সংবাদ

‘মোদিবিরোধী পোস্টের কারণেই গুম’

ট্রাইব্যুনালে জেরায় গুম-নির্যাতনের দায়ে শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন সাক্ষী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫২ এএম

ট্রাইব্যুনালে জেরায় গুম-নির্যাতনের দায়ে শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন সাক্ষী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করার জেরে গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দিয়েছেন মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী নামে এক সাক্ষী।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে চলা এই মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার এসব সাক্ষ্য দেন মাসরুর। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। ২০২০ সালে গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেছেন তিনি। ১৯ এপ্রিল মাসরুর আনোয়ারের জবানবন্দি গ্রহণের পর ২০ এপ্রিল থেকে তার জেরা শুরু হয়, যা বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো শেষ হয়।

জেরায় মাসরুরে দাবি তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোদিবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণেই তাকে তুলে নেওয়া হয়। আটক অবস্থায় তাকে সেই পোস্ট দেখানো হলেও তা ডিলিট করতে বলা হয়নি। তবে তার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নিয়ে নেওয়া হয়, যা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

জেরায় আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন এবং আবুল হাসান দাবি করেন, জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণেই তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে সাক্ষী তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “মোদিবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণেই আমাকে আটক করা হয়। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”

আইনজীবী তাবারক হোসেন দাবি করেন, সাক্ষী কৌশল খাটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে টিএফআই সেল পরিদর্শনে গিয়ে পুরো বিষয়টি সাজিয়েছেন। সাক্ষী মাসুরুর এই দাবিকেও সম্পূর্ণ অসত্য বলে নাকচ করে দেন।

চ্যারিটির (সেবামূলক কার্যক্রম) আড়ালে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগের জবাবে সাক্ষী জানান, তিনি বন্ধু ও আত্মীয়দের অর্থায়নে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করেছেন, যার সাথে কোনো জঙ্গি কার্যক্রমের সম্পর্ক নেই।

‘আপনি মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের ‘মুক্তি পরিষদ’ নামে সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় একজন লোক। অথচ জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল’ আইনজীবী তাবারক হোসেন এমন প্রশ্নে ‘ইহা সত্য নয়’ বলে দাবি করেন।  এ অভিযোগের জবাবে মাসরুর বলেন, ‘মুক্তি পরিষদের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে জিয়াউল হককে বরখাস্তের খবরটিও তিনি জানেন না বলে দাবি করেন । 

এদিন গুম-নির্যাতনের দায়ে মানবতাবিরোধী এ মামলার আসামি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন জেরা করেন। আইনজীবী দাবি করেন, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনা দায়ী নন, বরং সাক্ষী নিজেই নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্য দায়ী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সাক্ষী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন। জবাবে সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার তার ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘গুম-নির্যাতন ও আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য শেখ হাসিনাই দায়ী। আমি ট্রাইব্যুনালে অসত্য কোনো সাক্ষ্য দেইনি।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোট আসামি ১৭ জন। এদের মধ্যে ১০ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। বুধবার ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে তাদের হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কামরুল হাসান, মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, আবদুল্লাহ আল মোমেন, আনোয়ার লতিফ খান, মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

শেখ হাসিনা ছাড়াও পলাতক রয়েছেন: সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খাইরুল ইসলাম।

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন নম্বর সাক্ষীর জেরা বুধবার শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ মে দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


ট্রাইব্যুনালে জেরায় গুম-নির্যাতনের দায়ে শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন সাক্ষী

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করার জেরে গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দিয়েছেন মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী নামে এক সাক্ষী।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে চলা এই মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার এসব সাক্ষ্য দেন মাসরুর। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। ২০২০ সালে গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেছেন তিনি। ১৯ এপ্রিল মাসরুর আনোয়ারের জবানবন্দি গ্রহণের পর ২০ এপ্রিল থেকে তার জেরা শুরু হয়, যা বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো শেষ হয়।

জেরায় মাসরুরে দাবি তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোদিবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণেই তাকে তুলে নেওয়া হয়। আটক অবস্থায় তাকে সেই পোস্ট দেখানো হলেও তা ডিলিট করতে বলা হয়নি। তবে তার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নিয়ে নেওয়া হয়, যা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

জেরায় আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন এবং আবুল হাসান দাবি করেন, জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণেই তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে সাক্ষী তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “মোদিবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণেই আমাকে আটক করা হয়। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”

আইনজীবী তাবারক হোসেন দাবি করেন, সাক্ষী কৌশল খাটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে টিএফআই সেল পরিদর্শনে গিয়ে পুরো বিষয়টি সাজিয়েছেন। সাক্ষী মাসুরুর এই দাবিকেও সম্পূর্ণ অসত্য বলে নাকচ করে দেন।

চ্যারিটির (সেবামূলক কার্যক্রম) আড়ালে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগের জবাবে সাক্ষী জানান, তিনি বন্ধু ও আত্মীয়দের অর্থায়নে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করেছেন, যার সাথে কোনো জঙ্গি কার্যক্রমের সম্পর্ক নেই।

‘আপনি মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের ‘মুক্তি পরিষদ’ নামে সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় একজন লোক। অথচ জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল’ আইনজীবী তাবারক হোসেন এমন প্রশ্নে ‘ইহা সত্য নয়’ বলে দাবি করেন।  এ অভিযোগের জবাবে মাসরুর বলেন, ‘মুক্তি পরিষদের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে জিয়াউল হককে বরখাস্তের খবরটিও তিনি জানেন না বলে দাবি করেন । 

এদিন গুম-নির্যাতনের দায়ে মানবতাবিরোধী এ মামলার আসামি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন জেরা করেন। আইনজীবী দাবি করেন, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনা দায়ী নন, বরং সাক্ষী নিজেই নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্য দায়ী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সাক্ষী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন। জবাবে সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার তার ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘গুম-নির্যাতন ও আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য শেখ হাসিনাই দায়ী। আমি ট্রাইব্যুনালে অসত্য কোনো সাক্ষ্য দেইনি।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোট আসামি ১৭ জন। এদের মধ্যে ১০ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। বুধবার ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে তাদের হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কামরুল হাসান, মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, আবদুল্লাহ আল মোমেন, আনোয়ার লতিফ খান, মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

শেখ হাসিনা ছাড়াও পলাতক রয়েছেন: সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খাইরুল ইসলাম।

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন নম্বর সাক্ষীর জেরা বুধবার শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ মে দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত