যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার এক সপ্তাহ পর অলৌকিকভাবে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন ক্রিস্টা পাইক নামের এক নারী আসামি। শরীরে উচ্চমাত্রার বিষাক্ত কেমিক্যাল ইনজেকশন হিসেবে পুশ করার পরও তিনি বেঁচে ফেরায় চরম তাজ্জব বনে গেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। বিবিসি বাংলার বরাতে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্রিস্টা পাইক এখন সচেতন এবং কথা বলতে পারছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে টেনেসির কারাগারে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা পেন্টোবার্বিটাল নামক মারাত্মক বিষাক্ত ওষুধের দুটি ডোজ তার শরীরে প্রযোগ করেন। কিন্তু অলৌকিক বিষয় হলো, কেমিক্যালের দুই ডোজ নেওয়ার পরও তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়নি। উল্টো শারীরিক যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন তিনি। ব্যর্থ এই চেষ্টার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং বেশ কিছুদিন ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।
আইনজীবীদের দাবি, সাজা কার্যকরের সময় অন্তত সাতবার চেষ্টা করে তার শরীরে আইভি লাইন বা সুঁচ ফুটানো হয়েছিল। ক্রিস্টার রক্তে থ্রম্বোসাইটোসিসের (রক্ত জমাট বাঁধার রোগ) সমস্যা থাকায় তার শিরাগুলো অত্যন্ত সরু হয়ে গিয়েছিল। ফলে বিষাক্ত ইনজেকশনটি সরাসরি রগে না গিয়ে ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিরা ফেটে যায়। এই মারাত্মক ভুলের কারণেই ওষুধটি রক্তে পূর্ণ মাত্রায় প্রবেশ করতে পারেনি এবং তিনি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে আসামির এভাবে বেঁচে ফেরার ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে বেশ কিছু কেসে ইনজেকশনের উপযুক্ত শিরা খুঁজে না পাওয়ায় সাজা স্থগিত করার ঘটনা ঘটলেও, শরীরে প্রাণঘাতী বিষ ঢালার পর কোনো আসামির বেঁচে ওঠার নজির নেই। অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, এটি সাজা কার্যকরের একটি নজিরবিহীন ও বিপর্যয়কর ব্যর্থতা।
এই নজিরবিহীন ও বিতর্কিত ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি অঙ্গরাজ্যটিতে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন এবং ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চরম গাফিলতির দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের প্রধান। অন্যদিকে, আসামির আইনজীবীরা এই মর্মান্তিক শারীরিক নির্যাতনের ওপর ভিত্তি করে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমানোর জন্য আদালতে নতুন করে আবেদন করেছেন।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার এক সপ্তাহ পর অলৌকিকভাবে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন ক্রিস্টা পাইক নামের এক নারী আসামি। শরীরে উচ্চমাত্রার বিষাক্ত কেমিক্যাল ইনজেকশন হিসেবে পুশ করার পরও তিনি বেঁচে ফেরায় চরম তাজ্জব বনে গেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। বিবিসি বাংলার বরাতে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্রিস্টা পাইক এখন সচেতন এবং কথা বলতে পারছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে টেনেসির কারাগারে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা পেন্টোবার্বিটাল নামক মারাত্মক বিষাক্ত ওষুধের দুটি ডোজ তার শরীরে প্রযোগ করেন। কিন্তু অলৌকিক বিষয় হলো, কেমিক্যালের দুই ডোজ নেওয়ার পরও তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়নি। উল্টো শারীরিক যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন তিনি। ব্যর্থ এই চেষ্টার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং বেশ কিছুদিন ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।
আইনজীবীদের দাবি, সাজা কার্যকরের সময় অন্তত সাতবার চেষ্টা করে তার শরীরে আইভি লাইন বা সুঁচ ফুটানো হয়েছিল। ক্রিস্টার রক্তে থ্রম্বোসাইটোসিসের (রক্ত জমাট বাঁধার রোগ) সমস্যা থাকায় তার শিরাগুলো অত্যন্ত সরু হয়ে গিয়েছিল। ফলে বিষাক্ত ইনজেকশনটি সরাসরি রগে না গিয়ে ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিরা ফেটে যায়। এই মারাত্মক ভুলের কারণেই ওষুধটি রক্তে পূর্ণ মাত্রায় প্রবেশ করতে পারেনি এবং তিনি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে আসামির এভাবে বেঁচে ফেরার ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে বেশ কিছু কেসে ইনজেকশনের উপযুক্ত শিরা খুঁজে না পাওয়ায় সাজা স্থগিত করার ঘটনা ঘটলেও, শরীরে প্রাণঘাতী বিষ ঢালার পর কোনো আসামির বেঁচে ওঠার নজির নেই। অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, এটি সাজা কার্যকরের একটি নজিরবিহীন ও বিপর্যয়কর ব্যর্থতা।
এই নজিরবিহীন ও বিতর্কিত ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি অঙ্গরাজ্যটিতে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন এবং ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চরম গাফিলতির দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের প্রধান। অন্যদিকে, আসামির আইনজীবীরা এই মর্মান্তিক শারীরিক নির্যাতনের ওপর ভিত্তি করে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমানোর জন্য আদালতে নতুন করে আবেদন করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন