সংবাদ

বাংলাদেশ-তুরস্ক বাণিজ্য সখ্যতায় নতুন মোড়

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল যাচ্ছে আঙ্কারায়


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ এএম

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল যাচ্ছে আঙ্কারায়

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এই সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. সাইফুল ইসলাম (অব.) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকের প্রধান অর্জন হিসেবে উঠে এসেছে বিজিএমইএ'র একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের আঙ্কারা সফরের সিদ্ধান্ত, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
​বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিনিয়োগ ও শুল্ক জটিলতা নিরসন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের ম্যান-মেড ফাইবার এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইল খাতে যৌথ বিনিয়োগের জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পণ্য বহুমুখীকরণে তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার। তুরস্কের শক্তিশালী রিফাইনিং সক্ষমতা আমাদের পোশাক শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী কাঁচামাল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
জবাবে রাষ্ট্রদূত রামিস সেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে তুরস্ক সফরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আশ্বাস প্রদান করেন, বিজিএমইএ’র অনুরোধের প্রেক্ষিতে পোশাক খাতের মার্চেন্ডাইজারদের জন্য তুরস্কের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজীকরণে দূতাবাস পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।
​বাণিজ্যিক বাধা দূর করার প্রসঙ্গে বৈঠকে ২০১১ সাল থেকে কার্যকর থাকা ‘সেইফগার্ড ডিউটি’ প্রত্যাহার এবং একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিজিএমইএ সভাপতি তুরস্ক থেকে আমদানি তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রাপ্তির কারিগরি বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং তুরস্কের অর্গানিক কটন ও আধুনিক টেক্সটাইল মেশিনারিজ আমদানিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া লজিস্টিক সুবিধার ক্ষেত্রে তুর্কি এয়ারলাইন্স এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের উন্নত কানেক্টিভিটি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়। মাহমুদ হাসান খান বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়েও তুরস্কের সদয় সহযোগিতা কামনা করেন।
​বৈঠকে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ফয়সাল সামাদ ও মোহাম্মদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলরও এই আলোচনায় অংশ নেন।
উভয় পক্ষই এই মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তুরস্কের সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল যাচ্ছে আঙ্কারায়

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এই সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. সাইফুল ইসলাম (অব.) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকের প্রধান অর্জন হিসেবে উঠে এসেছে বিজিএমইএ'র একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের আঙ্কারা সফরের সিদ্ধান্ত, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
​বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিনিয়োগ ও শুল্ক জটিলতা নিরসন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের ম্যান-মেড ফাইবার এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইল খাতে যৌথ বিনিয়োগের জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পণ্য বহুমুখীকরণে তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার। তুরস্কের শক্তিশালী রিফাইনিং সক্ষমতা আমাদের পোশাক শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী কাঁচামাল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
জবাবে রাষ্ট্রদূত রামিস সেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে তুরস্ক সফরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আশ্বাস প্রদান করেন, বিজিএমইএ’র অনুরোধের প্রেক্ষিতে পোশাক খাতের মার্চেন্ডাইজারদের জন্য তুরস্কের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজীকরণে দূতাবাস পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।
​বাণিজ্যিক বাধা দূর করার প্রসঙ্গে বৈঠকে ২০১১ সাল থেকে কার্যকর থাকা ‘সেইফগার্ড ডিউটি’ প্রত্যাহার এবং একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিজিএমইএ সভাপতি তুরস্ক থেকে আমদানি তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রাপ্তির কারিগরি বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং তুরস্কের অর্গানিক কটন ও আধুনিক টেক্সটাইল মেশিনারিজ আমদানিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া লজিস্টিক সুবিধার ক্ষেত্রে তুর্কি এয়ারলাইন্স এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের উন্নত কানেক্টিভিটি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়। মাহমুদ হাসান খান বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়েও তুরস্কের সদয় সহযোগিতা কামনা করেন।
​বৈঠকে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ফয়সাল সামাদ ও মোহাম্মদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলরও এই আলোচনায় অংশ নেন।
উভয় পক্ষই এই মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তুরস্কের সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত