সংবাদ

বাছাই

সোহেল মাহমুদের ১০টি সনেট


প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

সোহেল মাহমুদের ১০টি সনেট
সোহেল মাহমুদ

সোহেল মাহমুদের ১০টি সনেট

ঠিকানা

নিজের বসতভিটা নিকট-আত্মীয়

যেখানে যাই না কেন— চুম্বকের মতো

আম্মার অবচেতন অষ্টম ইন্দ্রিয়

স্মৃতির স্মারক আজও আদরের ক্ষত


সীমাহীন সুদূরের ঐশ্বর্য বিপুল

অনঙ্গ ডানায় চড়ে ঘুরেছি অনেক

কোমল ঠিকানা এক মায়ের আঙুল

এই নামে লেখা চিঠি হাজার খানেক


অতৃপ্তির পিপাসায় কাতর হৃদয়

চোখের আতস ভরা গাঁয়ের মানুষ

ফেলে আসা পথঘাট— উলঙ্গ সময়

সব আজ  প্রত্নতত্ত্ব, অনন্ত আফসোস


এক জন্মে পুঞ্জিভূত আজন্মের ঋণ

নিজের ঠিকানা ভোলা ভীষণ কঠিন

০৪/০৭/২০২৪


সত্যায়িত চাঁদ, নিষিদ্ধ জ্যোৎস্না

তোমাদের ঠোঁটে সাংবিধানিক চুমু,

আমাদের ঠোঁটে প্রতিবিম্বিত পাপ।

তোমাদের কথা বৃষ্টির জলে ধোয়া,

আমাদের গানে অচ্ছুত অভিশাপ।


তোমাদের পায়ে চাঁদ তারা লুটোপুটি,

আমাদের হাতে অসহায় উৎপল।

তোমাদের গ্রামে অভিজাত ইবলিশ,

আমাদের গ্রামে দণ্ডিত শতদল।


তোমাদের গায়ে আমদানি করা হিম,

আমাদের গায়ে খিটখিটে রোদ্দুর।

তোমাদের ঘরে স্বীকৃত নিরালোক,

আমাদের ঘরে কালসিটে কাকভোর।


তোমাদের চোখে রং করা আসমান,

আমাদের চোখে মৃত্তিকা ম্রিয়মাণ।

১৭/০৯/২০২৬



একদিন চলে যাব 

একদিন, আসি বলে— ঠিক চলে যাব,

জ্যামিতিক ঝামেলায় ফিরবো না আর।

চাষ করা দাবদাহ শরীরে মাখাবো,

উদ্বেগ রেখে যাব— ঊনকবিতার।


একদিন হয়ে যাব— নিখোঁজ খবর,

স্বস্তির বাণী হব— বৈরী হাওয়ার।

অলক্ষ্যে পাড়ি দিয়ে শোকের শহর,

বুঝে নেব ওপারের শেষ উপহার।


একদিন গান হব— বুনো বিকেলের,

সাঁঝের পালক হবে কাশ্মীরি শাল।

বিরল খাতির নিয়ে নরপশুদের,

শূন্য ডানায় দেব আকাশে উড়াল।


একদিন চলে যাব, যাব একদিন;

একদিন মেঘ হব বৃষ্টিবিহীন।

১৭/০৯/২০২৬ 



নিজের সাথে সম্পর্ক নেই

নিজের সাথে সম্পর্ক নেই— ৫০ বছর প্রায়,

অসম্পর্কে, অসঙ্গমে, কার উত্তরাধিকার—

যীশুর অদৃশ্য ফসিলের মতো নিঃসঙ্গ জঙ্ঘায়,

আবার মরার সুখে— মুখরিত কোটি অবতার!


আবার আকাশে কালো মেঘ, সেই পুরনো বজ্রপাত;

আবার মাটির ক্রোধে— জ্বলেপুড়ে শেষ হবে মাটি।

অনাগত পিলাতের অবশিষ্ট ক্রুশের আঘাত,

কোমল পৃথিবী হবে আধুনিক দুর্বৃত্তের ঘাঁটি!


অহম খেয়েছি পিষে— অস্থাবর সম্ভ্রমের মতো,

কাদা জলে মাখামাখি— ফেলে আসা নষ্ট ইতিহাস!

ফোরাতের জলে আঁকা, টগবগে নক্ষত্রের ক্ষত,

জমাট বরফ আজও ভূগোলের বুকের বাতাস!


আলো আর আঁধারের সনাতন সাপের খেলায়,

নর্তক সর্পেরা, বিষ দাঁত এর অধিকার চায়!

০৬/০৫/২০২৬



মাটির জুলেখা

বুকের চৌহদ্দিজুড়ে মোলায়েম হীরের গম্বুজ

হুরের চোখের মতো জহরতে টইটুম্বর বিল

তিতাস মেয়ের ঠোঁটে, জোনাকির নরম পিলসুজ

কুমারী আকাশ ভরা, ভাসমান পিপাসার্ত চিল


জলের কামিজে আঁকা, বাঘাইর শোলের সহবাস

কপালের টিপে লাল— ষোড়শীর সূর্য, কাঁচা রোদ।

কী করে বুঝাই, এই বুক ভরা যুবতী নিঃশ্বাস,

উদোম চুলের ঘ্রাণ, কবিতাও কবির ওষুধ।


চুমুর চিতায় পুড়ে, ছাই হতে আজও অভিলাষ,

অধরের স্বাদ নিয়ে মরে যেতে কোনো দ্বিধা নেই।

বুকের কফিনে হবো অনন্তের অপরূপ লাশ,

প্রগাঢ় প্রণয় দেবো, ধ্রুপদী দয়িতা তোমাকেই।


অলিখিত প্রেম তবু অযতনে করি নাই ছোট,

মাটির জুলেখা তুমি সোনার প্রতিমা হয়ে ওঠো।

১৪/০৭/২০২৪ 


বিয়োগ ফুলের গন্ধ

পিরামিড নয়, ওটা হীরের চিবুক;

ওখানেই শুয়ে আছে চন্দনার তিল।

বিংশ শতাব্দীর সবচে’ আচানক সুখ,

রূপের গরিমা নিয়ে মৃতবৎ চিল।


না, ওটা ঠোঁট না, রিক্ত চুম্বনের মমি;

কিংবা সঙ্গমের ঘাম, অবাধ্য সময়।

বেদখল হৃদয়ের এক খণ্ড জমি,

অনাগুনে জ্বলেপুড়ে ভস্মীভূত ট্রয়।


ওটা চোখ না, বিচ্ছেদে আহত তিতাস;

পোড়া মাটির রৌরবে— উগরে দেয়া জল।

অশরীরী হাতে লেখা শূন্য অনুপ্রাস,

চন্দনার বেচে দেয়া চুঁচির মহল।


বাংলাদেশ নয়, এটা স্বাধীন কবর;

যোগ নয়, বিয়োগের আবাসিক ঘর।

১১/০৯/২০২৬


আমার তিতাস 

বোয়ালিয়া বিল পোড়া স্মৃতির স্মারক,

কালি বাউশের ঘরে গর্ধবের ঘাস!

সিমেন্টের সরোবরে বেদুইন বক,

মরুর জাহাজ হলো তৃষ্ণার্ত তিতাস!


সময়ের শবাধারে ঐতিহ্যের লাশ,

প্রযুক্তির পিরামিডে কাদার গুতুম।

পৌরাণিক ভবঘুরে বুনো বালিহাঁস,

অবজ্ঞার প্রত্নতত্ত্ব জেলের ভুতুম!


এখন উদ্বাস্তু শোল, কাকিলা, মৃগেল;

বাঘাইর ও বৌরানী— কালের প্রলাপ!

নিসর্গের নিপাতনে ঈশ্বর উদ্বেল,

ভূগোলের বুক ভরা নান্দনিক পাপ!


জল আর জানোয়ারে জবর সংঘাত,

আমার তিতাস মরে— বিলুপ্ত ফোরাত!

২৭/০৩/২০২৬ 


কালের গলুই 

মাথার মুকুট সবিনয়ে তুলে রেখে

গ্রহণ করেছি অবহেলা পরাজয়

পায়ের আঙুল জুতোদের কাছে শেখে

ধুলোবালি ভেঙে কতদূর যেতে হয়


সভ্যতার চোখে আজও অহল্যা মসনদ

মনুষ্যত্ব গিলে খায় মানুষের পাপ

করোটিতে সমাসীন প্রবীণ অসৎ

ঈশ্বরের উচ্চতার করে পরিমাপ


মাতাল পৃথিবী ঘুরে— পৃথিবীর খোঁজে

মৃত্তিকার অন্বেষণে দ্বিধাগ্রস্ত মাঠ

জলের প্রাণিরা আজ অতিশয় বোঝে

আকাশের গভীরতা নীলিমার পাঠ


পাল্টে গেছে পাটাতন কালের গলুই

নবাগত নর্দমার জলে মুখ ধুই 

২০/০৪/২০২৬


আশার কবরে হতাশার মাটি

আশার কবরে হতাশার মাটি ছুঁড়ে

আবার রোপণ করছি নতুন দূরাশা! 

অবহেলা অবজ্ঞার পথে ঘুরে ঘুরে,

এখনও বুঝিনি ঠিক অনন্তের ভাষা!


কফিনে লালিত প্রেমে, মুমূর্ষু হৃদয়,

কলকাঠি বুঝি না আজও বৃদ্ধ বিধাতার!

বিশ্বাসে বসত করে সীমাহীন ভয়,

চারিদিকে অভিশাপ লাখো ফেরেশতার!


অনির্বাণ অমানিশা পুঞ্জীভূত বুকে,

চোখের চৌহদ্দি জুড়ে খোয়াবের লাশ!

এক ফোঁটা কাঁদি নাই স্বীয় মৃত্যু শোকে,

জমা করা অভিযোগ ব্যর্থ পরিহাস!


রাতের হিজাবে ঢাকা অনাগত দিন,

বিধির বিধান আজও অনুবাদহীন।

১৯/০৭/২০২৪


মাটির দহন

চাষীর প্রসূতি চোখ লাঙলের ফালে

সোনার ফসল তার আজও মূল্যহীন

স্বীকৃতি মিলেনি কোন অশুভ জঞ্জালে

মৃত্তিকায় অভিমান ধূসর মলিন


শস্যের কাতরতায় উদাস সময়

অবহেলা পান করে কৃষকের ঠোঁট

আলোকের চাষাবাদে আঙুলের ক্ষয়

আজও তার অভিলাষ হয়ে যায় লুট


ইহলোকে নিরাময় দেখে যাবে চাষী

রোদে পোড়া প্রতীতিরা কাচির অক্ষর

শিকল ভাঙার গানে অবরোধবাসী

উপেক্ষায় উপভোগ করে মরুঝড়।


ঊষর মাটির বুকে লাঙলের ইশ

নোনা ঘামে কিনে রোজ প্রহসন বিষ।

২৫/০১/২০২৪



কবি পরিচিতি:

সোহেল মাহমুদ ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিতাস বিধৌত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম পীর মোহাম্মদ ভূঁইয়া এবং মাতা মরহুমা মনোয়ারা বেগম।

বাংলা সাহিত্যের ছান্দসিক গঠন ও আধুনিক ভাবধারার সমন্বয়ে রচিত তাঁর লেখনী পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে। কাব্যচর্চার পাশাপাশি সাহিত্য সমালোচনা ও বিশ্লেষণেও তিনি সক্রিয়।

প্রকাশিত গ্রন্থ

নক্ষত্রের রুপালি সৈকতে (কাব্যগ্রন্থ)

অনন্ত অন্তর বিবরে (কাব্যগ্রন্থ)

চরিত্রের গেলাস (কাব্যগ্রন্থ)

কাজী জহিরুল ইসলামের ৩০ কবিতা ও বিশ্লেষণ (কাব্য বিশ্লেষণ)

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


সোহেল মাহমুদের ১০টি সনেট

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সোহেল মাহমুদের ১০টি সনেট

ঠিকানা


নিজের বসতভিটা নিকট-আত্মীয়

যেখানে যাই না কেন— চুম্বকের মতো

আম্মার অবচেতন অষ্টম ইন্দ্রিয়

স্মৃতির স্মারক আজও আদরের ক্ষত


সীমাহীন সুদূরের ঐশ্বর্য বিপুল

অনঙ্গ ডানায় চড়ে ঘুরেছি অনেক

কোমল ঠিকানা এক মায়ের আঙুল

এই নামে লেখা চিঠি হাজার খানেক


অতৃপ্তির পিপাসায় কাতর হৃদয়

চোখের আতস ভরা গাঁয়ের মানুষ

ফেলে আসা পথঘাট— উলঙ্গ সময়

সব আজ  প্রত্নতত্ত্ব, অনন্ত আফসোস


এক জন্মে পুঞ্জিভূত আজন্মের ঋণ

নিজের ঠিকানা ভোলা ভীষণ কঠিন


০৪/০৭/২০২৪


সত্যায়িত চাঁদ, নিষিদ্ধ জ্যোৎস্না


তোমাদের ঠোঁটে সাংবিধানিক চুমু,

আমাদের ঠোঁটে প্রতিবিম্বিত পাপ।

তোমাদের কথা বৃষ্টির জলে ধোয়া,

আমাদের গানে অচ্ছুত অভিশাপ।


তোমাদের পায়ে চাঁদ তারা লুটোপুটি,

আমাদের হাতে অসহায় উৎপল।

তোমাদের গ্রামে অভিজাত ইবলিশ,

আমাদের গ্রামে দণ্ডিত শতদল।


তোমাদের গায়ে আমদানি করা হিম,

আমাদের গায়ে খিটখিটে রোদ্দুর।

তোমাদের ঘরে স্বীকৃত নিরালোক,

আমাদের ঘরে কালসিটে কাকভোর।


তোমাদের চোখে রং করা আসমান,

আমাদের চোখে মৃত্তিকা ম্রিয়মাণ।


১৭/০৯/২০২৬



একদিন চলে যাব 


একদিন, আসি বলে— ঠিক চলে যাব,

জ্যামিতিক ঝামেলায় ফিরবো না আর।

চাষ করা দাবদাহ শরীরে মাখাবো,

উদ্বেগ রেখে যাব— ঊনকবিতার।


একদিন হয়ে যাব— নিখোঁজ খবর,

স্বস্তির বাণী হব— বৈরী হাওয়ার।

অলক্ষ্যে পাড়ি দিয়ে শোকের শহর,

বুঝে নেব ওপারের শেষ উপহার।


একদিন গান হব— বুনো বিকেলের,

সাঁঝের পালক হবে কাশ্মীরি শাল।

বিরল খাতির নিয়ে নরপশুদের,

শূন্য ডানায় দেব আকাশে উড়াল।


একদিন চলে যাব, যাব একদিন;

একদিন মেঘ হব বৃষ্টিবিহীন।


১৭/০৯/২০২৬ 



নিজের সাথে সম্পর্ক নেই


নিজের সাথে সম্পর্ক নেই— ৫০ বছর প্রায়,

অসম্পর্কে, অসঙ্গমে, কার উত্তরাধিকার—

যীশুর অদৃশ্য ফসিলের মতো নিঃসঙ্গ জঙ্ঘায়,

আবার মরার সুখে— মুখরিত কোটি অবতার!


আবার আকাশে কালো মেঘ, সেই পুরনো বজ্রপাত;

আবার মাটির ক্রোধে— জ্বলেপুড়ে শেষ হবে মাটি।

অনাগত পিলাতের অবশিষ্ট ক্রুশের আঘাত,

কোমল পৃথিবী হবে আধুনিক দুর্বৃত্তের ঘাঁটি!


অহম খেয়েছি পিষে— অস্থাবর সম্ভ্রমের মতো,

কাদা জলে মাখামাখি— ফেলে আসা নষ্ট ইতিহাস!

ফোরাতের জলে আঁকা, টগবগে নক্ষত্রের ক্ষত,

জমাট বরফ আজও ভূগোলের বুকের বাতাস!


আলো আর আঁধারের সনাতন সাপের খেলায়,

নর্তক সর্পেরা, বিষ দাঁত এর অধিকার চায়!


০৬/০৫/২০২৬



মাটির জুলেখা


বুকের চৌহদ্দিজুড়ে মোলায়েম হীরের গম্বুজ

হুরের চোখের মতো জহরতে টইটুম্বর বিল

তিতাস মেয়ের ঠোঁটে, জোনাকির নরম পিলসুজ

কুমারী আকাশ ভরা, ভাসমান পিপাসার্ত চিল


জলের কামিজে আঁকা, বাঘাইর শোলের সহবাস

কপালের টিপে লাল— ষোড়শীর সূর্য, কাঁচা রোদ।

কী করে বুঝাই, এই বুক ভরা যুবতী নিঃশ্বাস,

উদোম চুলের ঘ্রাণ, কবিতাও কবির ওষুধ।


চুমুর চিতায় পুড়ে, ছাই হতে আজও অভিলাষ,

অধরের স্বাদ নিয়ে মরে যেতে কোনো দ্বিধা নেই।

বুকের কফিনে হবো অনন্তের অপরূপ লাশ,

প্রগাঢ় প্রণয় দেবো, ধ্রুপদী দয়িতা তোমাকেই।


অলিখিত প্রেম তবু অযতনে করি নাই ছোট,

মাটির জুলেখা তুমি সোনার প্রতিমা হয়ে ওঠো।


১৪/০৭/২০২৪ 


বিয়োগ ফুলের গন্ধ


পিরামিড নয়, ওটা হীরের চিবুক;

ওখানেই শুয়ে আছে চন্দনার তিল।

বিংশ শতাব্দীর সবচে’ আচানক সুখ,

রূপের গরিমা নিয়ে মৃতবৎ চিল।


না, ওটা ঠোঁট না, রিক্ত চুম্বনের মমি;

কিংবা সঙ্গমের ঘাম, অবাধ্য সময়।

বেদখল হৃদয়ের এক খণ্ড জমি,

অনাগুনে জ্বলেপুড়ে ভস্মীভূত ট্রয়।


ওটা চোখ না, বিচ্ছেদে আহত তিতাস;

পোড়া মাটির রৌরবে— উগরে দেয়া জল।

অশরীরী হাতে লেখা শূন্য অনুপ্রাস,

চন্দনার বেচে দেয়া চুঁচির মহল।


বাংলাদেশ নয়, এটা স্বাধীন কবর;

যোগ নয়, বিয়োগের আবাসিক ঘর।


১১/০৯/২০২৬


আমার তিতাস 


বোয়ালিয়া বিল পোড়া স্মৃতির স্মারক,

কালি বাউশের ঘরে গর্ধবের ঘাস!

সিমেন্টের সরোবরে বেদুইন বক,

মরুর জাহাজ হলো তৃষ্ণার্ত তিতাস!


সময়ের শবাধারে ঐতিহ্যের লাশ,

প্রযুক্তির পিরামিডে কাদার গুতুম।

পৌরাণিক ভবঘুরে বুনো বালিহাঁস,

অবজ্ঞার প্রত্নতত্ত্ব জেলের ভুতুম!


এখন উদ্বাস্তু শোল, কাকিলা, মৃগেল;

বাঘাইর ও বৌরানী— কালের প্রলাপ!

নিসর্গের নিপাতনে ঈশ্বর উদ্বেল,

ভূগোলের বুক ভরা নান্দনিক পাপ!


জল আর জানোয়ারে জবর সংঘাত,

আমার তিতাস মরে— বিলুপ্ত ফোরাত!


২৭/০৩/২০২৬ 


কালের গলুই 


মাথার মুকুট সবিনয়ে তুলে রেখে

গ্রহণ করেছি অবহেলা পরাজয়

পায়ের আঙুল জুতোদের কাছে শেখে

ধুলোবালি ভেঙে কতদূর যেতে হয়


সভ্যতার চোখে আজও অহল্যা মসনদ

মনুষ্যত্ব গিলে খায় মানুষের পাপ

করোটিতে সমাসীন প্রবীণ অসৎ

ঈশ্বরের উচ্চতার করে পরিমাপ


মাতাল পৃথিবী ঘুরে— পৃথিবীর খোঁজে

মৃত্তিকার অন্বেষণে দ্বিধাগ্রস্ত মাঠ

জলের প্রাণিরা আজ অতিশয় বোঝে

আকাশের গভীরতা নীলিমার পাঠ


পাল্টে গেছে পাটাতন কালের গলুই

নবাগত নর্দমার জলে মুখ ধুই 


২০/০৪/২০২৬


আশার কবরে হতাশার মাটি


আশার কবরে হতাশার মাটি ছুঁড়ে

আবার রোপণ করছি নতুন দূরাশা! 

অবহেলা অবজ্ঞার পথে ঘুরে ঘুরে,

এখনও বুঝিনি ঠিক অনন্তের ভাষা!


কফিনে লালিত প্রেমে, মুমূর্ষু হৃদয়,

কলকাঠি বুঝি না আজও বৃদ্ধ বিধাতার!

বিশ্বাসে বসত করে সীমাহীন ভয়,

চারিদিকে অভিশাপ লাখো ফেরেশতার!


অনির্বাণ অমানিশা পুঞ্জীভূত বুকে,

চোখের চৌহদ্দি জুড়ে খোয়াবের লাশ!

এক ফোঁটা কাঁদি নাই স্বীয় মৃত্যু শোকে,

জমা করা অভিযোগ ব্যর্থ পরিহাস!


রাতের হিজাবে ঢাকা অনাগত দিন,

বিধির বিধান আজও অনুবাদহীন।


১৯/০৭/২০২৪


মাটির দহন


চাষীর প্রসূতি চোখ লাঙলের ফালে

সোনার ফসল তার আজও মূল্যহীন

স্বীকৃতি মিলেনি কোন অশুভ জঞ্জালে

মৃত্তিকায় অভিমান ধূসর মলিন


শস্যের কাতরতায় উদাস সময়

অবহেলা পান করে কৃষকের ঠোঁট

আলোকের চাষাবাদে আঙুলের ক্ষয়

আজও তার অভিলাষ হয়ে যায় লুট


ইহলোকে নিরাময় দেখে যাবে চাষী

রোদে পোড়া প্রতীতিরা কাচির অক্ষর

শিকল ভাঙার গানে অবরোধবাসী

উপেক্ষায় উপভোগ করে মরুঝড়।


ঊষর মাটির বুকে লাঙলের ইশ

নোনা ঘামে কিনে রোজ প্রহসন বিষ।


২৫/০১/২০২৪



কবি পরিচিতি:

সোহেল মাহমুদ ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিতাস বিধৌত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম পীর মোহাম্মদ ভূঁইয়া এবং মাতা মরহুমা মনোয়ারা বেগম।

বাংলা সাহিত্যের ছান্দসিক গঠন ও আধুনিক ভাবধারার সমন্বয়ে রচিত তাঁর লেখনী পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে। কাব্যচর্চার পাশাপাশি সাহিত্য সমালোচনা ও বিশ্লেষণেও তিনি সক্রিয়।

প্রকাশিত গ্রন্থ

নক্ষত্রের রুপালি সৈকতে (কাব্যগ্রন্থ)

অনন্ত অন্তর বিবরে (কাব্যগ্রন্থ)

চরিত্রের গেলাস (কাব্যগ্রন্থ)

কাজী জহিরুল ইসলামের ৩০ কবিতা ও বিশ্লেষণ (কাব্য বিশ্লেষণ)



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত