অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় ও বুঝে-শুনে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা যাচাই করার জন্য তাদের কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে দেয়নি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গত জুলাইয়ে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার কথা ঘোষণা করেন। মূলত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত চাপের অজুহাত দেখিয়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে শরণার্থীভিত্তিক বিদ্বেষ বৃদ্ধির পটভূমিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া জাতিসংঘের ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় তারা নিবন্ধিত শরণার্থীদেরও ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে গণ্য করে। তা সত্ত্বেও দেশটিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থায় নিবন্ধিত প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। ১,৫০০ জনের প্রথম ধাপে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
/

আপনার মতামত লিখুন